ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খামারিদের টিকে রাখতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ট্রল-অপবাদ দিয়ে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করা যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে চাই : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ‘পাঁচ মাসে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’:মাহদী আমিন স্বাধীন সাংবাদিকতার আড়ালে অপসাংবাদিকতা করবেন না : আতিকুর রহমান রুমন সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তিতুমীরের জামায়াতের মতো মোনাফেক দল পৃথিবীতে আর জন্ম হয়নি : ফজলুর রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবকেন্দ্রিক এআই নীতি প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ: আইসিটি মন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ একসঙ্গে বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রেস সচিব

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নেয় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে (জলকপাট) দিয়ে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছাড়া হচ্ছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৯,০০০ কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আবদুজ্জাহের (বা মূল টেক্সট অনুযায়ী মাহামুদ হাসান) জানান, আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট মিন সী লেভেল (এমএসএল)। কাপ্তাই হ্রদে পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই সচল রেখে ২২০ থেকে ২২২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ইউনিটগুলো চালু রাখার ফলেও প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

এদিকে, কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় হ্রদের তীরবর্তী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। হ্রদের পানির পরিমাণ যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কৃত্রিমভাবে এই কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশাল মনুষ্যসৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে রাঙামাটি জেলার তৎকালীন প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমি পানিতে ডুবে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামারিদের টিকে রাখতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে

আপডেট সময় ০৪:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত নেয় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে (জলকপাট) দিয়ে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছাড়া হচ্ছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৯,০০০ কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আবদুজ্জাহের (বা মূল টেক্সট অনুযায়ী মাহামুদ হাসান) জানান, আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট মিন সী লেভেল (এমএসএল)। কাপ্তাই হ্রদে পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই সচল রেখে ২২০ থেকে ২২২ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ইউনিটগুলো চালু রাখার ফলেও প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

এদিকে, কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় হ্রদের তীরবর্তী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ছে। হ্রদের পানির পরিমাণ যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কৃত্রিমভাবে এই কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশাল মনুষ্যসৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে রাঙামাটি জেলার তৎকালীন প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমি পানিতে ডুবে যায়।