ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে: মির্জা ফখরুল জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেতনা হিসেবে কাজ করবে জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির আপনি কি মুসলিম, উত্তর দিতেই ভারতীয়কে ১৫ বার ছুরিকাঘাত যুক্তরাষ্ট্রে মিয়ানমার উপকূলে শরণার্থীবোঝাই দুটি নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর মোজাফফর আটক সৌদি আরবে মেশিনে কাটা পড়ে কুমিল্লা প্রবাসীর মৃত্যু চেক ডিজঅনার মামলায় সালমান এফ রহমানের জামিন শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্কুলছাত্রকে হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দুজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার মিরপুরে স্কুলছাত্র দেবদত্ত (৯) হত্যা মামলায় এক আসামিকে ফাঁসি এবং দুইজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মল্লিক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের তুফান মল্লিকের ছেলে। তাকে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং উক্ত ধারায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি সবুজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হাবিবুর রহমান হাব্বুল এবং এরশাদ আলী। হাবিবুর রহমান হাব্বুল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের আমান আলীর ছেলে। এরশাদ একই গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে। তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাব্বুলকে এক লাখ ৫০ হাজার এবং এরশাদ আলীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নিহত দেবদত্ত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিথা গ্রামের পবিত্র দত্তের ছেলে এবং চিথলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের আলোচিত স্কুলছাত্র দেবদত্ত অপহরণ ও হত্যা মামলার আসামি নাঈম ইসলাম (২৭) ও জোয়ার আলী (২৮) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। ২৬ জুন উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের আমতলা মাঠে ও চিথলিয়া প্রবেশমুখ হাবাতগাড়ী ব্রিজের পাশে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত নাঈম ইসলাম মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিথাপাড়ার জহুরুল ইসলামের ছেলে ও জোয়ার আলী একই গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৭ জুন দুপুরে চিথলিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ির শৌচাগারের পাশে গর্ত খুঁড়ে দেবদত্তের হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।

এর আগে ২০১৮ সালের ৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেবদত্ত (৯) প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে তার পরিবার জানতে পারে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী রাস্তা থেকে দেবকে তুলে নিয়ে যায়। ওই দিন বিকেলে তার বাবা স্কুলশিক্ষক পবিত্র দত্তের মুঠোফোনে অপহরণকারীরা ফোন করে অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনায় ১১ জুন দেবদত্তের বাবা পবিত্র দত্ত বাদী হয়ে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রোববার আদালত এ রায় দেন।

এদিকে দেবদত্তের পরিবার ও স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার বলেন, দেবদত্তকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে আসামিরা। আদালতে মামলার কার্যক্রম শেষে আসামিদের ফাঁসি ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে আমরা খুবই খুশি। তবে সবার ফাঁসি হলে আমরা আরও বেশি খুশি হতাম। তারা পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, অপহরণের পর হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সবুজকে ফাঁসি এবং হাবিবুর রহমান ও এরশাদ আলীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। হাবিবুর রহমান ও এরশাদ আলী পলাতক রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করলে ব্যবস্থা: ডিএমপি

স্কুলছাত্রকে হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসি, দুজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৮:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুষ্টিয়ার মিরপুরে স্কুলছাত্র দেবদত্ত (৯) হত্যা মামলায় এক আসামিকে ফাঁসি এবং দুইজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মল্লিক কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের তুফান মল্লিকের ছেলে। তাকে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং উক্ত ধারায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি সবুজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- হাবিবুর রহমান হাব্বুল এবং এরশাদ আলী। হাবিবুর রহমান হাব্বুল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের আমান আলীর ছেলে। এরশাদ একই গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে। তারা দুজনই পলাতক রয়েছেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাব্বুলকে এক লাখ ৫০ হাজার এবং এরশাদ আলীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নিহত দেবদত্ত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিথা গ্রামের পবিত্র দত্তের ছেলে এবং চিথলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের আলোচিত স্কুলছাত্র দেবদত্ত অপহরণ ও হত্যা মামলার আসামি নাঈম ইসলাম (২৭) ও জোয়ার আলী (২৮) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। ২৬ জুন উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের আমতলা মাঠে ও চিথলিয়া প্রবেশমুখ হাবাতগাড়ী ব্রিজের পাশে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত নাঈম ইসলাম মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিথাপাড়ার জহুরুল ইসলামের ছেলে ও জোয়ার আলী একই গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৭ জুন দুপুরে চিথলিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ির শৌচাগারের পাশে গর্ত খুঁড়ে দেবদত্তের হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।

এর আগে ২০১৮ সালের ৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দেবদত্ত (৯) প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে তার পরিবার জানতে পারে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী রাস্তা থেকে দেবকে তুলে নিয়ে যায়। ওই দিন বিকেলে তার বাবা স্কুলশিক্ষক পবিত্র দত্তের মুঠোফোনে অপহরণকারীরা ফোন করে অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনায় ১১ জুন দেবদত্তের বাবা পবিত্র দত্ত বাদী হয়ে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৭ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রোববার আদালত এ রায় দেন।

এদিকে দেবদত্তের পরিবার ও স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার বলেন, দেবদত্তকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে আসামিরা। আদালতে মামলার কার্যক্রম শেষে আসামিদের ফাঁসি ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে আমরা খুবই খুশি। তবে সবার ফাঁসি হলে আমরা আরও বেশি খুশি হতাম। তারা পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, অপহরণের পর হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সবুজকে ফাঁসি এবং হাবিবুর রহমান ও এরশাদ আলীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। ফাঁসির রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। হাবিবুর রহমান ও এরশাদ আলী পলাতক রয়েছে।