ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি : জামায়াত আমির বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ : মির্জা আব্বাস ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন

প্রবারণা পূর্ণিমায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমায় মিয়ামারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য করা হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকারের দমন নীতির সমালোচনা করে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমার যা করেছে, তা গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতির পরিপন্থি।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আলোচনা সভায় বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি অসীম রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, “৯০ শতাংশ বৌদ্ধদের দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, আমরা তার নিন্দা জানাই।

“গৌতম বুদ্ধের মূল নীতি ছিল, অহিংসা পরম ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মের মূল নীতিতে মিয়ানমার আঘাত হেনেছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা।”

বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত এক মাসে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর হামলার প্রতিবাদে এবার বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা থেকে ফানুস উৎসব বন্ধ রেখেছে। প্রবারণার সন্ধ্যায় ফানুস উৎসব বৌদ্ধদের ধর্মীয় আচারের একটি অংশ।

বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া জানান, প্রবারণা পূর্ণিমায় সংগৃহীত অর্থ তারা রোহিঙ্গাদের জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলে দেবেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূজার মাধ্যমে শুরু হয় প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা, পরে শীল গ্রহণ, অষ্ট পরিকাসহ মহাসংঘ দান, ভিক্ষু সংঘের পিন্ড দান গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

প্রবারণার সকালে নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে নানা প্রকার খাদ্য-ভোজ্য , ফলমূল, দীপ-ধূপ, পুষ্পাদি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ বিহারে আসতে শুরু করেন বৌদ্ধরা। এদিন যাদের পক্ষে সম্ভব তারা উপো শীল পালন করে ও অন্যরা পঞ্চশীল গ্রহণ করে। পঞ্চশীল গ্রহণের সময় বৌদ্ধরা প্রতিজ্ঞা করেছেন, প্রাণিহত্যা, চৌর্যবৃত্তি, ব্যভিচার, মিথ্যাভাষণ ও নেশাদ্রব্যসেবন থেকে তারা বিরত থাকবেন।

বিকালে ‘প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উপাধাক্ষ্য বুদ্ধানন্দ মহাথের ও ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় ধর্ম নির্দেশনা দান করেন। আলোচনা সভার সভাপতি বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের প্রবারণার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো নির্বাণ লাভ। দানশীল, ক্ষমাশীল হয়ে নির্বাণ লাভই মানবজীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

“এই প্রবারণা পূর্ণিমায় আমরা চিত্তকে সংযত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে জীবনকে সুন্দর পথে পরিচালিত করার দীক্ষা নেই। সংসারে থেকেও সত্যের মধ্যে যে জীবনকে দেখে তিনিই তো প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধের দেখা পান।”

ঢাকার বাইরে অন্য স্থানেও এবার প্রবারণ পূর্ণিমা জমকালোভাবে পালন করেননি বৌদ্ধরা। কয়েকটি স্থানে ফানুস উড়লেও তা ছিল অন্য বছরের তুলনায় কম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি হতে দেখা যাচ্ছে: তারেক রহমান

প্রবারণা পূর্ণিমায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০২:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমায় মিয়ামারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য করা হয়েছে বিশেষ প্রার্থনা। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকারের দমন নীতির সমালোচনা করে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমার যা করেছে, তা গৌতম বুদ্ধের অহিংস নীতির পরিপন্থি।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আলোচনা সভায় বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সভাপতি অসীম রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, “৯০ শতাংশ বৌদ্ধদের দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, আমরা তার নিন্দা জানাই।

“গৌতম বুদ্ধের মূল নীতি ছিল, অহিংসা পরম ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মের মূল নীতিতে মিয়ানমার আঘাত হেনেছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা।”

বৌদ্ধ প্রধান দেশ মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত এক মাসে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর হামলার প্রতিবাদে এবার বাংলাদেশের সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজ বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা থেকে ফানুস উৎসব বন্ধ রেখেছে। প্রবারণার সন্ধ্যায় ফানুস উৎসব বৌদ্ধদের ধর্মীয় আচারের একটি অংশ।

বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া জানান, প্রবারণা পূর্ণিমায় সংগৃহীত অর্থ তারা রোহিঙ্গাদের জন্য গঠিত ত্রাণ তহবিলে দেবেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূজার মাধ্যমে শুরু হয় প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা, পরে শীল গ্রহণ, অষ্ট পরিকাসহ মহাসংঘ দান, ভিক্ষু সংঘের পিন্ড দান গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

প্রবারণার সকালে নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে নানা প্রকার খাদ্য-ভোজ্য , ফলমূল, দীপ-ধূপ, পুষ্পাদি নিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ বিহারে আসতে শুরু করেন বৌদ্ধরা। এদিন যাদের পক্ষে সম্ভব তারা উপো শীল পালন করে ও অন্যরা পঞ্চশীল গ্রহণ করে। পঞ্চশীল গ্রহণের সময় বৌদ্ধরা প্রতিজ্ঞা করেছেন, প্রাণিহত্যা, চৌর্যবৃত্তি, ব্যভিচার, মিথ্যাভাষণ ও নেশাদ্রব্যসেবন থেকে তারা বিরত থাকবেন।

বিকালে ‘প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মেরুল বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উপাধাক্ষ্য বুদ্ধানন্দ মহাথের ও ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় ধর্ম নির্দেশনা দান করেন। আলোচনা সভার সভাপতি বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের প্রবারণার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো নির্বাণ লাভ। দানশীল, ক্ষমাশীল হয়ে নির্বাণ লাভই মানবজীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

“এই প্রবারণা পূর্ণিমায় আমরা চিত্তকে সংযত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে জীবনকে সুন্দর পথে পরিচালিত করার দীক্ষা নেই। সংসারে থেকেও সত্যের মধ্যে যে জীবনকে দেখে তিনিই তো প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধের দেখা পান।”

ঢাকার বাইরে অন্য স্থানেও এবার প্রবারণ পূর্ণিমা জমকালোভাবে পালন করেননি বৌদ্ধরা। কয়েকটি স্থানে ফানুস উড়লেও তা ছিল অন্য বছরের তুলনায় কম।