ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম খুলনার তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিলেন মা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রীর জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে: ট্রাম্প

হাইকমিশনে হামলা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ নয় : নাহিদ ইসলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার দায় ভারত সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটা দেশের হাইকমিশনে এভাবে আক্রমণ কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। আমরা বলব এই ঘটনায় ভারত সরকার কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ দায় আমরা ভারতকেই দিচ্ছি।’

বুধবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, ‘আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকা জোর করে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুঃখ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। এমন কী আমরা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের মিডিয়া যে এতদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, এটা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছাড়া হয় না। ফলে আমরা মনে করি, ভারত সরকারের এখানে দায় আছে। তারা দায়িত্বশীল আচরণ তখন থেকেই করেনি, এমনকি তারা উল্টো একটা বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা করেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রিপুরা, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। এমনকি ছাত্রজনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও কলকাতা, যাদবপুর এবং দিল্লির মানুষ শেখ হাসিনার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে আমাদের যে একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সেটা হয়ত অনেকেই চায় না, সারা বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের সঙ্গে বিভাজন তৈরি করতে চায়।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারতকে বলব এই বিভাজনের রাজনীতিতে না গিয়ে বরং একটা সৌহার্দ্যের রাজনীতিতে আসুন। একটি দেশের হাইকমিশনে গিয়ে আক্রমণ কোনো সময়েই কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের একটা ক্ষোভ রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশে যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ছিল, তাদেরকে ভারত নিঃশর্তভাবে সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ভোট চুরি করেছে, গুম-খুন করেছে এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এতকিছুর পরও ভারতের কিন্তু এ সমস্ত বিষয়ে বক্তব্য নেই বরং সেই হত্যাকারীদের প্রধানকে তারা নিজেদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। এসব কারণে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।’

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে আহ্বান জানাই- আমরা কোনো দেশ নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াব না। কোনো রাষ্ট্রের পতাকাকে আমরা অবমাননা করব না এবং ভারতের উচিত বাংলাদেশের মানুষের এই ক্ষোভ দূরীকরণে তাদের নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য ও তথ্য না ছড়িয়ে বরং বাংলাদেশ যে নতুন করে গঠন হচ্ছে, সেখানে আমাদের সহযোগিতা করুন। ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায় বাংলাদেশ।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ

হাইকমিশনে হামলা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ নয় : নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ১০:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার দায় ভারত সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটা দেশের হাইকমিশনে এভাবে আক্রমণ কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। আমরা বলব এই ঘটনায় ভারত সরকার কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ দায় আমরা ভারতকেই দিচ্ছি।’

বুধবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, ‘আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকা জোর করে নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুঃখ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। এমন কী আমরা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের মিডিয়া যে এতদিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, এটা কিন্তু রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছাড়া হয় না। ফলে আমরা মনে করি, ভারত সরকারের এখানে দায় আছে। তারা দায়িত্বশীল আচরণ তখন থেকেই করেনি, এমনকি তারা উল্টো একটা বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা করেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রিপুরা, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। এমনকি ছাত্রজনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও কলকাতা, যাদবপুর এবং দিল্লির মানুষ শেখ হাসিনার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে আমাদের যে একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সেটা হয়ত অনেকেই চায় না, সারা বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের সঙ্গে বিভাজন তৈরি করতে চায়।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভারতকে বলব এই বিভাজনের রাজনীতিতে না গিয়ে বরং একটা সৌহার্দ্যের রাজনীতিতে আসুন। একটি দেশের হাইকমিশনে গিয়ে আক্রমণ কোনো সময়েই কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের একটা ক্ষোভ রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশে যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ছিল, তাদেরকে ভারত নিঃশর্তভাবে সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ভোট চুরি করেছে, গুম-খুন করেছে এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এতকিছুর পরও ভারতের কিন্তু এ সমস্ত বিষয়ে বক্তব্য নেই বরং সেই হত্যাকারীদের প্রধানকে তারা নিজেদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে। এসব কারণে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক।’

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে আহ্বান জানাই- আমরা কোনো দেশ নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াব না। কোনো রাষ্ট্রের পতাকাকে আমরা অবমাননা করব না এবং ভারতের উচিত বাংলাদেশের মানুষের এই ক্ষোভ দূরীকরণে তাদের নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য ও তথ্য না ছড়িয়ে বরং বাংলাদেশ যে নতুন করে গঠন হচ্ছে, সেখানে আমাদের সহযোগিতা করুন। ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চায় বাংলাদেশ।’