আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দিবাগত রাতেও দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোয় পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রণালিটি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে মার্কিন মেরিন সেনারা।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজের দক্ষিণাংশে মাইন পাতা নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় দুটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন ড্রোনের একটি মজুতাগার এবং দেশটির প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেন উপকূলে একটি জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটেছে। এতে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস ও রাসায়নিক সার রপ্তানি বন্ধ থাকবে। এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে হরমুজগান প্রদেশে নতুন হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। হামলায় দুটি সেতু ও একটি সড়ক টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্দর খামির এলাকায় সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় একটি রেলস্টেশন এবং পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ইরানশাহর প্রদেশের একটি বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘মার্কিন হামলা আরও কয়েক দিন চলতে থাকলে আমরা পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক অভিযানে যাব।’
তেহরান জানিয়েছে, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা।
কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















