ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমান্তে ‘পুশইন’ এর প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা দলের মানববন্ধন টিন কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত যুবক আটক ডাচদের হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা না.গঞ্জে মাদককারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলি, ৫ পুলিশ আহত গণমাধ্যম খাতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার তিন মাস পরপর বাজেট বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রকাশের দাবি গণসংহতি আন্দোলনের বরগুনায় চিরকুট লিখে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: সংসদে ববি হাজ্জাজ দুবাইয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলেন বেনজীর, সংসদে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৌশল শিক্ষায় নৈতিকতা ও সততার উপর গুরুত্বারোপ ইউজিসি চেয়ারম্যানের

রোহিঙ্গা নারীর মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগ আপ্লুত খালেদা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ত্রান দিতে গিয়ে এক নারীর মুখে মিয়ানমান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা শুণে কিছুক্ষনের জন্য আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় তিন-চার মাস বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে কাছে টেনে কোলে তুলে আদর করেন। ওই শিশুর নাম মোবারক। বিএনপি চেয়ারপারসন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ধৈর্য্য ধরতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে বলেন।

উখিয়ায় বেলা ১টার দিকে খালেদা জিয়া যখন শফিউল্লাহ কাটার ময়নারগোনা ক্যাম্পে পৌঁচ্ছান, এর আগে থেকে সেখানে হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থী অপেক্ষা করছিলো ত্রান নিতে। বিএনপি নেত্রীর উপস্থিতিতে ঘিরে পুরো ক্যাম্পে তখন নেতাকর্মী, স্থানীয় মানুষ আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিলে সমাবেশ স্থলের রূপ নেয়। ভিড় ঠেলে খালেদা জিয়া ত্রান দেয়ার স্থানে পৌঁচ্ছেই অপেক্ষারত শরনার্থীদের মাঝে ত্রান দেন। এসময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা তার পাশে ছিলেন।

ত্রান দেয়ার এক পর্যায়ে এক রোহিঙ্গা নারী মোবারকের মা মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের বর্ণনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খালেদা জিয়া সেই কাহিনী শুনে কিছুক্ষনের জন্য আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। বিএনপি প্রধান তাদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন এবং আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দেন।

পরে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে ধরনের হামলা হয়েছে তা অমানবিক। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ খুন করা হয়েছে। নারীদের ওপর অবর্নণীয় নির্যাতন করা হয়েছে। এসবই বিশ্ব গণমাধ্যমে এসেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা যাতে নির্ভয়ে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সেজন্য বিএনপি প্রধান মানবিকতার স্বার্থে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান।

এরপর খালেদা জিয়া আরো তিনটি স্থানে নিজ হাতে ত্রান দেন। শেষে বালুকালী পানবাজারে বিএনপির তত্ত্বাবধায়নে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব পরিচালিত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন।

ত্রান বিতরন শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিতে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে পৌঁচ্ছান তিনি। এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়বেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সীমান্তে ‘পুশইন’ এর প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা দলের মানববন্ধন

রোহিঙ্গা নারীর মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগ আপ্লুত খালেদা

আপডেট সময় ১০:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ত্রান দিতে গিয়ে এক নারীর মুখে মিয়ানমান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা শুণে কিছুক্ষনের জন্য আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় তিন-চার মাস বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুকে কাছে টেনে কোলে তুলে আদর করেন। ওই শিশুর নাম মোবারক। বিএনপি চেয়ারপারসন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ধৈর্য্য ধরতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করতে বলেন।

উখিয়ায় বেলা ১টার দিকে খালেদা জিয়া যখন শফিউল্লাহ কাটার ময়নারগোনা ক্যাম্পে পৌঁচ্ছান, এর আগে থেকে সেখানে হাজারো রোহিঙ্গা শরণার্থী অপেক্ষা করছিলো ত্রান নিতে। বিএনপি নেত্রীর উপস্থিতিতে ঘিরে পুরো ক্যাম্পে তখন নেতাকর্মী, স্থানীয় মানুষ আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিলে সমাবেশ স্থলের রূপ নেয়। ভিড় ঠেলে খালেদা জিয়া ত্রান দেয়ার স্থানে পৌঁচ্ছেই অপেক্ষারত শরনার্থীদের মাঝে ত্রান দেন। এসময় বিএনপির শীর্ষ নেতারা তার পাশে ছিলেন।

ত্রান দেয়ার এক পর্যায়ে এক রোহিঙ্গা নারী মোবারকের মা মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের বর্ণনা করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খালেদা জিয়া সেই কাহিনী শুনে কিছুক্ষনের জন্য আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন। বিএনপি প্রধান তাদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দেন এবং আল্লাহকে স্মরণ করার পরামর্শ দেন।

পরে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে ধরনের হামলা হয়েছে তা অমানবিক। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ খুন করা হয়েছে। নারীদের ওপর অবর্নণীয় নির্যাতন করা হয়েছে। এসবই বিশ্ব গণমাধ্যমে এসেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা যাতে নির্ভয়ে তাদের দেশে ফিরে যেতে পারে সেজন্য বিএনপি প্রধান মানবিকতার স্বার্থে বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান।

এরপর খালেদা জিয়া আরো তিনটি স্থানে নিজ হাতে ত্রান দেন। শেষে বালুকালী পানবাজারে বিএনপির তত্ত্বাবধায়নে ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব পরিচালিত রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন।

ত্রান বিতরন শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিতে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে পৌঁচ্ছান তিনি। এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়বেন।