ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

রোহিঙ্গা শিবিরে আরও ১০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনাদের নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে হাজারো রোহিঙ্গা। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরুর পর টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৬১ হাজার রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে ৭৫ ভাগই নারী ও শিশু। যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ১০ হাজার।

মংডু সীমান্ত দিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ দিয়ে মূলত বাংলাদেশে প্রবেশ করে রোহিঙ্গারা। শাহপরীর দ্বীপ হয়ে টেকনাফে প্রবেশের পর দেখা মিলবে নয়াপাড়া সেনা ক্যাম্পের। সেনাদের দায়িত্বে প্রথমে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় রোহিঙ্গাদের। পরে সেখানে নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, শিশুদের পোলিও খাওয়ানো, টিকা, শুকনো খাবার দেয়া ও গাড়ির ব্যবস্থা করে শরণার্থী শিবিরগুলোয় পাঠানো হয়।

টেকনাফ নয়াপাড়া সেনা ক্যাম্পের তথ্যমতে, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রবেশ করছে হাজারো রোহিঙ্গা। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৬১ হাজার রোহিঙ্গা। সীমান্ত দিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গার ৭৫ ভাগই হচ্ছে নারী ও শিশু। অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা ১০ হাজার ও নবজাতক ১০ জন, শূন্য থেকে ৫ বছরের প্রায় ২২ হাজার শিশুকে টিকা (ভ্যাকসিনেশন) দেয়া হয়েছে ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া ৫ বছরের অধিক বয়সী কয়েক হাজার শিশুকে পোলিও, ধনুষ্টংকার, রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।

টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভপাত হওয়া খালেদা বেগম দৈনিক আকাশকে জানান, তিনি তিন সন্তানের জননী। এটি তার চতুর্থ সন্তান। বাড়ি রাখাইনে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি ও তার স্বামী মো. সোলাইমান তিন বাচ্চাকে নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। টেকনাফ ক্যাম্পে আসার পর বাচ্চাদের টিকা দেয়া হয়েছে, নিজেও চিকিৎসা নিয়েছেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাতে রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরএসএ)। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্যসহ ৮৯ জন মারা যান বলে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য।

এর পরই রাজ্যটিতে শুরু হয় সেনা অভিযান।অভিযানে হাজারো অধিক নিরীহ রোহিঙ্গা মারা গেছেন। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখেরো অধিক রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

রোহিঙ্গা শিবিরে আরও ১০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী

আপডেট সময় ১১:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের সেনাদের নির্মম নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই বাংলাদেশে প্রবেশ করছে হাজারো রোহিঙ্গা। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরুর পর টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৬১ হাজার রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে ৭৫ ভাগই নারী ও শিশু। যার মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা নারী ১০ হাজার।

মংডু সীমান্ত দিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ দিয়ে মূলত বাংলাদেশে প্রবেশ করে রোহিঙ্গারা। শাহপরীর দ্বীপ হয়ে টেকনাফে প্রবেশের পর দেখা মিলবে নয়াপাড়া সেনা ক্যাম্পের। সেনাদের দায়িত্বে প্রথমে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় রোহিঙ্গাদের। পরে সেখানে নিবন্ধন, প্রাথমিক চিকিৎসা, শিশুদের পোলিও খাওয়ানো, টিকা, শুকনো খাবার দেয়া ও গাড়ির ব্যবস্থা করে শরণার্থী শিবিরগুলোয় পাঠানো হয়।

টেকনাফ নয়াপাড়া সেনা ক্যাম্পের তথ্যমতে, টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন প্রবেশ করছে হাজারো রোহিঙ্গা। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৬১ হাজার রোহিঙ্গা। সীমান্ত দিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গার ৭৫ ভাগই হচ্ছে নারী ও শিশু। অন্তঃসত্ত্বা নারীর সংখ্যা ১০ হাজার ও নবজাতক ১০ জন, শূন্য থেকে ৫ বছরের প্রায় ২২ হাজার শিশুকে টিকা (ভ্যাকসিনেশন) দেয়া হয়েছে ও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া ৫ বছরের অধিক বয়সী কয়েক হাজার শিশুকে পোলিও, ধনুষ্টংকার, রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের টিকা দেয়া হয়েছে।

টেকনাফ নয়াপাড়া ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভপাত হওয়া খালেদা বেগম দৈনিক আকাশকে জানান, তিনি তিন সন্তানের জননী। এটি তার চতুর্থ সন্তান। বাড়ি রাখাইনে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি ও তার স্বামী মো. সোলাইমান তিন বাচ্চাকে নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। টেকনাফ ক্যাম্পে আসার পর বাচ্চাদের টিকা দেয়া হয়েছে, নিজেও চিকিৎসা নিয়েছেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাতে রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরএসএ)। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্যসহ ৮৯ জন মারা যান বলে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য।

এর পরই রাজ্যটিতে শুরু হয় সেনা অভিযান।অভিযানে হাজারো অধিক নিরীহ রোহিঙ্গা মারা গেছেন। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখেরো অধিক রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।