ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে ইরানের ভবিষ্যৎ: পেজেশকিয়ান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে: পর্যটনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল জুলাই সনদ নয়, সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত সরকার: মাহমুদা মিতু গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা মহামারিতে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জোরালো প্রবৃদ্ধি ও বিপুল উন্নয়ন চাহিদার কল্যাণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতোই ‘স্থিতিশীল’ থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি)।

বাংলাদেশের ঋণমান দীর্ঘ মেয়াদে ‘বিবি-’ ও স্বল্প মেয়াদে ‘বি’ বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা সংস্থাটি। বাংলাদেশের ওপর এসঅ্যান্ডপির বার্ষিক রেটিং পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। ঋণমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জোরালো প্রবৃদ্ধির ধারা গড় আয় বাড়াতে থাকবে এবং বছরজুড়ে বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল র‌্যাটিংয়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

এসঅ্যান্ডপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির প্রভাব মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমাগত স্বাভাবিক হবে ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে। এই বছর প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জুন মাসে সমাপ্ত অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। করোনার ধাক্কা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আগামী এক থেকে দুই বছর সম্ভব হবে। ২০১০ সালে এসঅ্যান্ডপির কাছ থেকে প্রথমবারের মতো ঋণমান পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একই রেটিং পেয়ে আসছে। অর্থনীতির মূল্যায়নের সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের অর্থনীতি, বাজেট ঘাটতি ও বিপুল উন্নয়ন চাহিদার সম্মুখীন হলেও বিদেশি ঋণ ও জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে সুবিধা পাচ্ছে।

অর্থনীতিতে প্রতিবন্ধকতা হিসাবে দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করার বিপরীতে ভালো বাহ্যিক পরিস্থিতি, উল্লেখযোগ্য দাতাসম্পৃক্ততা থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, রেমিট্যান্স ও বিশ্বমানের তৈরি পোশাক শিল্পকে তুলে ধরেছে এসঅ্যান্ডপি।

এসঅ্যান্ডপি বলছে, ভবিষ্যৎ রাজস্ব পরিস্থিতি জোরদারের জন্য সরকার রাজস্ব উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে র‌্যাটিং আরও উন্নত হতে পারে। রাজনীতির ক্ষেত্রে এ ঋণমান সংস্থার মূল্যায়ন হলো, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে এবং সুষ্ঠু নির্ধারণের পথ বন্ধ করছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতের নীতি প্রতিক্রিয়াগুলোর পূর্বাভাসকে দুর্বল করে দিতে পারে। এসএন্ডপি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে দ্বন্দ্বমূলক অবস্থান শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজনকে প্রতিফলিত করে। দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অবকাঠামো ঘাটতি ও ব্যবসায় পরিবেশে জটিলতার কারণে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে আছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ। ভালো ঋণমানের জন্য বর্তমানের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৩৬২ ডলারকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসাবে চিহ্নিত করে এসঅ্যান্ডপি বলছে, এই মাত্রার আয় দুর্বল ও সংকীর্ণ রাজস্ব ভিত্তি তৈরি করে, যার ফলে বাহ্যিক ধাক্কা মোকাবিলায় রাজস্ব ও মুদ্রা পরিস্থিতির স্থিতিস্থাপকতায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

এসঅ্যান্ডপির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশ নেওয়ার ফলে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার চলমান উন্নতি লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার উল্লেখযোগ্য রিজার্ভ উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ক্রমবর্ধমান আমদানি, রপ্তানি ও বিনিয়োগ (বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে) বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে। স্বল্পখরচে ও দীর্ঘমেয়াদে বহিঋণ অর্থনীতিতে পুনরায় অর্থায়ন ঝুঁকি হ্রাস করেছে। সহনীয় মাত্রার বৈদেশিক ঋণ, সাশ্রয়ী শর্তে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের সুযোগ, বৈদেশিক মুদ্রার উল্লেখযোগ্য রিজার্ভের উপস্থিতি ইত্যাদি কারণে লেনদেনের ভারসাম্য বা ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য প্রবাহ ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা মহামারিতে আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জোরালো প্রবৃদ্ধি ও বিপুল উন্নয়ন চাহিদার কল্যাণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতোই ‘স্থিতিশীল’ থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি)।

বাংলাদেশের ঋণমান দীর্ঘ মেয়াদে ‘বিবি-’ ও স্বল্প মেয়াদে ‘বি’ বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা সংস্থাটি। বাংলাদেশের ওপর এসঅ্যান্ডপির বার্ষিক রেটিং পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়। ঋণমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জোরালো প্রবৃদ্ধির ধারা গড় আয় বাড়াতে থাকবে এবং বছরজুড়ে বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল র‌্যাটিংয়ে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

এসঅ্যান্ডপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির প্রভাব মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমাগত স্বাভাবিক হবে ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে। এই বছর প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জুন মাসে সমাপ্ত অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। করোনার ধাক্কা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আগামী এক থেকে দুই বছর সম্ভব হবে। ২০১০ সালে এসঅ্যান্ডপির কাছ থেকে প্রথমবারের মতো ঋণমান পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একই রেটিং পেয়ে আসছে। অর্থনীতির মূল্যায়নের সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের অর্থনীতি, বাজেট ঘাটতি ও বিপুল উন্নয়ন চাহিদার সম্মুখীন হলেও বিদেশি ঋণ ও জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে সুবিধা পাচ্ছে।

অর্থনীতিতে প্রতিবন্ধকতা হিসাবে দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করার বিপরীতে ভালো বাহ্যিক পরিস্থিতি, উল্লেখযোগ্য দাতাসম্পৃক্ততা থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, রেমিট্যান্স ও বিশ্বমানের তৈরি পোশাক শিল্পকে তুলে ধরেছে এসঅ্যান্ডপি।

এসঅ্যান্ডপি বলছে, ভবিষ্যৎ রাজস্ব পরিস্থিতি জোরদারের জন্য সরকার রাজস্ব উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে র‌্যাটিং আরও উন্নত হতে পারে। রাজনীতির ক্ষেত্রে এ ঋণমান সংস্থার মূল্যায়ন হলো, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে এবং সুষ্ঠু নির্ধারণের পথ বন্ধ করছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভবিষ্যতের নীতি প্রতিক্রিয়াগুলোর পূর্বাভাসকে দুর্বল করে দিতে পারে। এসএন্ডপি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে দ্বন্দ্বমূলক অবস্থান শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজনকে প্রতিফলিত করে। দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, অবকাঠামো ঘাটতি ও ব্যবসায় পরিবেশে জটিলতার কারণে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে আছে বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ। ভালো ঋণমানের জন্য বর্তমানের মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৩৬২ ডলারকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসাবে চিহ্নিত করে এসঅ্যান্ডপি বলছে, এই মাত্রার আয় দুর্বল ও সংকীর্ণ রাজস্ব ভিত্তি তৈরি করে, যার ফলে বাহ্যিক ধাক্কা মোকাবিলায় রাজস্ব ও মুদ্রা পরিস্থিতির স্থিতিস্থাপকতায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

এসঅ্যান্ডপির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশ নেওয়ার ফলে ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার চলমান উন্নতি লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বৈদেশিক মুদ্রার উল্লেখযোগ্য রিজার্ভ উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সংগ্রহে দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ, ক্রমবর্ধমান আমদানি, রপ্তানি ও বিনিয়োগ (বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে) বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে। স্বল্পখরচে ও দীর্ঘমেয়াদে বহিঋণ অর্থনীতিতে পুনরায় অর্থায়ন ঝুঁকি হ্রাস করেছে। সহনীয় মাত্রার বৈদেশিক ঋণ, সাশ্রয়ী শর্তে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের সুযোগ, বৈদেশিক মুদ্রার উল্লেখযোগ্য রিজার্ভের উপস্থিতি ইত্যাদি কারণে লেনদেনের ভারসাম্য বা ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য প্রবাহ ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানটি।