ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

শিগগিরই আসছে হামের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’

সরকার ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশে টিকা আসা শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হবে।

জনগণের উদ্দেশে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।’

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে প্রদান করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন পেলেই দ্রুত টিকা দেশে আনা হবে। টিকা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

এদিকে, টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: ১৩ কোটি নাম বাদ?

শিগগিরই আসছে হামের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরণের টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।’

সরকার ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশে টিকা আসা শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হবে।

জনগণের উদ্দেশে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।’

স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে প্রদান করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন পেলেই দ্রুত টিকা দেশে আনা হবে। টিকা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

এদিকে, টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।