ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা অনিয়মের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী ‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ ৩ জন তিনদিনের রিমান্ডে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বন্দর অবরোধ বিপজ্জনক পদক্ষেপ: চীন কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী

বেতন-বোনাস পরিশোধে বকেয়া প্রণোদনার পাশাপাশি ‘সফট লোন’ চায় বিজিএমইএ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের চাপ মোকাবিলায় বকেয়া রপ্তানি সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন সংগঠনটির নেতারা।

চিঠিতে সরকারের কাছে রপ্তানি সহায়তা বা প্রণোদনা বাবদ তৈরি পোশাকগুলোর বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দ্রুত ছাড়ের অনুরোধের পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধে সরকারের কাছে আরও ১৪ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ (সফট লোন) প্রদানের অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ অনুরোধ সম্বলিত চিঠি তুলে দেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী।

সাক্ষাৎ শেষে শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তৈরি পোশাক খাতটির প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এখনো বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দিতে যাতে কারখানাগুলো সমস্যায় না পড়ে, সে জন্য দ্রুত এ অর্থ ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ চাওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর হিসাবে, খাতটির এক মাসের মোট বেতন ব্যয় প্রায়৭ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে দুই মাসে প্রয়োজন হবে আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকা। এ অঙ্ক সফট লোন হিসেবে সরবরাহের জন্য চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির এ নেতা।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ, এই দুই মাসে ৬০ দিনের মধ্যে প্রায় ২৫ দিন সরকারি ছুটি ও নির্বাচনি কার্যক্রমে বন্ধ ছিল। ফলে ৩৫ দিন কাজ করে ৬০ দিনের বেতন দেওয়া অনেক কারখানার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।

শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, গভর্নর প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। স্যালারি সাপোর্টের বিষয়ে তিনি (গভর্নর) অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন। গভর্নর কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি এবং প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে দাবি বিজিএমইএর।

প্রণোদনা বিতরণে বর্তমান ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বঞ্চিত হতে পারে এমন আশঙ্কা তুলে ধরে বিজিএমইএ বলেছে, এসএমইর জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি বলেন, বাজেট থেকে যে অর্থ বরাদ্দ আসবে, তার মধ্যে প্রথমে এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট অর্থ অন্য কারখানাগুলোকে দেওয়া যেতে পারে। গভর্নর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। আগামী প্রণোদনা বিতরণ থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি প্রণোদনার অর্থ সরকারই বরাদ্দ দেয় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যাওয়ার কারণ কী, এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ জানায়, তারা আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে এবং অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয়ের জন্য গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে, যা তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রতিবছর ঈদের আগে কেন পোশাক মালিকদের এ ধরনের ঋণ চাহিদা তৈরি হয় এমন প্রশ্নে সংগঠনটির নেতারা বলেন, এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, শ্রমিক অসন্তোষ ও নির্বাচনি পরিস্থিতির প্রভাব শিল্পে পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির প্রভাবেও রপ্তানি খাত চাপে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। গত সাত মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে, এ অবস্থায় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী

বেতন-বোনাস পরিশোধে বকেয়া প্রণোদনার পাশাপাশি ‘সফট লোন’ চায় বিজিএমইএ

আপডেট সময় ০২:৪৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের চাপ মোকাবিলায় বকেয়া রপ্তানি সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন সংগঠনটির নেতারা।

চিঠিতে সরকারের কাছে রপ্তানি সহায়তা বা প্রণোদনা বাবদ তৈরি পোশাকগুলোর বকেয়া ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দ্রুত ছাড়ের অনুরোধের পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধে সরকারের কাছে আরও ১৪ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ (সফট লোন) প্রদানের অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ অনুরোধ সম্বলিত চিঠি তুলে দেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক খান বাবলু ও সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী।

সাক্ষাৎ শেষে শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তৈরি পোশাক খাতটির প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার নগদ প্রণোদনা এখনো বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস দিতে যাতে কারখানাগুলো সমস্যায় না পড়ে, সে জন্য দ্রুত এ অর্থ ছাড়ের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ চাওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর হিসাবে, খাতটির এক মাসের মোট বেতন ব্যয় প্রায়৭ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে দুই মাসে প্রয়োজন হবে আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকা। এ অঙ্ক সফট লোন হিসেবে সরবরাহের জন্য চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনটির এ নেতা।

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ, এই দুই মাসে ৬০ দিনের মধ্যে প্রায় ২৫ দিন সরকারি ছুটি ও নির্বাচনি কার্যক্রমে বন্ধ ছিল। ফলে ৩৫ দিন কাজ করে ৬০ দিনের বেতন দেওয়া অনেক কারখানার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।

শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, গভর্নর প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। স্যালারি সাপোর্টের বিষয়ে তিনি (গভর্নর) অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন। গভর্নর কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি এবং প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে দাবি বিজিএমইএর।

প্রণোদনা বিতরণে বর্তমান ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বঞ্চিত হতে পারে এমন আশঙ্কা তুলে ধরে বিজিএমইএ বলেছে, এসএমইর জন্য আলাদা বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি বলেন, বাজেট থেকে যে অর্থ বরাদ্দ আসবে, তার মধ্যে প্রথমে এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিতরণ করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট অর্থ অন্য কারখানাগুলোকে দেওয়া যেতে পারে। গভর্নর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। আগামী প্রণোদনা বিতরণ থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি প্রণোদনার অর্থ সরকারই বরাদ্দ দেয় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যাওয়ার কারণ কী, এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ জানায়, তারা আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে এবং অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছে। পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয়ের জন্য গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে, যা তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রতিবছর ঈদের আগে কেন পোশাক মালিকদের এ ধরনের ঋণ চাহিদা তৈরি হয় এমন প্রশ্নে সংগঠনটির নেতারা বলেন, এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, শ্রমিক অসন্তোষ ও নির্বাচনি পরিস্থিতির প্রভাব শিল্পে পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির প্রভাবেও রপ্তানি খাত চাপে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। গত সাত মাস ধরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে, এ অবস্থায় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।