আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নেয়া উদ্যোগের সমালোচনা করে দ্রুত করোনা মোকাবেলায় পরিকল্পনা, টিকা সংগ্রহের রোডম্যাপ এবং টিকাদান কর্মসূচির ভবিষ্যত পদক্ষেপ সম্পর্কে সকল তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
সোমবার সকালে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয় ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে টিকা নিয়ে সরকারের লুকোচুরি ও ব্যর্থতায় জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিগত এক সপ্তাহ যাবত মৃত্যু সংখ্যা ১০০ এর উপরে এবং শনাক্তের হার প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকার ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এর পূর্বে সরকারের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণে সরকারের লকডাউন তামাশায় পরিণত হয়েছিল। ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে বর্তমানে সীমান্ত জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ড. মোশাররফ বলেন, গত বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল সতর্ক করার পরও সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, আইসিইউ, অক্সিজেন, ভেন্টিলেটরসহ চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করেনি। সরকারি ১০০ হাসপাতালের ৫২টিতে এবং ৩৫টি জেলার সদর হাসপাতালে কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার অভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর খবর প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এ নিয়ে স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থাসহ বিভিন্ন মহলের তাগিদ স্বত্ত্বেও সরকার করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেনি। বরং সরকার করোনা পরীক্ষা নিয়ে নজিরহিবীন দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে দেশে সামগ্রিকভাবে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ মানুষের।
টিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সারাবিশ্ব করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে টিকা প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অথচ তখন সরকার একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা প্রদান ও একটি দেশকে খুশি করার জন্য চীনের প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে একটি মাত্র উৎস থেকে টিকা আমদানির পদক্ষেপ গ্রহণ করে দেশে ভ্যাকসিন সংকট সৃষ্টি করে দেশের জনগণকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্বের যে সব দেশ ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, সে সব দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা প্রদান করতে সমর্থ হয়েছে। তাই বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত যে, করোনা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি শুধুমাত্র টিকা প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে সরকারের টিকা কূটনীতিতে চরম ব্যর্থতা, টিকা ক্রয়ে অনিয়ম, লোভ ও হঠকারিতার কারণে দেশে টিকাদান শুরুর পর থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন মাত্র ৪২ লাখ ৮১ হাজার ৭৭৬ জন। এ হিসেবে গত ৬ মাসে মাত্র ২.৫ (আড়াই) শতাংশের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে।’
টিকা নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘যত টিকা লাগে, কেনা হবে’। কিন্তু কোথা থেকে ক্রয় করা হবে, কবে নাগাদ ক্রয় করা হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখেননি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, করোনার শুরু থেকে সরকারের রাখঢাকা, সমন্বয়হীনতা, অতিকথন ও দুর্নীতি জনগণকে হতাশ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে এবং সরকার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের জীবন ও জীবিকা চরম হুমকির সম্মুখিন হয়েছে। টিকা নিয়ে লুকোচুরি ও টিকা সংগ্রহে সরকারের ব্যর্থতার ফলে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। এই অবস্থায় করোনা মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনা, টিকা সংগ্রহের রোডম্যাপ এবং টিকাদান কর্মসূচির ভবিষ্যত পদক্ষেপ সম্পর্কে সকল তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
দলটির দাবি, দেশের জনসংখ্যার ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষকে অতিশীঘ্রই টিকা প্রদানের মাধ্যমেই একমাত্র করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য দ্রুত সরকারকে পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকে তা অবহিত করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















