ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে সৌদি যুবরাজের মহাপরিকল্পনা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে এবার একটি উচ্চাভিলাষী ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রকল্পের রুট থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াদ এখন ইসরায়েলের পরিবর্তে সিরিয়াকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ গ্রিসের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল দামেস্কের সাথে তার সম্পর্কই জোরদার করতে চাইছে না বরং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করার বার্তাও দিচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিপূর্বেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াদ সিরিয়ার টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিরিয়াকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত করা। মূলত ২০২২ সালে যখন এই ‘ইস্ট টু মেড ডেটা করিডোর’ প্রকল্পের ঘোষণা আসে, তখন সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনা তুঙ্গে ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়াদের এই নীতিগত পরিবর্তন স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এখন আর ইসরায়েলের সাথে কোনো দৃশ্যমান সংযোগ রাখতে ইচ্ছুক নয়। পরিবর্তে তারা সিরিয়াকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। সৌদি আরবের ভিশন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সড়ক, রেল এবং ক্যাবল নেটওয়ার্কের প্রধান পথ হবে দামেস্ক। যদিও গ্রিস ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে একটি নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে বিবেচনা করে। তবুও সৌদি আরবের এই বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব এথেন্সের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইসরায়েলকে বাদ দিয়ে সৌদি যুবরাজের মহাপরিকল্পনা

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে এবার একটি উচ্চাভিলাষী ফাইবার অপটিক ক্যাবল প্রকল্পের রুট থেকে ইসরায়েলকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। দীর্ঘ আলোচনার পর রিয়াদ এখন ইসরায়েলের পরিবর্তে সিরিয়াকে ট্রানজিট দেশ হিসেবে ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ গ্রিসের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল দামেস্কের সাথে তার সম্পর্কই জোরদার করতে চাইছে না বরং আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করার বার্তাও দিচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিপূর্বেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াদ সিরিয়ার টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে প্রায় ৮০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিরিয়াকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত করা। মূলত ২০২২ সালে যখন এই ‘ইস্ট টু মেড ডেটা করিডোর’ প্রকল্পের ঘোষণা আসে, তখন সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনা তুঙ্গে ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়াদের এই নীতিগত পরিবর্তন স্পষ্ট করে দেয় যে তারা এখন আর ইসরায়েলের সাথে কোনো দৃশ্যমান সংযোগ রাখতে ইচ্ছুক নয়। পরিবর্তে তারা সিরিয়াকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। সৌদি আরবের ভিশন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সড়ক, রেল এবং ক্যাবল নেটওয়ার্কের প্রধান পথ হবে দামেস্ক। যদিও গ্রিস ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে একটি নিরাপত্তা ঢাল হিসেবে বিবেচনা করে। তবুও সৌদি আরবের এই বিশাল বিনিয়োগের প্রস্তাব এথেন্সের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।