আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছেলের মুখ শেষ বারের মতো দেখার সুযোগ করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কারা প্রশাসন।
রবিবার দুপুরে কারাগারের কঠোর নিরাপত্তায় দুলাল নামে এক বন্দিকে তার মৃত সন্তানের (আব্দুল্লাহ) মুখ দেখার সুযোগ করে দেয় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। এসময় তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত।
কারাবন্দি দুলাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি মাদক মামলায় কারাগারে আছেন। দুলাল বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪) শনিবার নিজ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্দুল্লাহ’র আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে সেই খবর কারাগারে থাকা বাবা দুলালের কাছে পৌঁছায়। সন্তানের এমন মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন তিনিও। এমন পরিস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার কথা মোবাইল ফোনে জানান নিহতের ফুফু সেলিনা বেগম। পরিবারের এই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় আব্দুল্লাহ’র মরদেহ। এসময় বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
এসময় ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিহতের ফুফু সেলিনা বেগম বলেন, শনিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামপুর এলাকায় ট্রাক্টরের চাপায় আব্দুল্লাহ আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহ’র মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহী কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের বিস্তারিত জানানো হয়। এসময় তারা মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে আসতে বলেন। আমরা দুপুরে নিহতের মরদেহ কারা ফটকে নিয়ে গেলে ভেতর থেকে দুলালকে নিয়ে আসা হয়। এরপরে দুলাল তার মৃত ছেলের মুখ দেখেন। এসময় সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বোন সকালে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারা কোনো আবেদন করেননি। এটা একটা মানবিক বিষয় ছিল। নিহতের মরদেহ কারাগারে প্রধান ফটকে নিয়ে আসতে বলা হয়, তারা নিয়ে আসেন। এরপরে নিহত ছেলের মৃত মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান আসামি দুলাল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 









