ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আদ–দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু:৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন: স্বাস্থ্যের ডিজি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্–দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে একইদিনে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ৩ দিন সময় বেধে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডটি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স এক থেকে দুদিন।

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আজকে ভোরবেলায় এই কক্ষে এসি–সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য যেকোনো কারণে এখানে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা প্রতীয়মান হলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে বলেও তিনি জানান।

পুলিশের ধারণা, গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। রমনা থানার পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি দল অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং এটিকে প্রাথমিকভাবে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে।

অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত। ঘটনার সময় একসঙ্গে ছয় নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাদের দ্রুত নিউনেটাল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ১০১ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে নেওয়ার পর একজনকে ব্রড ডেথ ঘোষণা করা হয় এবং আরেকজন ছিলেন অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায়। বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটরে রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও গুরুতর শ্বাসকষ্ট থাকায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষায়— এসি বন্ধ ছিল না, প্রথমে এসি চালু ছিল। ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ও নবজাতক ছিলেন—এর মধ্যে ছয়জন ওই ওয়ার্ডে এবং বাকি পাঁচজন আগে থেকেই এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি জানান, স্বজনদের অনুরোধে রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল, পরে আবার তা চালু করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পোস্ট অপারেটিভ রুমে ছয়টি শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা এসেছি। তাদের বয়স এক থেকে দুদিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ–দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু:৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন: স্বাস্থ্যের ডিজি

আপডেট সময় ০২:৫০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্–দ্বীন হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে একইদিনে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ৩ দিন সময় বেধে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

বুধবার দুপুরে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডটি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স এক থেকে দুদিন।

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আজকে ভোরবেলায় এই কক্ষে এসি–সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য যেকোনো কারণে এখানে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা প্রতীয়মান হলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে বলেও তিনি জানান।

পুলিশের ধারণা, গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। রমনা থানার পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে।

ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি দল অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় এবং এটিকে প্রাথমিকভাবে ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত করছে এবং ফরেনসিক টিমও কাজ করছে।

অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত। ঘটনার সময় একসঙ্গে ছয় নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাদের দ্রুত নিউনেটাল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ১০১ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে নেওয়ার পর একজনকে ব্রড ডেথ ঘোষণা করা হয় এবং আরেকজন ছিলেন অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায়। বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটরে রেখে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও গুরুতর শ্বাসকষ্ট থাকায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এসি বন্ধ বা গ্যাস লিকেজের অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষায়— এসি বন্ধ ছিল না, প্রথমে এসি চালু ছিল। ওয়ার্ডে মোট ১১ জন মা ও নবজাতক ছিলেন—এর মধ্যে ছয়জন ওই ওয়ার্ডে এবং বাকি পাঁচজন আগে থেকেই এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি জানান, স্বজনদের অনুরোধে রাত ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল, পরে আবার তা চালু করা হয়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পোস্ট অপারেটিভ রুমে ছয়টি শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা এসেছি। তাদের বয়স এক থেকে দুদিন।