ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে ইরানের ভবিষ্যৎ: পেজেশকিয়ান সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে: পর্যটনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল জুলাই সনদ নয়, সংবিধান সংশোধনে ব্যস্ত সরকার: মাহমুদা মিতু গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না আ.লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে বিএনপি নেতার মৃত্যু গালাগালি ও হামলা দুটোই অতীতমুখী রাজনীতি: মঞ্জু মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলাজট কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

৫০ টাকার নিচে চাল নেই, কপাল খুলেছে মিল মালিকদের!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারের নূর ইসলাম স্টোর থেকে চাল কিনছেন রিকশাচালক আমজাদ হোসেন। ১০০ টাকায় কিনেছেন লাল স্বর্ণা মোটা ধানের চাল।

আমজাদ হোসেন বলেন, চালের দাম বাড়ে, আমাগো আয় তো বাড়ে না। চালের দাম বাড়লে আর কী খাবো।

চালের দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, লাল স্বর্ণা চালের কেজি ৫০ টাকা। আমার জানা মতে এর কমে আর চাল বাজারে নেই। সাধারণত রিকশা ও ভ্যানচালকরা এই চাল কেনে। করোনার পর থেকেই মূলত চালের দাম বাড়তে বাড়তে এই পর্যায়ে এসেছে।

খুচরা বাজারেও চালের দাম বাড়তি। এর প্রভাবেই মূলত খুচরা বাজারে প্রধান এই খাদ্য পণ্যটি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ভালো ফলন ও আমদানির পরও দেশের প্রধান এই খাদ্যের দাম বাড়ছে, যা করোনাকালে সংকটে থাকা মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে।

মিরপুর-১ নম্বর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল ৪৪, আটাশ ৪৮ ও স্বর্ণা-০৫ চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোজাম্মেলের মিনিকেট ৬০ ও রশিদের মিনিকেট ৫৯ টাকা কেজি দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব মিনিকেট খুচরায় কিনতে গেলে ক্রেতাকে গুণতে হবে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা।

পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) রশিদ মিনিকেট ২ হাজার ৯০০, মুনজুরের মিনিকেট ২ হাজার ৯০০, দুর্গা নাজির ৩ হাজার ২০০, কাটারি নাজির ৩ হাজার ৩০০ টাকা, শাহী মিনিকেট ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) দুর্গা আটাশ ২ হাজার ৪০০, চাক্কা আটাশ ২ হাজার ৪০০, হাফ বয়েল মোটা চাল ২ হাজার ৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি দেশে করোনা শুরুর পর থেকে বাড়তে থাকে চালের দাম। করোনার শুরুতে ৫০ কেজির মোটা স্বর্ণার বস্তার দাম ছিল ১ হাজার ২৫০ টাকা। একই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। ফলে চালের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

মিরপুর-১ নম্বরের তোফাজ্জেল রাইস এজেন্সির মালিক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, মিল মালিকদের কারণেই মূলত চালের দাম বাড়তি। করোনার পর থেকে চালের দাম বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়েছে।

পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধান কৃষকের ঘরে নেই। চালকল মালিক ও নব্য মজুতদাদের কারণে ধান-চালের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন পাইকারি বিক্রেতারা। সরকারকে এসব মজুতদারকে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা। অনেক ব্যবসায়ী এখন নগদ টাকা ধান-চাল মজুতে বিনিয়োগ করছেন। সমাজের নানা পেশার মানুষও চালের মজুত গড়ে তুলেছেন। যে কারণে দাম কিছুটা বাড়ছে বলে মনে করেন পাইকাররা।

করোনা শুরুর পর থেকেই চালের দাম বেড়েছে জানিয়ে পাইকাররা বলেন, মূলত হাতে গোনা কয়েকটি মিলমালিক চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। এদের মধ্যে অন্যততম বগুড়া সান্তাহার মেসার্স বুশরা অ্যাগ্রো ফুডস, শেরপুরের সাকী অটো রাইস মিলস, চাপাইনবাবগঞ্জের নজরুল অটো রাইস মিল ও চাপাইনবাবগঞ্জের হক অটো রাইস মিল।

তবে মিল মালিকদের দাবি পরিবহন ও শ্রমিক সংকটের কারণেই মূলত করোনার মধ্যে চালের দাম বেড়েছে। কিছু মানুষ ইচ্ছা করেই ধান মজুত করার ফলে চালের দাম বাড়তি। মিল মালিকরা ধান মজুত করে না বলে দাবি করেন তারা।

বগুড়ার মেসার্স বুশরা অ্যাগ্রো ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সবুজ খান বলেন, পরিবহন সংকটের কারণেই মূলত করোনার পর থেকে চালের দাম বাড়তি। করোনায় পরিবহন ভাড়াও দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত শ্রমিকও পাওয়া যায়নি।

ধান মজুত রাখা প্রসঙ্গে সবুজ খান বলেন, ধান মজুত রাখার সুযোগ নেই মিলারদের। মূলত এক শ্রেণির লোক আছে যারা বাড়তি দামের আশায় ধান মজুত রাখেন। বেশি দাম না পেলে তারা ধান বাজারে ছাড়েন না। আমরা ব্যাংক ঋণ নিয়ে চালের মিল পরিচালনা করি। ধান মজুতের কোনো সুযোগ আমাদের নেই।

চালের বাড়তি দাম প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানায়, শুরুতেই ধানের দাম ছিল ৮০০ টাকা মণ। এখন ধানের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়তি। তবে সরকার চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এখন ধীরে ধীরে চালের দাম কমতে শুরু করবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, মূলত ধানের দামই বাড়তি। আন্তর্জাতিক বাজারেও চালের দাম বাড়তি। চাল আমদানি করা হবে, ফলে দাম কমে যাবে।

ধান মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা ধান মজুত করে আছে তারা বিপাকে পড়বে। কারণ বিদেশ থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। চাল আমদানিতে ট্যাক্স কমানো হয়েছে। আশা করি ১৫ দিনের মধ্যেই চালের দাম কমবে। কারণ দেশে আমদানি চাল প্রবেশের পর স্বয়ংক্রিভাবে মজুতদাররা ধান ছাড়তে শুরু করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে পুলিশের গাড়ি, দেশজুড়ে সতর্কতা জারি

৫০ টাকার নিচে চাল নেই, কপাল খুলেছে মিল মালিকদের!

আপডেট সময় ০৮:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারের নূর ইসলাম স্টোর থেকে চাল কিনছেন রিকশাচালক আমজাদ হোসেন। ১০০ টাকায় কিনেছেন লাল স্বর্ণা মোটা ধানের চাল।

আমজাদ হোসেন বলেন, চালের দাম বাড়ে, আমাগো আয় তো বাড়ে না। চালের দাম বাড়লে আর কী খাবো।

চালের দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, লাল স্বর্ণা চালের কেজি ৫০ টাকা। আমার জানা মতে এর কমে আর চাল বাজারে নেই। সাধারণত রিকশা ও ভ্যানচালকরা এই চাল কেনে। করোনার পর থেকেই মূলত চালের দাম বাড়তে বাড়তে এই পর্যায়ে এসেছে।

খুচরা বাজারেও চালের দাম বাড়তি। এর প্রভাবেই মূলত খুচরা বাজারে প্রধান এই খাদ্য পণ্যটি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ভালো ফলন ও আমদানির পরও দেশের প্রধান এই খাদ্যের দাম বাড়ছে, যা করোনাকালে সংকটে থাকা মানুষের কষ্ট বাড়িয়েছে।

মিরপুর-১ নম্বর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল ৪৪, আটাশ ৪৮ ও স্বর্ণা-০৫ চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোজাম্মেলের মিনিকেট ৬০ ও রশিদের মিনিকেট ৫৯ টাকা কেজি দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব মিনিকেট খুচরায় কিনতে গেলে ক্রেতাকে গুণতে হবে ৬৫ থেকে ৬৬ টাকা।

পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) রশিদ মিনিকেট ২ হাজার ৯০০, মুনজুরের মিনিকেট ২ হাজার ৯০০, দুর্গা নাজির ৩ হাজার ২০০, কাটারি নাজির ৩ হাজার ৩০০ টাকা, শাহী মিনিকেট ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) দুর্গা আটাশ ২ হাজার ৪০০, চাক্কা আটাশ ২ হাজার ৪০০, হাফ বয়েল মোটা চাল ২ হাজার ৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি দেশে করোনা শুরুর পর থেকে বাড়তে থাকে চালের দাম। করোনার শুরুতে ৫০ কেজির মোটা স্বর্ণার বস্তার দাম ছিল ১ হাজার ২৫০ টাকা। একই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। ফলে চালের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

মিরপুর-১ নম্বরের তোফাজ্জেল রাইস এজেন্সির মালিক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, মিল মালিকদের কারণেই মূলত চালের দাম বাড়তি। করোনার পর থেকে চালের দাম বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁয়েছে।

পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ধান কৃষকের ঘরে নেই। চালকল মালিক ও নব্য মজুতদাদের কারণে ধান-চালের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন পাইকারি বিক্রেতারা। সরকারকে এসব মজুতদারকে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা। অনেক ব্যবসায়ী এখন নগদ টাকা ধান-চাল মজুতে বিনিয়োগ করছেন। সমাজের নানা পেশার মানুষও চালের মজুত গড়ে তুলেছেন। যে কারণে দাম কিছুটা বাড়ছে বলে মনে করেন পাইকাররা।

করোনা শুরুর পর থেকেই চালের দাম বেড়েছে জানিয়ে পাইকাররা বলেন, মূলত হাতে গোনা কয়েকটি মিলমালিক চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। এদের মধ্যে অন্যততম বগুড়া সান্তাহার মেসার্স বুশরা অ্যাগ্রো ফুডস, শেরপুরের সাকী অটো রাইস মিলস, চাপাইনবাবগঞ্জের নজরুল অটো রাইস মিল ও চাপাইনবাবগঞ্জের হক অটো রাইস মিল।

তবে মিল মালিকদের দাবি পরিবহন ও শ্রমিক সংকটের কারণেই মূলত করোনার মধ্যে চালের দাম বেড়েছে। কিছু মানুষ ইচ্ছা করেই ধান মজুত করার ফলে চালের দাম বাড়তি। মিল মালিকরা ধান মজুত করে না বলে দাবি করেন তারা।

বগুড়ার মেসার্স বুশরা অ্যাগ্রো ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সবুজ খান বলেন, পরিবহন সংকটের কারণেই মূলত করোনার পর থেকে চালের দাম বাড়তি। করোনায় পরিবহন ভাড়াও দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত শ্রমিকও পাওয়া যায়নি।

ধান মজুত রাখা প্রসঙ্গে সবুজ খান বলেন, ধান মজুত রাখার সুযোগ নেই মিলারদের। মূলত এক শ্রেণির লোক আছে যারা বাড়তি দামের আশায় ধান মজুত রাখেন। বেশি দাম না পেলে তারা ধান বাজারে ছাড়েন না। আমরা ব্যাংক ঋণ নিয়ে চালের মিল পরিচালনা করি। ধান মজুতের কোনো সুযোগ আমাদের নেই।

চালের বাড়তি দাম প্রসঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানায়, শুরুতেই ধানের দাম ছিল ৮০০ টাকা মণ। এখন ধানের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম বাড়তি। তবে সরকার চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এখন ধীরে ধীরে চালের দাম কমতে শুরু করবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, মূলত ধানের দামই বাড়তি। আন্তর্জাতিক বাজারেও চালের দাম বাড়তি। চাল আমদানি করা হবে, ফলে দাম কমে যাবে।

ধান মজুত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা ধান মজুত করে আছে তারা বিপাকে পড়বে। কারণ বিদেশ থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। চাল আমদানিতে ট্যাক্স কমানো হয়েছে। আশা করি ১৫ দিনের মধ্যেই চালের দাম কমবে। কারণ দেশে আমদানি চাল প্রবেশের পর স্বয়ংক্রিভাবে মজুতদাররা ধান ছাড়তে শুরু করবে।