আকাশ নিউজ ডেস্ক:
পা শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের যত্ন নেওয়া হলেও খেুব কম মানুষই পায়ের যত্ন নেন। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভালো রাখতে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে ম্যাসাজ করার কথা ভাবতে পারেন। পায়ে ম্যাসাজ করার জন্য নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হবে। যেমন-
গভীর এবং আরামদায়ক ঘুম:
অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য পায়ের ম্যাসাজ দারুন সমাধান। পায়ে ম্যাসাজ করলে মনকে শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমায় এবং শরীর ও স্নায়ুগুলিকে শিথিল করে। এই অভ্যাস গভীর, আরামদায়ক ঘুম পেতে সাহায্য করে।
রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে:
দিনের বেলা দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটার ফলে পায়ে সৃষ্ট ক্লান্তি এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা দূর করতে পায়ের ম্যাসাজ সাহায্য করে। নিয়মিত ম্যাসাজ করা পায়ে রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এর ফলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়। সেই সঙ্গে সতেজ লাগে। শীতকালে পায়ে ঠান্ডা লাগা রোধ করতেও এটি সাহায্য করে।
রক্তচাপ হ্রাস:
যখন আপনি মানসিক চাপে ও ক্লান্ত থাকেন, তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যদি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে ম্যাসাজ করুন — এটি উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ মোকাবেলায় সাহায্য করার মাধ্যমে রক্তচাপ কমাতে পারে।
মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমায়:
পায়ের ম্যাসাজ করলে আরাম বোধ হয়। এই অভ্যাস মন শান্ত করে, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। একিউপ্রেশার পয়েন্টগুলি উদ্দীপিত হওয়ার ফলে, শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয় যা মেজাজ উন্নত করে। এটি একটি প্রাকৃতিক মানসিক চাপ উপশমকারী হিসেবে কাজ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
নিয়মিত পায়ে ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে । এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
শরীর থেকে টক্সিন দূর করে:
প্রতিদিন পায়ে ম্যাসাজ করলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ উদ্দীপিত হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
মাংসপেশির ব্যথা এবং টান কমায়:
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা টাইট জুতা পরার ফলে সৃষ্ট পায়ের ব্যথা, মাংসপেশির টান এবং ফোলাভাব কমাতে পায়ের ম্যাসাজ খুবই উপকারী। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেলের মতো প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত তেল ব্যবহার করলে আরাম হয়। সেই সঙ্গে ব্যথাও কমে।
কোন তেল ব্যবহার করা যেতে পারে?
আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত তেলের মধ্যে সরিষার তেল বেশ জনপ্রিয়। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত নারকেল তেল ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। ত্বক কোমল করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধেও এই তেল বেশ কার্যকর।
ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম তেল ত্বক কোমল এবং পুষ্ট করতে সাহায্য করে।
গভীর ঘুম আনতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ল্যাভেন্ডার তেল। এটি অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























