ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় ৯৫ লাখ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হাইকোর্টে দুর্নীতির ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে। এই ঘটনায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ।

আসামিরা হলেন- রাজশাহীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর মিঠুর মোড় এলাকার একেএম মোতাহারুল ইসলামের ছেলে তাসফিন আহমেদ (৩৩) ও ফয়সাল আহমেদ (৩৮)।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান- এরা দু’জনই ডা. আজিজুল হক আব্দুল্লাহার স্ত্রীর বড় বোনের ছেলে। তাসফিন ও ফয়সাল আত্মীয়তার সূত্র ধরে ডা. আজিজুল হকের বাড়িতে যাওয়া আসা করতেন। আত্মীয়তা ও বিশ্বস্ততার সূত্র ধরে তাসফিন, ফয়সাল ও ফয়সালের ভাইরা রুবেল সরকার রাসেল (৩৩) যোগসাজসে ডা. আজিজুল হককে হাইকোর্টে দুর্নীতির ভুয়া মামলার ভয় দেখানো হয়। তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভুয়া মামলার কাগজ ও আয়করের ভুয়া কাগজপত্রও দেখানো হয়। কাগজ দেখানোর পর রুবেল নিজেকে ডিবি পুলিশের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় দেন। এভাবে তাকে গ্রেফতার ও মামলার হয়রানি থেকে বাঁচানোর নাম করে ১৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে টাকাগুলো নেওয়ার সময় ডা. আজিজুল হককে জানায়, দুর্নীতি দমন ব্যুরো, আয়কর বিভাগ এবং হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে কাগজ বের হতে সময় লাগবে। তাই বিষয়টি গোপন রাখতে হবে এবং কাউকে কিছু জানানো যাবে না। অন্য কেউ জানলে তার ও তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা ডা. আজিজুল হককে ভয় দেখায়।

পরে ডা. আজিজুল হক খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন হাইকোর্টে দুর্নীতি ও আয়করের মামলার বিষয়টি পুরোই ভুয়া। এরা পরস্পর যোগসাজসে তার সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পরে ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর ওই প্রতারিত চিকিৎসক মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ঘটনা তদন্তের নামেন। পরে ঘটনার সত্যতা পান। পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে তাসফিন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান- এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মামলার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় ৯৫ লাখ!

আপডেট সময় ০৫:১৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে হাইকোর্টে দুর্নীতির ভুয়া মামলার ভয় দেখিয়ে এক চিকিৎসকের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে। এই ঘটনায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজপাড়া থানা পুলিশ।

আসামিরা হলেন- রাজশাহীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর মিঠুর মোড় এলাকার একেএম মোতাহারুল ইসলামের ছেলে তাসফিন আহমেদ (৩৩) ও ফয়সাল আহমেদ (৩৮)।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান- এরা দু’জনই ডা. আজিজুল হক আব্দুল্লাহার স্ত্রীর বড় বোনের ছেলে। তাসফিন ও ফয়সাল আত্মীয়তার সূত্র ধরে ডা. আজিজুল হকের বাড়িতে যাওয়া আসা করতেন। আত্মীয়তা ও বিশ্বস্ততার সূত্র ধরে তাসফিন, ফয়সাল ও ফয়সালের ভাইরা রুবেল সরকার রাসেল (৩৩) যোগসাজসে ডা. আজিজুল হককে হাইকোর্টে দুর্নীতির ভুয়া মামলার ভয় দেখানো হয়। তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভুয়া মামলার কাগজ ও আয়করের ভুয়া কাগজপত্রও দেখানো হয়। কাগজ দেখানোর পর রুবেল নিজেকে ডিবি পুলিশের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় দেন। এভাবে তাকে গ্রেফতার ও মামলার হয়রানি থেকে বাঁচানোর নাম করে ১৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে টাকাগুলো নেওয়ার সময় ডা. আজিজুল হককে জানায়, দুর্নীতি দমন ব্যুরো, আয়কর বিভাগ এবং হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে কাগজ বের হতে সময় লাগবে। তাই বিষয়টি গোপন রাখতে হবে এবং কাউকে কিছু জানানো যাবে না। অন্য কেউ জানলে তার ও তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তারা ডা. আজিজুল হককে ভয় দেখায়।

পরে ডা. আজিজুল হক খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারেন হাইকোর্টে দুর্নীতি ও আয়করের মামলার বিষয়টি পুরোই ভুয়া। এরা পরস্পর যোগসাজসে তার সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পরে ফয়সালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। এরপর ওই প্রতারিত চিকিৎসক মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ঘটনা তদন্তের নামেন। পরে ঘটনার সত্যতা পান। পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে তাসফিন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান- এই পুলিশ কর্মকর্তা।