ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১ মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী সারের ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: গোলাম পরওয়ার বাংলাদেশকে ‘কম দামে’ ইউরিয়া সার দিতে চায় রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে : ডিএনসিসি প্রশাসক নতুন আরেকটি সিটি করপোরেশন হচ্ছে ধর্ষকদের রক্ষাকারীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে মোদি সরকার: রাহুল গান্ধী

মঙ্গলে টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জের

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মঙ্গলের তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগি সেন্টিগ্রেড। মঙ্গল মিশনে যে কোনও দেশের কাছে আপাতত চ্যালেঞ্জ এই তিনটি বিষয়। পৃথিবী থেকে সাত মাসের দূরত্ব পেরিয়ে মঙ্গলে পৌঁছালেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখানকার তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে সক্রিয় থাকা ও মঙ্গলের এবড়ো খেবড়ো পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণ।

পুরো শীত জুড়ে মঙ্গলের গায়ে থাকে হিমবাহ। বসন্তে সেগুলো একটি গলতে শুরু করে। তবে পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের তফাৎ একটাই সেটা হচ্ছে এই বরফ আসলে কার্ব-ডাই-অক্সাইডের তৈরি। অর্থাৎ যাকে বলে ড্রাই আইস বা শুকনো বরফ। বসন্তে যখন মঙ্গলের গায়ে সূর্যের তেজ বাড়তে শুরু করে, তখন বরফের পাহাড়গুলো ভাঙতে শুরু করে ও একটা কালচে বালি বেরিয়ে পড়ে এর তলা থেকে। তবে শীতে এই গ্রহের তেজ আলাদা।

মাইনাস ষাট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে কোনও মহাকাশযানের কাজ করা ও সক্রিয় থেকে পৃথিবীতে ছবি পাঠানো কার্যত অসম্ভব। যদিও নাসার সাধের মঙ্গলযান নিরাপদে অবতরণ করেছে মঙ্গলের জেজোরো ক্রেটারে।

এই জেজোরো ক্রেটারের আয়তন ২৮ মাইলেরও বেশি। ওই গোটা এলাকাই জেজোরো ক্রেটার নামে পরিচিত। মঙ্গলের পৃষ্ঠের বেশিরভাগ জায়গাই বেশ কয়েক কোটি বছর আগে কোনও সুবিশাল আগ্নেয়গিরির উদগিরণের ফলে তৈরি হয়। এই কারণেই লাল গ্রহের পৃষ্ঠে তৈরি হয়েছে বিশালাকার একাধিক গর্ত বা ক্রেটার। এলাকাটি ভর্তি খুব উঁচু উঁচু পাহাড়ে। সমতল সেখানে খুবই কম। ৩০০ কি ৪০০ মিটার অন্তর সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে মঙ্গলপৃষ্ঠে।

তাই যে কোনও মহাকাশযানের অবতরণের জন্য প্রয়োজন অসম্ভব দক্ষতার। নিখুঁত টাইমিং ও সঠিক স্থান নির্বাচন এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাচ্ছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। নামার আগে থেকে খুব নিখুঁত ভাবে জায়গাটাকে চিনতে বুঝতে না পারলে যে কোনও সুউচ্চ পাহাড়ে ধাক্কা লেগে ভেঙে পড়তে পারে নাসার ল্যান্ডার ও রোভার। এমনকি তা পাহাড়ের খাঁজে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে যেতে পারে মুহুর্তে। নাসার পারসিভিয়ারেন্স সেই বিপদ উতরে গিয়েছে।

এবার পালা চীনের। চলতি বছরের মে মাসে চিনের মঙ্গলযান গ্রহের মাটি ছোঁয়ার কথা। উল্লেখ্য পারসিভিয়ারেন্স সাফল্য পেলেও এখনও প্রতীক্ষা করতে হবে। কারণ মঙ্গলের অত্যধিক শৈত্য এই মহাকাশযানের কার্যক্ষমতা কতটা সক্রিয় রাখতে দেবে, সেখানে প্রশ্ন থাকছে। এদিকে, ১৯৯০ সাল থেকে একাধিকবার মঙ্গলে নামার চেষ্টা করেছে নাসার মহাকাশযান। প্রায় ছটি মিশন ব্যর্থ হয়েছে নাসার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমায় দুর্গম পাড়ায় হামের উপসর্গে ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪১

মঙ্গলে টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জের

আপডেট সময় ০৯:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মঙ্গলের তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগি সেন্টিগ্রেড। মঙ্গল মিশনে যে কোনও দেশের কাছে আপাতত চ্যালেঞ্জ এই তিনটি বিষয়। পৃথিবী থেকে সাত মাসের দূরত্ব পেরিয়ে মঙ্গলে পৌঁছালেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখানকার তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে সক্রিয় থাকা ও মঙ্গলের এবড়ো খেবড়ো পৃষ্ঠে নিরাপদে অবতরণ।

পুরো শীত জুড়ে মঙ্গলের গায়ে থাকে হিমবাহ। বসন্তে সেগুলো একটি গলতে শুরু করে। তবে পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের তফাৎ একটাই সেটা হচ্ছে এই বরফ আসলে কার্ব-ডাই-অক্সাইডের তৈরি। অর্থাৎ যাকে বলে ড্রাই আইস বা শুকনো বরফ। বসন্তে যখন মঙ্গলের গায়ে সূর্যের তেজ বাড়তে শুরু করে, তখন বরফের পাহাড়গুলো ভাঙতে শুরু করে ও একটা কালচে বালি বেরিয়ে পড়ে এর তলা থেকে। তবে শীতে এই গ্রহের তেজ আলাদা।

মাইনাস ষাট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে কোনও মহাকাশযানের কাজ করা ও সক্রিয় থেকে পৃথিবীতে ছবি পাঠানো কার্যত অসম্ভব। যদিও নাসার সাধের মঙ্গলযান নিরাপদে অবতরণ করেছে মঙ্গলের জেজোরো ক্রেটারে।

এই জেজোরো ক্রেটারের আয়তন ২৮ মাইলেরও বেশি। ওই গোটা এলাকাই জেজোরো ক্রেটার নামে পরিচিত। মঙ্গলের পৃষ্ঠের বেশিরভাগ জায়গাই বেশ কয়েক কোটি বছর আগে কোনও সুবিশাল আগ্নেয়গিরির উদগিরণের ফলে তৈরি হয়। এই কারণেই লাল গ্রহের পৃষ্ঠে তৈরি হয়েছে বিশালাকার একাধিক গর্ত বা ক্রেটার। এলাকাটি ভর্তি খুব উঁচু উঁচু পাহাড়ে। সমতল সেখানে খুবই কম। ৩০০ কি ৪০০ মিটার অন্তর সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ রয়েছে মঙ্গলপৃষ্ঠে।

তাই যে কোনও মহাকাশযানের অবতরণের জন্য প্রয়োজন অসম্ভব দক্ষতার। নিখুঁত টাইমিং ও সঠিক স্থান নির্বাচন এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাচ্ছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। নামার আগে থেকে খুব নিখুঁত ভাবে জায়গাটাকে চিনতে বুঝতে না পারলে যে কোনও সুউচ্চ পাহাড়ে ধাক্কা লেগে ভেঙে পড়তে পারে নাসার ল্যান্ডার ও রোভার। এমনকি তা পাহাড়ের খাঁজে আটকে গিয়ে বিকল হয়ে যেতে পারে মুহুর্তে। নাসার পারসিভিয়ারেন্স সেই বিপদ উতরে গিয়েছে।

এবার পালা চীনের। চলতি বছরের মে মাসে চিনের মঙ্গলযান গ্রহের মাটি ছোঁয়ার কথা। উল্লেখ্য পারসিভিয়ারেন্স সাফল্য পেলেও এখনও প্রতীক্ষা করতে হবে। কারণ মঙ্গলের অত্যধিক শৈত্য এই মহাকাশযানের কার্যক্ষমতা কতটা সক্রিয় রাখতে দেবে, সেখানে প্রশ্ন থাকছে। এদিকে, ১৯৯০ সাল থেকে একাধিকবার মঙ্গলে নামার চেষ্টা করেছে নাসার মহাকাশযান। প্রায় ছটি মিশন ব্যর্থ হয়েছে নাসার।