ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজা পুনর্গঠনে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা উদ্যোগ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছাত্রশিবিরকে বিদায় জানালেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী হবিগঞ্জে ড্রোন দিয়ে সহায়তা নিয়ে দুর্গতের পাশে বিজিবি

১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, মেডিকেল টিম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য মাঠপর্যায়ে অ্যান্টিভেনম পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও কলেরা আক্রান্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্য কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার এবং কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগারে (সিএমএসডি) আরও এক হাজার ভায়ালসহ মোট ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনাম মজুত রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট খাবার স্যালাইন (ওআরএস), প্রায় চার লাখ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং ৩৬ লাখের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে।

সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্য অনুসরণ এবং অসুস্থ হলে কাছের মেডিকেল টিমের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে:
বন্যার পাশাপাশি সংক্রামক রোগ পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা গেছেন ২৫ জন। গত বছরের একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৫।

অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫০০ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে যা বললেন:
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ করছে। এসব কাজ শেষ হলে হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পুনর্গঠনে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা উদ্যোগ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের

১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, মেডিকেল টিম

আপডেট সময় ০৩:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য মাঠপর্যায়ে অ্যান্টিভেনম পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও কলেরা আক্রান্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্য কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। মন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার এবং কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগারে (সিএমএসডি) আরও এক হাজার ভায়ালসহ মোট ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনাম মজুত রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট খাবার স্যালাইন (ওআরএস), প্রায় চার লাখ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং ৩৬ লাখের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে।

সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরে অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্য অনুসরণ এবং অসুস্থ হলে কাছের মেডিকেল টিমের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে:
বন্যার পাশাপাশি সংক্রামক রোগ পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা গেছেন ২৫ জন। গত বছরের একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৫।

অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫০০ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে যা বললেন:
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ করছে। এসব কাজ শেষ হলে হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।