আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ইসলামী ব্যাংককে ফের এস আলমের হাতে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, ‘এস আলমসহ বড় বড় মাফিয়া অলিগার্করা ফ্যাসিবাদের পুষ্ট হয়ে জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে আছে। তাদের বিচারের আওতায় আনার কোনো বক্তব্য আমরা পাইনি। বরং ইসলামী ব্যাংককে আবার এস আলমের হাতে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।’
আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাজেট নিয়েও কথা বলেন এবং সামগ্রিক ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর মতো কোনো বাজেট হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে, নগরীর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আগামীকাল শনিবার বিকেলে ১১ দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেওয়ার জন্য আজ শুক্রবার চট্টগ্রামে পৌঁছেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখন নাজুক খাতে পরিণত হয়েছে। যদি তিন কোটি আমানতকারী ইসলামী ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তখন অন্য ব্যাংকগুলোর ওপর এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে বন্ধ করা হয়েছে। যদি সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, সেটার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গা থেকে, জামায়াত বা ১১ দলকে এক ধরনের কোনঠাসা করার চেষ্টা থেকে এই ধরনের কাজ করছে।’
বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে যে বাজে পেশ করা হয়েছে, সেটা ভঙ্গুর অর্থনীতিকে দিশা দেখানোর মতো বাজেট এটা হয়নি। তাই, আমাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সমালোচনাগুলো থাকবে। সংসদে এবং সংসদের বাইরে আমরা সেই কথাগুলো অব্যাহতভাবে বলে যাব। আমরা আশা করব, সরকার আমাদের কথাগুলো শুনবে।’
পেশ করা বাজেটকে উচ্চাভিলাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে একটা ছায়া বাজেটও উপস্থাপন করেছি আমরা। ভেবেছিলাম যে, এটা সরকারকে সহায়তা করবে। আমাদের বাজেট যদি তারা দেখেন এবং বিচার বিবেচনা করেন, সেই সুযোগ এখনও আছে।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘সরকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেছে এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা করেছে প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। এটি আসলে বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ, এত রাজস্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই আদায় করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক সংস্কারের পরবর্তীতে আমরা আশা করেছিলাম- অর্থনৈতিক সংস্কার আসবে, কিন্তু এই বাজেটের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে না। বাজেটে কিছু পণ্যের তারা কর কমিয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিছু পণ্যের কর কমানো ইতিবাচক হলেও এগুলো আসলে বাস্তবায়নযোগ্য হবে না। তাছড়া বড় বাজেট মানে সেটাকে বড় দুর্নীতি। বিভিন্ন কার্ড বা খাল খনন কর্মসূচিতে সরকারি দলীয় এমপিরা বরাদ্দ পেলেও জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নেই। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে ঋণ খেলাপিদের টাকা ফেরত নিবে, আওয়ামী আমলের লুটেরা ও পাচারকৃত টাকা কিভাবে আদায় করবে, বিচার কিভাবে নিশ্চিত করবে, এসব বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’
এ সময় জনজীবনে নানামুখি দুর্ভোগ ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
এদিকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা-সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর নাহিদ ইসলাম ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জামেয়া মাদ্রাসা ছাত্রদের অবদানের বিষয়টি তুলে ধরেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























