ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

মিয়ানমার-বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রতিমন্ত্রী ‍সিমন হেনশ নেতৃত্বাধীন ওই প্রতিনিধি দল ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করবেন বলে শনিবার পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি স্কট বাসবি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি টম ভাজদা এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক ব্যুরোর অফিস ডাইরেক্টর প্যাট্রিসিয়া মাহোনি এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন।

রাখাইনে সহিংসতায় যে মানবিক সংকট ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা মোকাবেলা এবং মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে ফোন করে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সহযোগিতা চাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের এই সফর হচ্ছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট শনিবার বলেন, এই সংকটের অবসানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন তারা। রাখাইনে সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরুর পর গত ২৫ অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের কথা জানিয়েছেন তারা।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করলেও জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল আগে মিয়ানমার সফর করে বাংলাদেশে আসবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংকট মোকাবেলা এবং এর স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজতে প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলবে। মিয়ানমারে তারা কূটনীতিক সম্প্রদায়, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘ এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দাতা ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নয়নে করণীয় নিয়ে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে কক্সবাজার সফর করবেন তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

মিয়ানমার-বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৩:২২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রতিমন্ত্রী ‍সিমন হেনশ নেতৃত্বাধীন ওই প্রতিনিধি দল ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করবেন বলে শনিবার পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি স্কট বাসবি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি টম ভাজদা এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক ব্যুরোর অফিস ডাইরেক্টর প্যাট্রিসিয়া মাহোনি এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন।

রাখাইনে সহিংসতায় যে মানবিক সংকট ও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা মোকাবেলা এবং মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের মানবিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সেনাপ্রধানকে ফোন করে রাখাইনে সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে সহযোগিতা চাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের এই সফর হচ্ছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট শনিবার বলেন, এই সংকটের অবসানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন তারা। রাখাইনে সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরুর পর গত ২৫ অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের কথা জানিয়েছেন তারা।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করলেও জাতিসংঘ একে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল আগে মিয়ানমার সফর করে বাংলাদেশে আসবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংকট মোকাবেলা এবং এর স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজতে প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে কথা বলবে। মিয়ানমারে তারা কূটনীতিক সম্প্রদায়, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘ এবং বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দাতা ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নয়নে করণীয় নিয়ে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে কক্সবাজার সফর করবেন তারা।