ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান যাকাত ডেটাবেইজ ও ‘ যাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব পার্থর করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কক্ষে সিকিউরিটি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না, সংসদ সদস্যদের স্পিকার অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে: জয়নুল আবদিন ফতোয়ার জন্য আর মাদ্রাসায় যেতে হবে না, সংসদেই দেওয়া হয়: শাহজাহান চৌধুরী নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: তথ্য উপদেষ্টা চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবানন। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকা নাবাতিহ-তে একটি ইসরাইলি ড্রোন অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকার একটি জনাকীর্ণ মোড় ‘ফারাহ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ইন্টারসেকশন’কে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোনটি আঘাত হানে।

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ বা কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করে।

গত কয়েক মাস ধরে লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই রকেট ও বিমান হামলা বিনিময় চলছিল। এই সীমান্ত সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারত। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্তে একটি বাফার জোন বা নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ একটি নিরাপত্তা সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইসরাইলের এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এই হামলাটি কোনো ভুল বোঝাবুঝি নাকি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে আশা জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে চরম সংকটে ফেলে দিল। হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান

চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলা

আপডেট সময় ০৫:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিনের মাথায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ লেবানন। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত এলাকা নাবাতিহ-তে একটি ইসরাইলি ড্রোন অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো এই আকস্মিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, নাবাতিহ আল-ফাওকা এলাকার একটি জনাকীর্ণ মোড় ‘ফারাহ অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ইন্টারসেকশন’কে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোনটি আঘাত হানে।

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ বিবরণ বা কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ফলে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করে।

গত কয়েক মাস ধরে লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই রকেট ও বিমান হামলা বিনিময় চলছিল। এই সীমান্ত সংঘাতের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যা যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিতে পারত। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্তে একটি বাফার জোন বা নিরাপদ এলাকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শুক্রবার (২৬ জুন) উভয় পক্ষ একটি নিরাপত্তা সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিনই ইসরাইলের এই ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এই হামলাটি কোনো ভুল বোঝাবুঝি নাকি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যে আশা জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, এই ঘটনা তাকে চরম সংকটে ফেলে দিল। হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।