ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রূপগঞ্জে পাওনা টাকা আদায়ে ৯ মাসের শিশুকে অপহরণ ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার রূপ দিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরবে স্ট্রোক করে বাংলাদেশির মৃত্যু বিএনপি জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে: মঈন খান আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে ইরান: ট্রাম্প বাসের ধাক্কায় প্রাইভেটকারে থাকা একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ৫ ৫৫ বছর পরও স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন হয়নি: চরমোনাই পীর ভিয়েতনামের কাছে তিন গোলে হারল বাংলাদেশ স্নাতক পাস ছাড়া স্কুল-কলেজের সভাপতি নয়, কঠোরভাবে পরিপত্র অনুসরণের নির্দেশ কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি : বিদ্যুৎমন্ত্রী

কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি : বিদ্যুৎমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের আত্মার দাবি, নিজের অস্তিত্ব, নিজের পতাকা নিজের মাটির জন্য। কাজেই এগুলো নিয়ে যারা সমালোচনা করে আমি মনে করি তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না এবং কোনোদিনই করবে না। তাদের মানতে হবে এদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, লাখো মানুষ রক্ত দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ছেলেরা। তারা কিন্তু চিন্তা করেনি, আমি মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে কি পাবো। আর কি পাবো এ চিন্তা করে যুদ্ধে গেলে সেই যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না। যুদ্ধ সবসময় নিঃস্বার্থ হয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য একটা শক্তির উত্থান হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য হয়েছিল না। ধর্মের ওপর ভিত্তি করে একটা রাষ্ট্র হয়েছিল এবং একটা ভৌগলিক একটা ইউনিক রাষ্ট্র হয়েছিল যা দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবধান ছিল হাজার হাজার মাইল।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মভিত্তিক দেশ করার পরে তখন শোষণ হয়েছিল, আমাদের ভাষার মিল ছিল না, আমাদের খাবার-দাবারের মিল ছিল না, লেখাপড়ার মিল ছিল না। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে সংসার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেয়নি, আমরা আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে স্বাধীন হয়েছি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দুঃখের বিষয় হলো আজকে যখন দেখি একটি অপশক্তি যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, তারা স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করে। আমি কষ্ট পাই, যে স্বাধীন দেশটা আনলাম, যে মানচিত্রটা আনলাম, যে পতাকাটা আনলাম সেই পতাকার তলে, সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষিত হয়েছেন, তারা যখন আমাদের টেলিভিশনগুলোর টকশোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করে। তারা ভুলে যায়, যে মুক্তিযুদ্ধ যাদের অস্তিত্ব তাদের নাগরিকত্ব। সেই নাগরিকত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। আমি অনেককে দেখেছি বড় বড় ব্যারিস্টার, সেই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ক্যারকেচার করে-তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভীষণ রাগ লাগে। যদি বয়স থাকতো রাস্তায় নামতাম।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমাদের যা থাকার কথা ছিল তা থাকিনি। এ ১৭ বছরে একটি দল আমাদের শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা নিয়ে, তারা দাবি করেছে মুক্তিযুদ্ধ তাদের একমাত্র সম্পদ। সেই যুদ্ধে শুধু আওয়ামী লীগ করেনি, আমি টুকু যুদ্ধ করেছি-আমি ভাসানী ন্যাপ করতাম। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ যুদ্ধ করেছে। সেই জন্য এটাকে বলা হয় জনযুদ্ধ। কিন্তু আপনারা আওয়ামী লীগের মালিকানার শিকার হয়ে গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম পেয়েছিলেন। যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেদিন থেকেই জিয়াউর রহমানকে বাংলার মানুষ চেনে। যাদের নেতা বানিয়েছিলেন, যাদের ভোট দিয়েছিলেন যুদ্ধের সময় তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ২৭ মার্চ ট্রানজিস্টারের মাধ্যমে একটি আওয়াজ ভেসে আসলো, স্পষ্ট শুনতে পারছিলাম না। তবে এটা বুঝতে পারলাম মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ যখন হতাশ হয়ে গিয়েছিল, জিয়াউর রহমানের এ ঘোষণায় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। সেটাই ছিল আমাদের প্রত্যেকের সাহসের জায়গা।

তিনি বলেন, যাদের ভোট দিয়েছিলাম তারা কলকাতায় চলে গিয়েছিল। আর যাকে নেতা বানিয়েছিলাম, এখনো তাকে যারা জাতির পিতা মনে করেন, তিনি কিন্তু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি পাকিস্তান চলে গেলেন। তাতে কিন্তু বাঙালি দমেনি। শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাঙালি সেনাবাহিনী যুদ্ধে নেমে পড়ে। ৯ মাস সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আজকে সেই জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করে শেখ হাসিনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি : বিদ্যুৎমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের আত্মার দাবি, নিজের অস্তিত্ব, নিজের পতাকা নিজের মাটির জন্য। কাজেই এগুলো নিয়ে যারা সমালোচনা করে আমি মনে করি তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না এবং কোনোদিনই করবে না। তাদের মানতে হবে এদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, লাখো মানুষ রক্ত দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করেছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ছেলেরা। তারা কিন্তু চিন্তা করেনি, আমি মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে কি পাবো। আর কি পাবো এ চিন্তা করে যুদ্ধে গেলে সেই যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না। যুদ্ধ সবসময় নিঃস্বার্থ হয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য একটা শক্তির উত্থান হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য হয়েছিল না। ধর্মের ওপর ভিত্তি করে একটা রাষ্ট্র হয়েছিল এবং একটা ভৌগলিক একটা ইউনিক রাষ্ট্র হয়েছিল যা দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবধান ছিল হাজার হাজার মাইল।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মভিত্তিক দেশ করার পরে তখন শোষণ হয়েছিল, আমাদের ভাষার মিল ছিল না, আমাদের খাবার-দাবারের মিল ছিল না, লেখাপড়ার মিল ছিল না। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে সংসার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেয়নি, আমরা আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে স্বাধীন হয়েছি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দুঃখের বিষয় হলো আজকে যখন দেখি একটি অপশক্তি যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, তারা স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করে। আমি কষ্ট পাই, যে স্বাধীন দেশটা আনলাম, যে মানচিত্রটা আনলাম, যে পতাকাটা আনলাম সেই পতাকার তলে, সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষিত হয়েছেন, তারা যখন আমাদের টেলিভিশনগুলোর টকশোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করে। তারা ভুলে যায়, যে মুক্তিযুদ্ধ যাদের অস্তিত্ব তাদের নাগরিকত্ব। সেই নাগরিকত্বকে চ্যালেঞ্জ করে। আমি অনেককে দেখেছি বড় বড় ব্যারিস্টার, সেই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ক্যারকেচার করে-তখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভীষণ রাগ লাগে। যদি বয়স থাকতো রাস্তায় নামতাম।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমাদের যা থাকার কথা ছিল তা থাকিনি। এ ১৭ বছরে একটি দল আমাদের শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা নিয়ে, তারা দাবি করেছে মুক্তিযুদ্ধ তাদের একমাত্র সম্পদ। সেই যুদ্ধে শুধু আওয়ামী লীগ করেনি, আমি টুকু যুদ্ধ করেছি-আমি ভাসানী ন্যাপ করতাম। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ যুদ্ধ করেছে। সেই জন্য এটাকে বলা হয় জনযুদ্ধ। কিন্তু আপনারা আওয়ামী লীগের মালিকানার শিকার হয়ে গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম পেয়েছিলেন। যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেদিন থেকেই জিয়াউর রহমানকে বাংলার মানুষ চেনে। যাদের নেতা বানিয়েছিলেন, যাদের ভোট দিয়েছিলেন যুদ্ধের সময় তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ২৭ মার্চ ট্রানজিস্টারের মাধ্যমে একটি আওয়াজ ভেসে আসলো, স্পষ্ট শুনতে পারছিলাম না। তবে এটা বুঝতে পারলাম মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ যখন হতাশ হয়ে গিয়েছিল, জিয়াউর রহমানের এ ঘোষণায় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। সেটাই ছিল আমাদের প্রত্যেকের সাহসের জায়গা।

তিনি বলেন, যাদের ভোট দিয়েছিলাম তারা কলকাতায় চলে গিয়েছিল। আর যাকে নেতা বানিয়েছিলাম, এখনো তাকে যারা জাতির পিতা মনে করেন, তিনি কিন্তু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি পাকিস্তান চলে গেলেন। তাতে কিন্তু বাঙালি দমেনি। শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাঙালি সেনাবাহিনী যুদ্ধে নেমে পড়ে। ৯ মাস সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আজকে সেই জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করে শেখ হাসিনা।