আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ‘হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ’ কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা নিয়ে প্র্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এই প্রশ্ন তোলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে যে, প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনাটি হত্যার পর্যায় পড়ে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থা কলকারখানার নির্মাণ মান, পরিবেশ এবং অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি না করার কারণেই এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’
ফখরুল বলেন, ‘ফায়ার বিগ্রেডের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। ২৭ ঘণ্টা যাবত আগুন নেভাতে না পারা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সান্ধ্য আইন বা কারফিউ সমাধান নয় বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘আমি মনে করি, কারফিউ জারিটা কোনো সমাধান নয়। এই লকডাউনেও যদি আপনি সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারেন এবং সেখানে যদি তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে না পারেন, সেখানে ওই অপরিকল্পিত লকডাউনও তো সঠিক সমাধান আনতে পারবে না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘লকডাউনের লক্ষ্যটা হচ্ছে- মানুষকে মানুষের কাছ থেকে দূরে রেখে, দূরত্ব সৃষ্টি করে সংক্রমণটা প্রতিরোধ করা। সেটার জন্য তো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোথায় সেই সচেতনতা? খালি ধমক দিয়ে আর গরিব মানুষকে জেলের মধ্যে পুরে দিলে তো হবে।’
সাড়ে চার হাজার গরিব মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি পত্রিকায় দেখলাম সাড়ে চার হাজার মানুষকে জেলে দেয়া হয়েছে। এরা কারা? তারা সমস্ত সাধারণ গরিব মানুষ। এমনও কথা বেরিয়েছে যে, বাবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার আনতে গেছে সেখানে তাকে গ্রেপ্তার করার ফলে সেই বাবা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। এই অপরিকল্পিত ব্যবস্থার ফলেই কিন্তু আজকে এ ঘটনা ঘটেছে।’
ঢাকার সিভিল সার্জন জেলার সব হাসপাতালে সাংবাদিকদের করোনাসংক্রান্ত কোনো তথ্য না দিতে যে সার্কুলার জারি করেছেন, এর নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই ধরনের সার্কুলার প্রমাণ করে যে, তারা (সরকার) প্রকৃত তথ্য গোপন করছে এবং করতে চায়। সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকার প্রকাশিত সংখ্যার চাইতে অনেক বেশি। এই ধরনের তথ্য গোপনের প্রচেষ্টা স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র পরিপন্থী।’
স্বাস্থ্যখাতে সরকার বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করেছে। অথচ চিকিৎসা ব্যবস্থা সে রকম নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। বলেন, ‘একটা টেস্টের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা ব্যয় করছেন এবং তারা যে হিসাব দিয়েছেন তাতে এই কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। অথচ কোথাও কোনো রকমের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ নেই, অক্সিজেন নেই, সিলিন্ডার নেই, বেড নেই-এই যে চরম অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি।’
‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প’ নামের আড়ালে উপহারের ঘর নির্মাণে ‘হরিলুট’ চলছে উল্লেখ করে এই প্রকল্প বন্ধ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা তানভীর হাসান তনুকে ডিজিটাল আইনে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















