ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত আধুনিক নগর গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : ডিএসসিসি প্রশাসক নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর ‘সো বিজি?’– স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ চাইলেন স্পিকার বিএনপি সরকার সংস্কারের দাবিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে: নাহিদ ইসলাম পরিবেশ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে হবে: রিজভী সিলেটে দুইদিন পর সুরমায় ভেসে উঠল মরদেহ সংসদ অধিবেশন চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার, সতর্ক করলেন স্পিকার সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলা, দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

শরীরে ৫৮টি বাইন্ডার ক্লিপ গেঁথে মার্কিন যুবকের গিনেস রেকর্ড

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অফিসের জরুরি কাগজপত্র আটকে রাখার জন্য বহুল ব্যবহৃত ‘বাইন্ডার ক্লিপ’ আঙুলে সামান্য চেপে বসলেই ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই তীব্র যন্ত্রণাকেই বিশ্ব রেকর্ডের হাতিয়ার বানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার বাসিন্দা রবার্ট ফ্রেডরিক। নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক ধারালো ও শক্ত ৫৮টি বাইন্ডার ক্লিপ গেঁথে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।

অনন্য এই দুঃসাহসিক কীর্তির মাধ্যমে ‌‘শরীরে সবচেয়ে বেশি বাইন্ডার ক্লিপ লাগানোর’ নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন এই মার্কিন যুবক।

ছোটবেলা থেকেই গিনেস বুকে নাম তোলার এক তীব্র তাড়না কাজ করত রবার্টের মনে। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি বেছে নেন চরম যন্ত্রণাদায়ক এই পথ। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের একটি মেমোরিয়াল পার্কে বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেন তিনি। গিনেস কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে অনলাইন থেকে সাধারণ এক ইঞ্চির কাল রঙের ক্লিপের দুটি প্যাকেট কিনে নেন রবার্ট। এরপর পার্কের একটি বেঞ্চে বসে শুরু হয় সেই রোমহর্ষক ও যন্ত্রণাদায়ক প্রচেষ্টা, যা দেখতে সেখানে পার্কের অন্যান্য দর্শনার্থী এবং শিশুরাও ভিড় জমায়।

প্রথমে রবার্টের দুই হাতে ক্লিপগুলো আটকানো শুরু করেন তার বন্ধুরা। হাত শেষ করে ধীরে ধীরে ক্লিপ নামতে থাকে নিচের দিকে। রবার্টের পরনে শুধু টি-শার্ট ও শর্টস থাকায় ক্লিপ লাগানোর জন্য যথেষ্ট জায়গা পান তার সহযোগীরা। চামড়া খামচে ধরা প্রতিটি ক্লিপের তীব্র কামড় সহ্য করেও রবার্ট দীর্ঘক্ষণ পাথরের মতো শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে হাতের চেয়ে পায়ের পাতায় যখন ক্লিপগুলো বসানো হচ্ছিল, তখন যন্ত্রণার মধ্যেও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেননি তিনি।

অবশেষে একে একে গুনে গুনে ৫৮টি ক্লিপ যখন তার পুরো শরীরে গেঁথে দেওয়া শেষ হয়, তখন দূর থেকে তাকে দেখতে অনেকটা সজারুর মতো লাগছিল। রেকর্ড ভাঙার চূড়ান্ত মুহূর্তে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ব্যথায় মুখ কিছুটা কুঁচকে গেলেও, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারার এক পরম তৃপ্তি ফুটে ওঠে রবার্টের চোখে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে রবার্টের এই সাহসিকতাকে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে ‘অফিশিয়ালি অ্যামেজিং’ খেতাব দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

শরীরে ৫৮টি বাইন্ডার ক্লিপ গেঁথে মার্কিন যুবকের গিনেস রেকর্ড

আপডেট সময় ১০:১০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অফিসের জরুরি কাগজপত্র আটকে রাখার জন্য বহুল ব্যবহৃত ‘বাইন্ডার ক্লিপ’ আঙুলে সামান্য চেপে বসলেই ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই তীব্র যন্ত্রণাকেই বিশ্ব রেকর্ডের হাতিয়ার বানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার বাসিন্দা রবার্ট ফ্রেডরিক। নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক ধারালো ও শক্ত ৫৮টি বাইন্ডার ক্লিপ গেঁথে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি।

অনন্য এই দুঃসাহসিক কীর্তির মাধ্যমে ‌‘শরীরে সবচেয়ে বেশি বাইন্ডার ক্লিপ লাগানোর’ নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন এই মার্কিন যুবক।

ছোটবেলা থেকেই গিনেস বুকে নাম তোলার এক তীব্র তাড়না কাজ করত রবার্টের মনে। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি বেছে নেন চরম যন্ত্রণাদায়ক এই পথ। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের একটি মেমোরিয়াল পার্কে বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ নেন তিনি। গিনেস কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে অনলাইন থেকে সাধারণ এক ইঞ্চির কাল রঙের ক্লিপের দুটি প্যাকেট কিনে নেন রবার্ট। এরপর পার্কের একটি বেঞ্চে বসে শুরু হয় সেই রোমহর্ষক ও যন্ত্রণাদায়ক প্রচেষ্টা, যা দেখতে সেখানে পার্কের অন্যান্য দর্শনার্থী এবং শিশুরাও ভিড় জমায়।

প্রথমে রবার্টের দুই হাতে ক্লিপগুলো আটকানো শুরু করেন তার বন্ধুরা। হাত শেষ করে ধীরে ধীরে ক্লিপ নামতে থাকে নিচের দিকে। রবার্টের পরনে শুধু টি-শার্ট ও শর্টস থাকায় ক্লিপ লাগানোর জন্য যথেষ্ট জায়গা পান তার সহযোগীরা। চামড়া খামচে ধরা প্রতিটি ক্লিপের তীব্র কামড় সহ্য করেও রবার্ট দীর্ঘক্ষণ পাথরের মতো শক্ত মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে হাতের চেয়ে পায়ের পাতায় যখন ক্লিপগুলো বসানো হচ্ছিল, তখন যন্ত্রণার মধ্যেও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেননি তিনি।

অবশেষে একে একে গুনে গুনে ৫৮টি ক্লিপ যখন তার পুরো শরীরে গেঁথে দেওয়া শেষ হয়, তখন দূর থেকে তাকে দেখতে অনেকটা সজারুর মতো লাগছিল। রেকর্ড ভাঙার চূড়ান্ত মুহূর্তে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ব্যথায় মুখ কিছুটা কুঁচকে গেলেও, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারার এক পরম তৃপ্তি ফুটে ওঠে রবার্টের চোখে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে রবার্টের এই সাহসিকতাকে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে ‘অফিশিয়ালি অ্যামেজিং’ খেতাব দিয়েছে।