আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম এমপি। তবে সবার সহযোগিতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র তিন দিনের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন করতে হয়। আমাদের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ঈদযাত্রা পুরোপুরি নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জনগণ সচেতন থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে। এ কারণে এই সড়ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার আওতায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০৩১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ৬ লেনে এবং প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রবিউল আলম বলেন, দেশে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর প্রধান কারণ চালকের অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা। দুর্ঘটনা কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে সহায়তায় রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্যোগে কুমিল্লা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। এতে ৮৬ জন নিহতের পরিবার ও ৩৩ জন আহতের পরিবার সহায়তা পায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ সড়ক বিভাগ, রেলওয়ে, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















