ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম খুলনার তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিলেন মা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রীর জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে: ট্রাম্প

সিএজির অডিট রিপোর্ট পেশ:রূপপুরের সেই বালিশের দাম শুনে প্রধানমন্ত্রী বললেন জাদুঘরে রাখা উচিত’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডের’ অডিট প্রতিবেদনও রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এসব প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ওই ঘটনার নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা।

প্রেস সচিব বলেন, প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে কথার ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত’।

২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি আবাসিক ভবনে’ আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘বালিশ কাণ্ড’ বা ‘বালিশ দুর্নীতির’ বিষয়টি সামনে আসে।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় ‘পদে পদে’ দুর্নীতি হয়েছে। একটি বালিশ কেনার পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা।

এর মধ্যে প্রতিটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়।

এছাড়া কভারসহ প্রতিটি কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প) দাম দেখানো হয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। অথচ এর বাজারমূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বলে খবরে বলা হয়।

পাঁচটি ২০ তলা ভবনের জন্য এসব কেনাকাটা হয়েছে। প্রতিটি তলায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য কমফোর্টার শুধু বেশি দামে কেনাই হয়নি, কেনার পর দোকান থেকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে আলাদা ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র ৩০টি কমফোর্টারের জন্য ৩০ হাজার টাকা ট্রাকভাড়া দেখানো হয়। একেকটি কমফোর্টার খাট পর্যন্ত তুলতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ টাকা।

আবার কমফোর্টার ঠিকমত খাট পর্যন্ত তোলা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তত্ত্বাবধানকারীর পারিশ্রমিক দেখানো হয়েছে প্রতিটির ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা। ঠিকাদারকে ১০ শতাংশ লাভ ধরে সম্পূরক শুল্কসহ সব মিলিয়ে প্রতিটি কমফোর্টারের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ টাকা।

শুধু কমফোর্টার নয়, চাদরের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। ৩০টি চাদর আনতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়েছে। আর ভবনের নিচ থেকে খাট পর্যন্ত তুলতে প্রতিটি চাদরের জন্য মজুরি দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা।

শুধু বালি, কমফোর্টার বা চাদর নয়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটাতেও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়। ভবনের প্রতি ফ্লাটের জন্য একটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ

সিএজির অডিট রিপোর্ট পেশ:রূপপুরের সেই বালিশের দাম শুনে প্রধানমন্ত্রী বললেন জাদুঘরে রাখা উচিত’

আপডেট সময় ১১:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডের’ অডিট প্রতিবেদনও রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এসব প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ওই ঘটনার নিরীক্ষা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, সেখানে প্রতিটি বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা।

প্রেস সচিব বলেন, প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে কথার ছলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত’।

২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি আবাসিক ভবনে’ আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ‘বালিশ কাণ্ড’ বা ‘বালিশ দুর্নীতির’ বিষয়টি সামনে আসে।

প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় ‘পদে পদে’ দুর্নীতি হয়েছে। একটি বালিশ কেনার পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা।

এর মধ্যে প্রতিটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। সেই বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়।

এছাড়া কভারসহ প্রতিটি কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প) দাম দেখানো হয় ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। অথচ এর বাজারমূল্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বলে খবরে বলা হয়।

পাঁচটি ২০ তলা ভবনের জন্য এসব কেনাকাটা হয়েছে। প্রতিটি তলায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য কমফোর্টার শুধু বেশি দামে কেনাই হয়নি, কেনার পর দোকান থেকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে আলাদা ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছে। মাত্র ৩০টি কমফোর্টারের জন্য ৩০ হাজার টাকা ট্রাকভাড়া দেখানো হয়। একেকটি কমফোর্টার খাট পর্যন্ত তুলতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ টাকা।

আবার কমফোর্টার ঠিকমত খাট পর্যন্ত তোলা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তত্ত্বাবধানকারীর পারিশ্রমিক দেখানো হয়েছে প্রতিটির ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা। ঠিকাদারকে ১০ শতাংশ লাভ ধরে সম্পূরক শুল্কসহ সব মিলিয়ে প্রতিটি কমফোর্টারের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ টাকা।

শুধু কমফোর্টার নয়, চাদরের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। ৩০টি চাদর আনতে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ট্রাক ভাড়া করা হয়েছে। আর ভবনের নিচ থেকে খাট পর্যন্ত তুলতে প্রতিটি চাদরের জন্য মজুরি দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা।

শুধু বালি, কমফোর্টার বা চাদর নয়, ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটাতেও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়। ভবনের প্রতি ফ্লাটের জন্য একটি রেফ্রিজারেটর কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা। রেফ্রিজারেটর ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।