ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামে শিশু মৃত্যুর জন্য সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে: নাহিদ ইসলাম আ.লীগের মতো বিএনপির নেতাকর্মীরা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে: সারজিস তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুনভাবে জাগরণ সৃষ্টি করেছি: পানিসম্পদ মন্ত্রী মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১০ সাতটি পাসপোর্টসহ সীমান্তে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও ভারত চলতে পারবে: ফজলুর রহমান বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে: কর্নেল অলি বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর গ্রেফতার রাজনীতির নামে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে আমরা বসে থাকব না:প্রধানমন্ত্রী ‘আপনারা উল্টা পথে হাঁটছেন’, বিএনপিকে জামায়াত আমির

গাজীপুরের আলোচিত ৫ খুন মামলার আসামির মরদেহ উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লৌহজংয়ের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি (আইসি) মো. ইলিয়াস।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশে খবর দেয়। নৌ পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুরের ৫ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান লাশটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে। লাশটির সুরতহাল চলছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, আসামি ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং অন্য একটি দল বেনাপোলে যায় যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে হাতের মোবাইলটি ফুটপাতের উপর রাখেন। এরপর দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করে রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সেই সময় আরও বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা না যাওায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেনি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে শিশু মৃত্যুর জন্য সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

গাজীপুরের আলোচিত ৫ খুন মামলার আসামির মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লৌহজংয়ের মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি (আইসি) মো. ইলিয়াস।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে লৌহজং উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন পদ্মায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ পুলিশে খবর দেয়। নৌ পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুরের ৫ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই আব্দুল জব্বার ও কাপাশিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জুবায়ের রহমান লাশটি ফোরকানের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে। লাশটির সুরতহাল চলছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজ কার্যালয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, আসামি ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে নদীতে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে, যাকে দেখে ফোরকান বলে ধারণা করছেন তার পরিবার ও মামলার বাদী। তবে মরদেহ উদ্ধার ও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পরপরই প্রধান আসামি ফোরকানকে গ্রেপ্তারে তিনটি দল অভিযানে নামে। একটি দল গোপালগঞ্জে ফোরকানের গ্রামের বাড়ি এবং অন্য একটি দল বেনাপোলে যায় যাতে সে সীমান্ত পার হতে না পারে। পরে গত সোমবার (১১ মে) মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই হেলপার জানান, তিনি মোবাইলটি পদ্মা সেতু থেকে পেয়েছেন। এরপর পুলিশের একটি দল পদ্মা সেতুতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। ফুটেজে দেখা যায়, প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি নেমে হাতের মোবাইলটি ফুটপাতের উপর রাখেন। এরপর দুই থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করে রেলিং টপকে নদীতে লাফ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা সেই সময় আরও বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মামলার বাদী (নিহত শারমিনের বাবা) এবং গোপালগঞ্জে ফোরকানের ভাই জব্বারসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ভিডিওটি দেখানো হয়। তারা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও তাদের কাছে মনে হয়েছে ভিডিওর ওই ব্যক্তিটিই ফোরকান। তবে চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা না যাওায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওর প্রাইভেটকারটি ঢাকার পল্টনের একটি রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া করেছিলেন ফোরকান। চালককে তিনি বলেছিলেন, এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি নিচ্ছেন। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখায় চালক ফোরকানকে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেনি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি যে ফোরকানের, তা এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফোরকান ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় কারো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অজ্ঞাতনামা মরদেহ পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

এর আগে, শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।