ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন মির্জা আব্বাস নারী নির্যাতন-ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না: জোনায়েদ সাকি আওয়ামী লীগ সরকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে সরকার : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসলে প্রথম গুলি চালাবে তারেক রহমানের ওপর: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিশোরীকে তুলে নিতে ব্যর্থ হয়ে ছুরিকাঘাতে দাদিকে খুন হামাসের শীর্ষ সামরিক প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরাইলের ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়ছে: রিজভী নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলা, বহু শিক্ষার্থী অপহরণ টাকা ছাপানোর অভিযোগ ‘গালগল্প’: অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

লিটনের ব্যাটিং ‘ভয়ংকর সুন্দর’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

যেন তুলির আঁচড়ে মাইলফলক ছোঁয়া। কাভার দিয়ে চার মেরে সেঞ্চুরিতে। শনিবার যেন ব্যাটিং সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন লিটন কুমার দাস। ধংসস্তুপের নিচে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টেল এন্ডারদের নিয়ে সেঞ্চুরি করা, চার-ছয়ে ফোয়ারা ছোটিয়ে দলকে শোভন স্কোরে নেওয়া লিটনের ব্যাটিং ছিল ভয়ংকর সুন্দর। তাঁর খেলা চার ছয়ের শটগুলো দেখে মনে হবে ব্যাটিং করা খুবই সহজ। লিটন সত্যিই ‘বিউটি’।

যেদিন এই লিটনের প্রকাশ ঘটে সেদিন বিশ্বের কোনো বোলারই দাঁড়াতে পারে না তার সামনে। এমন অনেক রেকর্ডই তো অতীতে দেখেছেন ক্রিকেটানুরাগীরা। সাদা ও লাল সব বলের খেলায় নিজের দিনে লিটন ক্লাসিক। সেই ক্লাসিক ব্যাটিং দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে শনিবার দর্শনীয় একটি সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি। শতক ছোঁয়া এই ইনিংসটি শুধু তাঁর রেকর্ডকে সমৃদ্ধ করেনি, দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে গেছে নিরাপদে। ১৩টি চার, একটি ছয়ে ১৩৫ বলে টেস্টের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেন লিটন। তাঁর এই ছয় সেঞ্চুরির তিনটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে। বাকি তিনটি নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন লিটন। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী ছিলেন ৪ রানের জুটিতে। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৬ রানের জুটি। মিরাজ ৪ রানে বিদায় নিলে শুরু হয় লিটনের আসল লড়াই। যে লড়াইয়ে স্বীকৃত কোনো ব্যাটারকে সঙ্গী হিসেবে পাননি। শেষের তিনটি জুটিতে তাইজুল, তাসকিন, শরিফুলকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দুর্গম পথ। ছোট ছোট জুটিতে রোমাঞ্চকর একটি ব্যাটিং ‘জার্নি’র শেষে ছিল তৃপ্তির হাসি।

বাংলাদেশ ষষ্ঠ উইকেট হারায় ১১৬ রানে। সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে নিয়েছেন ২৭৮ রানে। খাদের কিনারা থেকে দল টেনে তুলেছেন নিরাপদ রানপাহাড়ে। বিপদে থাকা লিটনের সাহসী সঙ্গী ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুর্গম মরু পথ পাড়ি দেওয়ার লড়াইয়ে লিটন-তাইজুলের জুটি ৬০ রানের। দুজনে ১১৪টি বল মোকাবেলা করে ওই রান করেন, যেখানে লিটনের রান ৭৮ বলে ৪৩। ৪০ বলে ১৬ রান করা তাইজুল ছিলেন সহযোগী ব্যাটিং যোদ্ধা। পেসার তাসকিনকে নিয়ে ৪২ বলে ৩৮ রানের যোগান দেন। এই জুটিতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি।

তাসকিন শট খেলতে গিয়ে আউট হলে খুবই হতাশ ছিলেন লিটন। স্বপ্ন ভঙ্গের শঙ্কায় হতাশা প্রকাশ করেন মাটিতে ব্যাট ফেলে। আসলে তিনি তো জানতে না ক্রিকেট দেবতা তাকে দুহাত ভরিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায়। শরিফুলের বুক চেতানো লড়াইয়ে স্বপ্নপূরণ হয় লিটনের। ৯৯ রান থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান চার মেরে। চারের পরের বলটিকে ছয়ে রূপ দেন তিনি। সেঞ্চুরি হওয়ার পর ভয়ঙ্কর রূপে বোলারদের মুখোমুখী হন লিটন। একজন বোলারও রেহাই পাননি তার আগ্রাসন থেকে। একবার জীবন পাওয়া শরিফুলকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি লিটনের। এই জুটিতে ৪৩ বলে ৫১ রান করেন লিটন। সেঞ্চুরিয়ান আউট হন ১৬টি চার ২টি ছয়ে ১২৬ রানে আউট হন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন মির্জা আব্বাস

লিটনের ব্যাটিং ‘ভয়ংকর সুন্দর’

আপডেট সময় ০৬:২০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

যেন তুলির আঁচড়ে মাইলফলক ছোঁয়া। কাভার দিয়ে চার মেরে সেঞ্চুরিতে। শনিবার যেন ব্যাটিং সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন লিটন কুমার দাস। ধংসস্তুপের নিচে থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টেল এন্ডারদের নিয়ে সেঞ্চুরি করা, চার-ছয়ে ফোয়ারা ছোটিয়ে দলকে শোভন স্কোরে নেওয়া লিটনের ব্যাটিং ছিল ভয়ংকর সুন্দর। তাঁর খেলা চার ছয়ের শটগুলো দেখে মনে হবে ব্যাটিং করা খুবই সহজ। লিটন সত্যিই ‘বিউটি’।

যেদিন এই লিটনের প্রকাশ ঘটে সেদিন বিশ্বের কোনো বোলারই দাঁড়াতে পারে না তার সামনে। এমন অনেক রেকর্ডই তো অতীতে দেখেছেন ক্রিকেটানুরাগীরা। সাদা ও লাল সব বলের খেলায় নিজের দিনে লিটন ক্লাসিক। সেই ক্লাসিক ব্যাটিং দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে শনিবার দর্শনীয় একটি সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি। শতক ছোঁয়া এই ইনিংসটি শুধু তাঁর রেকর্ডকে সমৃদ্ধ করেনি, দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে গেছে নিরাপদে। ১৩টি চার, একটি ছয়ে ১৩৫ বলে টেস্টের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করেন লিটন। তাঁর এই ছয় সেঞ্চুরির তিনটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে। বাকি তিনটি নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন লিটন। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী ছিলেন ৪ রানের জুটিতে। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৬ রানের জুটি। মিরাজ ৪ রানে বিদায় নিলে শুরু হয় লিটনের আসল লড়াই। যে লড়াইয়ে স্বীকৃত কোনো ব্যাটারকে সঙ্গী হিসেবে পাননি। শেষের তিনটি জুটিতে তাইজুল, তাসকিন, শরিফুলকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন দুর্গম পথ। ছোট ছোট জুটিতে রোমাঞ্চকর একটি ব্যাটিং ‘জার্নি’র শেষে ছিল তৃপ্তির হাসি।

বাংলাদেশ ষষ্ঠ উইকেট হারায় ১১৬ রানে। সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে নিয়েছেন ২৭৮ রানে। খাদের কিনারা থেকে দল টেনে তুলেছেন নিরাপদ রানপাহাড়ে। বিপদে থাকা লিটনের সাহসী সঙ্গী ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুর্গম মরু পথ পাড়ি দেওয়ার লড়াইয়ে লিটন-তাইজুলের জুটি ৬০ রানের। দুজনে ১১৪টি বল মোকাবেলা করে ওই রান করেন, যেখানে লিটনের রান ৭৮ বলে ৪৩। ৪০ বলে ১৬ রান করা তাইজুল ছিলেন সহযোগী ব্যাটিং যোদ্ধা। পেসার তাসকিনকে নিয়ে ৪২ বলে ৩৮ রানের যোগান দেন। এই জুটিতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি।

তাসকিন শট খেলতে গিয়ে আউট হলে খুবই হতাশ ছিলেন লিটন। স্বপ্ন ভঙ্গের শঙ্কায় হতাশা প্রকাশ করেন মাটিতে ব্যাট ফেলে। আসলে তিনি তো জানতে না ক্রিকেট দেবতা তাকে দুহাত ভরিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায়। শরিফুলের বুক চেতানো লড়াইয়ে স্বপ্নপূরণ হয় লিটনের। ৯৯ রান থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান চার মেরে। চারের পরের বলটিকে ছয়ে রূপ দেন তিনি। সেঞ্চুরি হওয়ার পর ভয়ঙ্কর রূপে বোলারদের মুখোমুখী হন লিটন। একজন বোলারও রেহাই পাননি তার আগ্রাসন থেকে। একবার জীবন পাওয়া শরিফুলকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি লিটনের। এই জুটিতে ৪৩ বলে ৫১ রান করেন লিটন। সেঞ্চুরিয়ান আউট হন ১৬টি চার ২টি ছয়ে ১২৬ রানে আউট হন তিনি।