ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

ফরিদপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল, বিচারক জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সরোয়ার শেখ (৩৫)। তিনি মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখের একমাত্র সন্তান। পেশায় ভ্যানচালক।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সরোয়ার শেখের মাতা ছাহেরা বেগম (৫৫) এবং মামা ওবায়দুল শেখ (৪৫) ও আলিয়ার শেখ (৬০)।

নিহত ওই গৃহবধূ ফরিদা বেগম উপজেলার বাগাট গ্রামের রাশেদ শেখ ও মর্জিনা বেগমের বড় মেয়ে ছিলেন। ২০১৭ সালের ৬ জুলাই ফরিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ১৩ দিন পরে ফরিদার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে তার মেয়ে তাকে মোবাইলে ফোন করে জানায়, ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য তার স্বামী তাকে মারপিট করছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি লোক মারফত খবর পান যে, তার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি মেয়েকে জামাইয়ের বাড়ির বারান্দায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি মেয়ের গলায় ফোলা ও কাপড় পেঁচানো দাগ দেখতে পান।

এ ঘটনার পর পুলিশ আলামত জব্দ করে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এবং মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে।

এদিকে লাশের ময়নাতদন্তে গৃহবধূ ফরিদাকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়। এ অবস্থায় আদালতে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান ইতোপূর্বে দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে।

মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিহতের গলায় চারটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে গলাটিপে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয় এতে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামি সরোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০’ এর ১১(ক) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় উল্লিখিত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো।

এছাড়া আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। আসামির গলায় রশি লাগিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হোক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আসামি ছাহেরা বেগম, মো. ওলিয়ার শেখ এবং ওবায়দুল শেখগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত করতে না পারায় তাদের খালাস প্রদান করা হলো। মামলায় মোট নয়জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট স্বপন পাল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বপন পাল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

ফরিদপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:৫১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল, বিচারক জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. সরোয়ার শেখ (৩৫)। তিনি মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখের একমাত্র সন্তান। পেশায় ভ্যানচালক।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সরোয়ার শেখের মাতা ছাহেরা বেগম (৫৫) এবং মামা ওবায়দুল শেখ (৪৫) ও আলিয়ার শেখ (৬০)।

নিহত ওই গৃহবধূ ফরিদা বেগম উপজেলার বাগাট গ্রামের রাশেদ শেখ ও মর্জিনা বেগমের বড় মেয়ে ছিলেন। ২০১৭ সালের ৬ জুলাই ফরিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ১৩ দিন পরে ফরিদার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মধুখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে তার মেয়ে তাকে মোবাইলে ফোন করে জানায়, ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য তার স্বামী তাকে মারপিট করছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি লোক মারফত খবর পান যে, তার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি মেয়েকে জামাইয়ের বাড়ির বারান্দায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনি মেয়ের গলায় ফোলা ও কাপড় পেঁচানো দাগ দেখতে পান।

এ ঘটনার পর পুলিশ আলামত জব্দ করে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এবং মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে।

এদিকে লাশের ময়নাতদন্তে গৃহবধূ ফরিদাকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়। এ অবস্থায় আদালতে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান ইতোপূর্বে দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে।

মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিহতের গলায় চারটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে গলাটিপে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয় এতে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামি সরোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০’ এর ১১(ক) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় উল্লিখিত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো।

এছাড়া আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। আসামির গলায় রশি লাগিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হোক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আসামি ছাহেরা বেগম, মো. ওলিয়ার শেখ এবং ওবায়দুল শেখগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত করতে না পারায় তাদের খালাস প্রদান করা হলো। মামলায় মোট নয়জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট স্বপন পাল।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বপন পাল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

তিনি বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে।