আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলির ব্যক্তিগত জীবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝোড়ো হাওয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১১ সালে অস্ট্রিয়ার হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হাগকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের ঘরে তিন সন্তান রয়েছে। গত বছর স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বর্তমানে সন্তানদের ফিরে পেতে এবং বিচ্ছেদ কার্যকরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এ অভিনেত্রী।
স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের অধিকার ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ের মাঝে এবার পুত্রশোকে ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের প্রয়াত ছেলে শামশেরের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদার একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে তুলে ধরেছেন তার জীবনের বর্তমান চরম সংকটের কথা।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট ছেলে শামশেরের কবরের পাশে বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে আছেন সেলিনা জেটলি। ভিডিওটির ক্যাপশনে তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের কথা বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন।
সেলিনা জেটলি লিখেছেন, একজন মা হিসেবে নিজের ট্রমা বিশ্ববাসীকে দেখানোর জন্য এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি শেয়ার করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল।
তিনি বলেন, আমি আমার বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির জন্য অস্ট্রিয়ায় ছিলাম। অস্ট্রিয়ান বিচারকের কাছে অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও আমার সন্তানদের বৈবাহিক আবাসে ফিরিয়ে আনা হয়নি, উল্টো তাদের অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিনেত্রী বলেন, আমার সন্তানদের মধ্যে কেবল ছেলে শামশেরের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, যে কিছু দিন আগে মারা গেছে। এটি এমন একজন মায়ের গল্প, যিনি সন্তানদের জন্মের দিন থেকে তাদের জন্য সব কিছু করেছেন। কেবল স্বামীর ক্যারিয়ার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার জন্য আমি নিজের দেশ, বাবা-মা এবং কর্মস্থল ছেড়ে ভারত থেকে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রিয়ায় বারবার আবাসন পরিবর্তন করেছি। তিনি বলেন, তার সন্তানদের ব্রেইনওয়াশ করা হচ্ছে এবং তাদের সামনে ভুল মিডিয়া ন্যারেটিভ তুলে ধরে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সেলিনা জেটলি বলেন, আমার স্বামী আমাকে একটি স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে যান এবং আমাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর উপহার দেওয়ার অজুহাতে ডিভোর্স নোটিশ ধরিয়ে দেন। আমি বারবার একটি সম্মানজনক বিচ্ছেদ চেয়েছি, কিন্তু আমার প্রাক-বৈবাহিক সম্পদ ও স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই নানা অযৌক্তিক শর্ত দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অমানবিক নির্যাতনের শিকার দাবি করে অভিনেত্রী বলেন, আইনি এবং আন্তরিকভাবে সৌহার্দপূর্ণ বিচ্ছেদের চেষ্টা করলেও বিনিময়ে আমার কাছে অযৌক্তিক সব দাবি তোলা হয়েছে। বিশেষ করে আমার বিয়ের আগের সম্পদগুলো হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অস্ট্রিয়ান ফ্যামিলি কোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও আমাকে আমার সন্তানদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















