ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই নৌকায় মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের সঙ্গে ওই তরুণও ছিলেন। তাঁর নাম মহিবুর রহমান (২০)। ছেলের শোকে কাতর মা শয্যাশায়ী, আর ছোট ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নুরুল আমিন, মায়ের নাম মহিমা বেগম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত বিশাল সংসার।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। দালাল তাঁর কোনো খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। তাঁর ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়।

মহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সুনু মিয়া বলেন, মহিবুর চার মাস আগে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। এরপর সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান। মাঝখানে তিনি খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন পরিবারের কাছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার নবী হোসেনের মাধ্যমে তিনি গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন।

সুনু জানান, নবী হোসেন লিবিয়ায় আছেন। দেশে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নান সব লেনদেন করেছেন। ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে দরিদ্র নুরুল আমিন জমি বিক্রি করেছেন, মহাজনি সুদে টাকা এনেছেন পাঁচ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে দালালকে। রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নানের পরিচয় হয়। পরে মন্নানই মহিবুরকে গ্রিসে যেতে উৎসাহিত করেন। মহিবুরের মৃত্যুর খবরে তাঁর মা শয্যাশায়ী। তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বুধবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি। আমাকে কেউ জানায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই নৌকায় মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের সঙ্গে ওই তরুণও ছিলেন। তাঁর নাম মহিবুর রহমান (২০)। ছেলের শোকে কাতর মা শয্যাশায়ী, আর ছোট ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নুরুল আমিন, মায়ের নাম মহিমা বেগম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত বিশাল সংসার।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। দালাল তাঁর কোনো খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। তাঁর ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়।

মহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সুনু মিয়া বলেন, মহিবুর চার মাস আগে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। এরপর সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান। মাঝখানে তিনি খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন পরিবারের কাছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার নবী হোসেনের মাধ্যমে তিনি গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন।

সুনু জানান, নবী হোসেন লিবিয়ায় আছেন। দেশে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নান সব লেনদেন করেছেন। ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে দরিদ্র নুরুল আমিন জমি বিক্রি করেছেন, মহাজনি সুদে টাকা এনেছেন পাঁচ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে দালালকে। রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নানের পরিচয় হয়। পরে মন্নানই মহিবুরকে গ্রিসে যেতে উৎসাহিত করেন। মহিবুরের মৃত্যুর খবরে তাঁর মা শয্যাশায়ী। তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বুধবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি। আমাকে কেউ জানায়নি।