ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

তিমির বমির দাম কোটি টাকা!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শিরোনাম দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতে পারে। সমুদ্রের বিশাল এই প্রাণীর বমি, তার দাম আবার এত টাকা! অনেকেরই খটকা লাগতে পারে বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু খটকা লাগার কিছু নেই। স্পার্ম হোয়েল নামে এক প্রজাতির তিমি মাছের বমি অ্যাম্বারগ্রিস এক কেজির দামই এক কোটি রুপি বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরের অপরাধ বিভাগ পাঁচ ব্যক্তিকে এই অ্যাম্বারগ্রিস চোরাচালানের দায়ে আটক করেছে। তাদের কাছে প্রায় ৮০ কোটি রুপি মূল্যের অ্যাম্বারগ্রিস ছিল বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে কেন এত দাম এই তিমির বমির? ফরাসি শব্দ অ্যাম্বার আর গ্রিস মিলে ইংরেজি অ্যাম্বারগ্রিস শব্দটি এসেছে। অবশ্য ‘ফ্লোটিং গোল্ড: এ ন্যাচারাল অ্যান্ড (আনন্যাচারাল) হিস্ট্রি অব অ্যাম্বারগ্রিস’ বইয়ের লেখক ক্রিস্টোফার কেমপ অ্যাম্বারগ্রিসকে তিমির বমি বলতে নারাজ। কারণ কোনো খাবার খাওয়ার পর হজম না হলে সাথে সাথে মুখ দিয়ে কোনো কিছু বের হলে তাকে বমি বলা হয়।

কিন্তু স্পার্ম তিমির পাকস্থলিতে অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হতে বছরের বেশি সময় লেগে যায়। স্পার্ম তিমি হাজার হাজার স্কুইড খায়। মাঝে মাঝে সেই স্কুইড পাকস্থলি ও অন্ত্রের মাঝখানে জায়গায় গিয়ে জমা হয়। আর সেটাই দীর্ঘদিন পর অ্যাম্বারগ্রিসে পরিণত হয়। পরে এক সময় স্পার্ম তিমি তা মুখ দিয়ে বের করে দেয়। অ্যাম্বারগ্রিস খানিকটা মোমের মতো পিচ্ছিল হয়।

তবে প্রথমে যখন তিমির মুখ থেকে বের হয় তখন সেটাতে কিছুটা বাজে গন্ধ থাকে। কিন্তু যখন তীরে আসার পর এটা আস্তে আস্তে শক্ত হয়, তখন এর দারুণ গন্ধ হয়। এজন্য সুগদ্ধি তৈরিতে ব্যাপক চাহিদা এই অ্যাম্বারগ্রিসের। বিশ্বের বিভিন্ন দামি সুগন্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই অ্যাম্বারগ্রিস।

সুগন্ধি তৈরিতে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আর সহজলভ্য না হওয়ার বাজারে অ্যাম্বারগ্রিসের এতো দাম বলে জানা গেছে। এতো দামের কারণে একে ফ্লোটিং গোল্ড বা ভাসমান সোনাও বলা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

তিমির বমির দাম কোটি টাকা!

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ অগাস্ট ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

শিরোনাম দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠতে পারে। সমুদ্রের বিশাল এই প্রাণীর বমি, তার দাম আবার এত টাকা! অনেকেরই খটকা লাগতে পারে বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু খটকা লাগার কিছু নেই। স্পার্ম হোয়েল নামে এক প্রজাতির তিমি মাছের বমি অ্যাম্বারগ্রিস এক কেজির দামই এক কোটি রুপি বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরের অপরাধ বিভাগ পাঁচ ব্যক্তিকে এই অ্যাম্বারগ্রিস চোরাচালানের দায়ে আটক করেছে। তাদের কাছে প্রায় ৮০ কোটি রুপি মূল্যের অ্যাম্বারগ্রিস ছিল বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠতে পারে কেন এত দাম এই তিমির বমির? ফরাসি শব্দ অ্যাম্বার আর গ্রিস মিলে ইংরেজি অ্যাম্বারগ্রিস শব্দটি এসেছে। অবশ্য ‘ফ্লোটিং গোল্ড: এ ন্যাচারাল অ্যান্ড (আনন্যাচারাল) হিস্ট্রি অব অ্যাম্বারগ্রিস’ বইয়ের লেখক ক্রিস্টোফার কেমপ অ্যাম্বারগ্রিসকে তিমির বমি বলতে নারাজ। কারণ কোনো খাবার খাওয়ার পর হজম না হলে সাথে সাথে মুখ দিয়ে কোনো কিছু বের হলে তাকে বমি বলা হয়।

কিন্তু স্পার্ম তিমির পাকস্থলিতে অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি হতে বছরের বেশি সময় লেগে যায়। স্পার্ম তিমি হাজার হাজার স্কুইড খায়। মাঝে মাঝে সেই স্কুইড পাকস্থলি ও অন্ত্রের মাঝখানে জায়গায় গিয়ে জমা হয়। আর সেটাই দীর্ঘদিন পর অ্যাম্বারগ্রিসে পরিণত হয়। পরে এক সময় স্পার্ম তিমি তা মুখ দিয়ে বের করে দেয়। অ্যাম্বারগ্রিস খানিকটা মোমের মতো পিচ্ছিল হয়।

তবে প্রথমে যখন তিমির মুখ থেকে বের হয় তখন সেটাতে কিছুটা বাজে গন্ধ থাকে। কিন্তু যখন তীরে আসার পর এটা আস্তে আস্তে শক্ত হয়, তখন এর দারুণ গন্ধ হয়। এজন্য সুগদ্ধি তৈরিতে ব্যাপক চাহিদা এই অ্যাম্বারগ্রিসের। বিশ্বের বিভিন্ন দামি সুগন্ধি ছাড়াও বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই অ্যাম্বারগ্রিস।

সুগন্ধি তৈরিতে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আর সহজলভ্য না হওয়ার বাজারে অ্যাম্বারগ্রিসের এতো দাম বলে জানা গেছে। এতো দামের কারণে একে ফ্লোটিং গোল্ড বা ভাসমান সোনাও বলা হয়।