ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু

রিজার্ভে টান পড়ায় বিদ্যুৎ সংকট : টুকু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সত্ত্বেও সরকারকে কেন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তে আসতে হলো? আসলে সরকার সংকট মোকাবেলা করার জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করেনি। এটা করেছে- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ার কারণে। ডলার সংকটের কারণে তেল, গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ হলে আমদানিও কম লাগবে। সেজন্যই এই লোডশেডিং।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার এতো ঢোল পেটালো সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক-কেও ছাড়িয়ে গেছি আমরা, সেই রিজার্ভ এখন কোথায়? হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল কেন? আজকে দেশ অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে দাঁড়িয়ে গেছে। এটার জন্য সরকারই পুরোপুরি দায়ী।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগে লোডশেডিংয়ে মানুষকে পে করতে হয়নি। এখন মিউজিয়ামে যাওয়া লোডশেডিংকে ফেরত এনে জনগণকে পে করতে হচ্ছে। লোডশেডিং সত্ত্বেও কেন মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে- সেটিই বড় প্রশ্ন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় বলা ছিল ৬৪ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে, আর ৩৬ ভাগ থাকবে বেসরকারি হাতে। কিন্তু সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্লান্টগুলো বেসরকারি সেক্টরে দিয়ে দিল। সবকিছু মিলে আমি মনে করি এই পরিকল্পনা খারাপ ছিল। দূরভিসন্ধিমূলক ছিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। যার ফলে আমাদের বিদ্যুতের যে আইন, সেগুলো জলাঞ্জলি দিয়ে সংসদে আইন পাশ করে যাকে ইচ্ছে তাকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়লো। কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

ইকবাল হাসান বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো তাহলে আজকের পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্ধকারে থেকেও মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যেটি অতীতে দিতে হয়নি। দুর্নীতিপুষ্ট প্রকল্পগুলো করে, আনন্দ-ফূর্তি করে সরকার সবাইকে দেখানোর চেষ্টা করছে। এটা এই সরকারের ‘প্রচারেই প্রসার’ পলিসি। যার ফলে আজ আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। আমাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা যাবে পাওয়ার স্টেশন মালিকদের কাছে। তারা পাওয়ার স্টেশন না চালিয়ে টাকা নিয়ে যাবে। আর শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ। এই যে সরকার অনিয়মটা করে গেল, এটা আমাদের দেশ ও জাতিকে অনেকদিন বহন করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান

রিজার্ভে টান পড়ায় বিদ্যুৎ সংকট : টুকু

আপডেট সময় ১১:২৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন সত্ত্বেও সরকারকে কেন এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্তে আসতে হলো? আসলে সরকার সংকট মোকাবেলা করার জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করেনি। এটা করেছে- বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ার কারণে। ডলার সংকটের কারণে তেল, গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ হলে আমদানিও কম লাগবে। সেজন্যই এই লোডশেডিং।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার এতো ঢোল পেটালো সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক-কেও ছাড়িয়ে গেছি আমরা, সেই রিজার্ভ এখন কোথায়? হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল কেন? আজকে দেশ অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে দাঁড়িয়ে গেছে। এটার জন্য সরকারই পুরোপুরি দায়ী।

এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আগে লোডশেডিংয়ে মানুষকে পে করতে হয়নি। এখন মিউজিয়ামে যাওয়া লোডশেডিংকে ফেরত এনে জনগণকে পে করতে হচ্ছে। লোডশেডিং সত্ত্বেও কেন মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে- সেটিই বড় প্রশ্ন।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় বলা ছিল ৬৪ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে, আর ৩৬ ভাগ থাকবে বেসরকারি হাতে। কিন্তু সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্লান্টগুলো বেসরকারি সেক্টরে দিয়ে দিল। সবকিছু মিলে আমি মনে করি এই পরিকল্পনা খারাপ ছিল। দূরভিসন্ধিমূলক ছিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। যার ফলে আমাদের বিদ্যুতের যে আইন, সেগুলো জলাঞ্জলি দিয়ে সংসদে আইন পাশ করে যাকে ইচ্ছে তাকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়লো। কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।

ইকবাল হাসান বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো তাহলে আজকের পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। অন্ধকারে থেকেও মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যেটি অতীতে দিতে হয়নি। দুর্নীতিপুষ্ট প্রকল্পগুলো করে, আনন্দ-ফূর্তি করে সরকার সবাইকে দেখানোর চেষ্টা করছে। এটা এই সরকারের ‘প্রচারেই প্রসার’ পলিসি। যার ফলে আজ আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। আমাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা যাবে পাওয়ার স্টেশন মালিকদের কাছে। তারা পাওয়ার স্টেশন না চালিয়ে টাকা নিয়ে যাবে। আর শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ। এই যে সরকার অনিয়মটা করে গেল, এটা আমাদের দেশ ও জাতিকে অনেকদিন বহন করতে হবে।