আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জামায়াতে ইসলামী কার্যত নিজেদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে মেনে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংসদের চলতি অধিবেশনে পাস হওয়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার’ সংজ্ঞা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী এমন দাবি করেন।
বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশের দোসর—তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন নেজামে ইসলামী এবং আল বদর, আল শামস বাহিনী, রাজাকারদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যেসব দামাল ছেলেরা যারা সংগ্রাম করেছেন।’ এই বিল পাস হওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিরোধিতা করেনি। এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানানো হয়েছে।
এনসিপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাই অপারেশন অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন—তাহলে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিলেন। কারা খুন, গুম, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল। কারা বাংলাদেশের অসংখ্য, অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল।’
আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই বাংলাদেশে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই সংসদ আগামী দিনে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়—যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্য দিয়ে অর্জিত দেশে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বিশ্বের দেশে দেশে বিপ্লবের পরে অভ্যুত্থানের চেতনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখা গেল গতকাল (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে একটি লিফলেট পেলাম। সেখানে ১১ দলীয় পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে—বিরোধী দল কেন সংস্কার চায়। সেখানে কয়েকটি পয়েন্ট দিয়েছেন। সেই পয়েন্টের কোথাও জুলাই সনদের কথা নেই। সেখানে বলা হয়েছে গণভোটের কথা। ৩৩ দলের সই করা জুলাই সনদের নাম চিহ্ন তাতে নেই।
তিনি বলেন, এই সংসদে দেশের উন্নতি ও ভবিষ্যৎ তৈরি নিয়ে বলতে চাই। কিন্তু কথা বলছি গণভোটের চারটি প্রশ্ন নিয়ে।
গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে সাড়ে তিনটির বিষয়ে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, বাকি আধা প্রশ্নটি হলো—আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।
আসাদুজ্জামান বলেন, এই সংসদ অনাহুত নির্জীব হয়ে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তারা বয়কট করেছেন। উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















