আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মোশতাক-জিয়া গং জড়িত না থাকলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সম্ভব ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘স্মরণে শ্রদ্ধায় ৭৫’ শীর্ষক শোক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মনে করি মোশতাক-জিয়া গং জড়িত না থাকলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড সম্ভব ছিল না। এজন্যই পুরস্কার হিসেবে জিয়া সেনাপ্রধান হয়েছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব, প্রমাণ চান, আমি বলি— মোশতাকের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংবিধানের ৫ম সংশোধনী এনে কে সংসদে পাশ করিয়েছিল? কে বিচার বন্ধ রেখেছিল? কে খুনিদের দূতাবাসে চাকরি ও প্রমোশন দিয়েছিল? জবাব দিন ফখরুল সাহেব।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণস্থলে শিশু পার্ক কে বানিয়েছিল? জয়বাংলা কেন নির্বাসনে ছিল? কেন ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল? কেন মহানায়ক নির্বাসিত ছিলেন? ৩২ নম্বর ও টুঙ্গিপাড়া কেন নিষিদ্ধ ছিল? ঘোষণার পাঠককে কেন ঘোষক বানানো হয়েছিল? ফুটনোটকে বানানো হলো মহানায়ক। কেন এসব হয়েছিল জবাব দিন ফখরুল সাহেব।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যতদিন বাংলায় চন্দ্র সূর্য উদয় হবে, যতদিন বাংলা নামের দেশ থাকবে বিশ্ব মানচিত্রে, ততদিন বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার ক্ষমতা কারো নাই।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য সংঘটিত হয়নি। বরং মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি ধ্বংস করে পাকিস্তানী ভাবধারার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই ছিল খুনিদের লক্ষ্য। এজন্যই খুনিরা জয় বাংলার বদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ চালু করেছিল।
সভার সভাপতি সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে বহু রাষ্ট্রনেতা হত্যাকাণ্ডের নজির আছে। কিন্তু আমাদের জাতির পিতার মতো সপরিবারে নৃশংস হত্যার শিকারের নজির দ্বিতীয়টি নেই।
অনুষ্ঠানে আলোচনার পাশাপাশি স্মরণ-শ্রদ্ধা জানানো হয়, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত রচিত কবিতা থেকে আবৃত্তি এবং অভিশপ্ত আগস্ট নামে একটি নাটক পরিবেশন করা হয়।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি-বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর, ডালিয়া আহমেদ ও শিমুল মুস্তাফা।
সবশেষে বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদলের অভিনীত অভিশপ্ত আগস্ট নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি রচনা করেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং পরিচালনা ও অভিনয়ে ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যবর্গ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য অ্যাড. আমিরুল আলম মিলন, অ্যাড. এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আবদুল আওয়াল শামীম, আজিজুস সামাদ আজাদ ডন।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু, যুব মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি লায়ন সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর লস্করসহ সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. নুজহাত চৌধুরী।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















