আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যম নয়, বরং এর মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা।
তিনি ঢাকা-৯ আসনে নাগরিকের জীবনমানের উন্নয়নে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক নির্মূল এবং বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারবেন। নাগরিকরা সেবা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে না, বরং এগুলোই তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তাসনিম জারা বলেন, ছয়টা সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ইশতেহার দিয়েছি। ইশতেহারগুলো সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যে সব সমস্যার সম্মুখীন হয় তার সমাধান করবে। আর সাধারণ মানুষ এগুলো আমাকে ইশতেহারে যুক্ত করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
গ্যাস ও নাগরিক সেবা: আমার নির্বাচনি আসন যদিও শহরের প্রাণ কেন্দ্র তারপরও মানুষ যখন চুলা জ্বালায় রান্না করার জন্য গ্যাস বের হয় না। তবে মাসে মাসে বিলটা ঠিকই দিতে হয়। আমার প্রস্তাবনা হচ্ছে- সংসদে গিয়ে ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির পক্ষে আইন প্রস্তাব আনবো। এছাড়াও পাইপলাইনে গ্যাস দিতে যদি ব্যর্থ হয় তাহলে এলাকায় যাতে ভর্তুকি বা ন্যায্য দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করে। জলাবদ্ধতার সমাধান- আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যাতে আধুনিকায়ন হয় সেজন্য ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনের উপর নজরদারি রাখব। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা- এক্ষেত্রে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন অর্থাৎ আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করব।
স্বাস্থ্য প্রতিরোধ ও প্রস্তুতিতে জোর: আমার আসনে প্রায় ছয়-সাত লাখেরও বেশি মানুষ থাকে তবে এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য মাত্র একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। আর এই মুগদা হাসপাতালে জনবলের সংকট আছে, যন্ত্রপাতি সংকট আছে, রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়, অব্যবস্থাপনা আছে। এই মেডিকেলে যাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকে, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ হয় সেজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমি যোগাযোগ রাখব। আমাদের যে পাড়ার ক্লিনিকগুলো আছে, সেগুলো যাতে আধুনিকায়ন করতে পারি সেটার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেব যাতে এই ক্লিনিকগুলো মিনি হাসপাতালের মত হয়ে যায়।
মাদক নয়, আলো চাই: আমাদের এলাকার মাদকের প্রাদুর্ভাব আছে এবং এটা নিরাপত্তার জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। যারা মাদকাসক্ত আছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ করিডোরের কথা বলছি, অর্থাৎ স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টসের রাস্তায় আমরা সিসিটিভি ক্যামেরা পোস্ট বসাব। পাশাপাশি গণপরিবহণে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ও সম্মানজনক যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা থাকবে না: স্কুলে ভর্তিতে এমপির (সংসদ সদস্য) কোনো কোটা বা সুপারিশ থাকবে না; মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। এছাড়া স্কুলে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, কোডিং ক্লাব ও লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থনীতিতে সুযোগ হবে সবার: অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানত ছাড়া সহজ শর্তে ঋণ ও স্টার্টআপ ফান্ড চালু করা হবে।
নো প্রটোকল: আমার সঙ্গে দেখা করতে কোনো ‘ভাই’ বা ‘নেতা’ ধরার প্রয়োজন হবে না। নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় একটি অফিস চালু করা হবে, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে। নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি জানতে একটি ডিজিটাল ওপেন ড্যাশবোর্ড চালু করব।
নির্বাচনি আচরণবিধি নিয়ে তাসনিম জারা বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা প্রচারণার কাজ করছেন তাদের প্রত্যেককেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওখানে আমরা আচরণবিধি নিয়ে জানাই এবং কীভাবে ক্যাম্পেইনটা করবে, মানুষের কাছে যাবে, সেটা শেখানো হয়। আপনারা দেখবেন যে, আমরা আমাদের ক্যাম্পেইনটা খুব সচেতনভাবে করছি। কোথাও আমার একটা পোস্টার দেখবেন না। আমরা কোথাও কোনো রঙিন বিলবোর্ড করিনি। কোন পিভিসি করিনি। একেবারেই আচরণবিধিতে যা আছে সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।
জুলাই সনদ বিষয়ে তাসনিম জারা: আমার অবস্থান ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আমি যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি, তখন তাদের বলছি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে।
খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা নিয়ে ঢাকা-৯ আসন গঠিত। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৩ জন আর নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















