আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
প্রখ্যাত পরিচালক নীরজ পাণ্ডের নতুন সিনেমা ‘ঘুসখোর পণ্ডিত’ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এ সিনেমা অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ি। তবে এবার আর কোনো প্রশংসায় নয়, বরং গুরুতর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন এ অভিনেতা। ঘুসখোর চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে শুরু হয়েছে চারদিকে সমালোচনা। গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে পড়লেন তিনি।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) টিজার প্রকাশ্যে আসার পর কেন্দ্রের কাছে ‘মুখ পুড়েছে’ নেটফ্লিক্সেরও। আর তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জোড়া মামলার ফলায় বিদ্ধ সিনেমা নির্মাতারা।
‘ঘুসখোর পণ্ডিত’ সিনেমা নিয়ে রাজনৈতিকমহলে উত্তপ্ত শুরু হয়েছে । কথায় বলে— ‘নামে কি আসে যায়?’ অথচ এ নামের জেরেই ঘোর আইনি বিপাকে মনোজ বাজপেয়ির আসন্ন সিনেমা ‘ঘুসখোর পণ্ডিত’। কারণ ‘ঘুসখোর’ শব্দটি নিয়েই যত বিতর্কের ঝড়।
‘ঘুসখোর পণ্ডিত’ নামে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেই মর্মেই দিল্লি হাইকোর্টের মামলার পর উত্তরপ্রদেশেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয়েছে নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত এ সিনেমাটিকে। এবার কেন্দ্রের তরফে নতুন নির্দেশ। সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে সিনেমার প্রচারঝলক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে।
ভারতীয় জনতা পার্টি ও মোদি সরকার সমাজের সব সম্প্রদায়কে সম্মান করে। সমাজের কোনো অংশকে হেয় করার বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনো প্রচেষ্টা আমাদের কাছে একদম গ্রহণযোগ্য নয়।
‘ঘুসখোর পণ্ডিত’ সিনেমায় অজয় দীক্ষিত যাকে ‘পণ্ডিত’ বলে পরিচয় করানো হয়েছে। সেই ব্যক্তি আদতে একজন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ অফিসার। টেবিলের তলা দিয়ে ঘুস নিয়ে কাজ খালাস করতে যার জুড়ি মেলা ভার। আর পরিচালক নীরজ পাণ্ডের ফ্রেমে এহেন চরিত্রে অভিনয় করেই বিপাকে পড়েছেন মনোজ বাজপেয়ি।
তবে আপত্তি যে শুধু গেরুয়া শিবিরের তরফেই উঠেছে, এমনটি নয়। এ সিনেমা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখার অন্যতম ‘ইস্যু’ হয়ে উঠেছে। কারণ যোগীর পাশাপাশি এ সিনেমার নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিরোধী নেত্রী মায়াবতীও।
অন্যদিকে জনৈক সিনিয়র বিজেপি নেতা পিটিআইকে জানিয়েছেন— সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নেটফ্লিক্সকে সিনেমাটির টিজার এবং অন্যান্য সব প্রচারঝলক সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। কারণ যা কিছু সমাজের বিরুদ্ধে, সেটি বিজেপি বরদাশত করবে না।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়াও সেই কথায় সায় দিয়ে বলেন, সেন্সরশিপের বাইরেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রের দ্রুত এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করছি। ‘ঘুসখোর পণ্ডিত’-এর মতো আপত্তিকর বিষয়বস্তু শুধু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশই দেওয়া হয়নি, এর পাশাপাশি এ ঘটনায় এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে।
তাহলে কি এবার নামবদল করে নতুন মোড়কে সিনেমার ঝলক প্রকাশ্যে নিয়ে আসবেন নীরজ পাণ্ডে ও মনোজ বাজপেয়ি? নজর থাকবে সেদিকে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























