আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এখন থানায় গিয়ে মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা নেই। তাই রেকর্ডভুক্ত ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করা হয়।
এরপর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এ দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।
ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রুমিন ফারহানা বলেন, গত মার্চ ও এপ্রিলে সারা দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুন হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রশংসা করে আইনজীবীদের ব্যান্ড পরে অধিবেশনে আসা রুমিন ফারহানা বলেন, এই যখন আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তখন আমরা ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের দাবি তুলছি! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মুগ্ধতা যদি তিনি তার কাজের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে ১ টাকা করার প্রস্তাব দিতাম না।
অন্যদিকে, দেশে মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক বলেন, ইউনিয়ন ও মহল্লাভিত্তিক গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ডাকাতির পরিসংখ্যানে আমরা ঐতিহাসিকভাবে উন্নত অবস্থানে আছি। তবে একটি ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। সেটি হলো ধর্ষণের মামলা রেকর্ডের ক্ষেত্রে। এর কারণ, আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা থানায় যেতে পারতেন না। এখন থানায় গেলেই কিংবা অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না থাকায় রেকর্ডের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে সুখের বিষয় হলো, ঘটনা যেখানেই ঘটুক, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া কোনো দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদনের সময় জানতে চেয়েছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কতটুকু বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইনের মতো বিষয়গুলো পাস হওয়ার পর প্রকল্প অনুযায়ী আমরা আরও বরাদ্দ চাইব।
এ ছাড়া রুমিন ফারহানার পোশাক (আইনজীবীদের ব্যান্ড) প্রসঙ্গে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, সংসদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি রয়েছে। এখানে বাইরের কোনো বিধি প্রযোজ্য নয় এবং পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে তার পরা পোশাকটিও অত্যন্ত শোভন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















