আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হলেও, জাতীয় দলে তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বর্তমান পারফরম্যান্সের ওপর। নির্বাচকদের বার্তা স্পষ্ট—রান করতে হবে, ম্যাচ জেতাতে হবে, নইলে দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শুরু করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য সেই বিশ্বকাপের কন্ডিশনের সঙ্গে ইংল্যান্ডের পরিবেশের মিল থাকায় এই সিরিজকে প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু সিরিজের ফল নয়, কঠিন কন্ডিশনে রোহিত ও কোহলি কতটা কার্যকর থাকতে পারেন, সেটিও মূল্যায়ন করবেন নির্বাচকরা। একই সঙ্গে শুবমান গিল, যশস্বী জয়সওয়াল ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়দের মতো তরুণদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও ভাবছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশের মাটিতে ব্যর্থতার পর রোহিত ও কোহলিকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে, তবু ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক প্রাক্তন নির্বাচকের ভাষায়,‘রান করো, ম্যাচ জেতাও, তাহলেই প্রশংসা পাবে। আর তা না পারলে দলে জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।’
এদিকে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজগুলোতে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও কেএল রাহুলকে রোটেশন পদ্ধতিতে বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। এতে যশস্বী জয়সওয়ালের মতো তরুণদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতেও রোহিতকে বিশ্রাম দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল, যাতে ওপেনিংয়ে যশস্বীকে খেলানো যায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং অধিনায়ক শুবমান গিল তিন নম্বরে নেমে জায়গা করে দেন রোহিতকে।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত বিকল্প তৈরি করা জরুরি। কোনো সিনিয়র ক্রিকেটার চোটে পড়লে বা ছন্দ হারালে যেন প্রস্তুত বিকল্প থাকে, সেই লক্ষ্যেই তরুণদের আরও বেশি ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে অভিজ্ঞতার গুরুত্বও অস্বীকার করা যাচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার গতি ও বাউন্স সহায়ক উইকেটে রোহিত ও কোহলির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ভূমিকা যে এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা মানছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















