আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের রক্তের দাগ মুছে না ফেলা পর্যন্ত এ বিতর্কের মীমাংসা হবে না; একইভাবে একাত্তরের গণহত্যার প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে বিতর্ক চলবে।
আজ বুধবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একদিকে এই বিতর্ক চালিয়ে যাবে সংবিধান, সংসদ, গণতন্ত্রের মধ্যে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে। এ বিষয়ে আপোষ করা হবে না
বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, বিরোধী দলের আসনে এমন একজন ব্যক্তি আছেন, কারাগারে যার সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তার জানা মতে, তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘ বা এ রকম একটা প্রচলিত ছাত্রসংগঠনের প্রোডাকশন হিসেবে জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে আসেননি। তিনি তার নিজস্ব চিন্তা থেকেই জামায়াতে ইসলামীকে দেখেন এবং নেতৃত্ব দেন।
আগের ১২টি সংসদের তুলনায় বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদকে ইতিহাসের ব্যতিক্রম আখ্যা দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের রাজনীতি মূলত দ্বি-দলীয় কাঠামোয় আবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার ভোটের পরিসংখ্যান ও সংসদের চিত্র ভিন্ন বাস্তবতা নির্দেশ করছে।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী ফল নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে যতবার নির্বাচন করেছে, ততবারই পাঁচ শতাংশের মধ্যেই তার ভোট সীমাবদ্ধ ছিল। এবারের নির্বাচনে তার ভোটের পরিসংখ্যা পরিবর্তন হয়েছে। এই প্রথম ভোটের পরিসংখ্যান থেকে শুরু করে সর্বত্র দেখা যাবে, পালিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদের সমর্থক এবার কোথায় ভোট দিয়েছেন-তা আমরা জানি না। জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের এবারের নির্বাচনের জাদুকরী সংখ্যা গবেষণার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
একটি কঠিন সংকটে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ এই দেশের ঘাড়ে চেপে আছে। এক মাসের মধ্যে ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সংকট মোকাবিলা করছেন। এ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের সমর্থনসহ সংসদে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতির সূচকে কিছু অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে সরকার সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাজনৈতিক আচরণের উৎস প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে, কোনো আচার-আচরণের উৎস থাকে একটি দলের ইতিহাসে তার ঐতিহ্যের মধ্যে।
রাজনীতিতে আদর্শগত সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন কেউ পবিত্র ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, যখন কেউ স্বাধীনতার চেতনার নিয়ে ব্যবসা করতে চায়… তখন সেই সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং নেতাকর্মীদের এই ধরনের আচার-আচরণের সমস্যা হতে বাধ্য।
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি পরাজিত আওয়ামী লীগ আবার এই সংসদে কোনোদিন ফিরে আসে, সে যদি দাবি করে যে ২৪-এর জুলাই গণহত্যার কথা বলা যাবে না, তার গা থেকে তার হাত থেকে কিন্তু রক্তের দাগ মোছা যাবে না।
একই প্রসঙ্গে জামায়াতের অতীত ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১১ জোটের প্রধান দল হিসেবে জামায়াতসহ তাদের সব সহকর্মীদের মনে রাখতে হবে যে, তারা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন… এমনকি তারা এই মুহূর্ত পর্যন্ত বক্তৃতায় অনেকেই বলেছেন, তারা শরীয়া আইন কায়েম করতে চায়।
বিএনপি জাতীয় সংকটে বারবার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জামায়াতকে অতীতের সরকারের মধ্যে কারা কারা কী করেছে, তারা তা জানেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















