অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত দিলে না পারলে গভীর সংকটে পড়বে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গারা অভাবের তাড়নায় ও জীবিকা নির্বাহ করার সহজ পথ হিসাবে অস্ত্র ব্যবসা, ইয়াবা, মাদক ব্যবসা, অবৈধ পন্য আনা নেওয়ার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এছাড়াও জড়িয়ে পড়তে পারে জঙ্গি কর্মকান্ডে। চেষ্টা করতে পারে পাসপোর্ট গ্রহণ, ভোটার আইডিকার্ড ও জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার। এছাড়াও তারা ওই এলাকায় বাংলাদেশীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে। ষড়যন্ত্রকারীরা তাদেরকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও কাজে লাগাতে পারে। সেই জন্য পাহাড়ি এলাকায় প্রশিক্ষণ দেওয়ারও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘের হিসাবে, রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত রয়েছে তাতে এই সংখ্যা আর বাড়তে পারে। তাদেরকে মিয়ানমার ফেরত না নিলে বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের সমস্যায় পড়বে। সেই সঙ্গে গভীর সংকটও তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই কারণে এই সমস্যা প্রশ্রয় দেওয়া উচিত হবে না বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা যে এলাকায় আশ্রয় নিচেছ সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যর কোন ধরণের কর্মকান্ডে রাখা হয়নি। পুরো বিষয়টি এখন দেখছে সিভিল প্রশাসন। এই অবস্থায় সিভিল প্রশাসনের এই ব্যাপারে আরো অনেক সতর্ক দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে বিশেষ বিশেষ সংস্থা ও বাহিনীগুলো।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াতে নানা রকমের সমস্যা হতে পারে। তারা এখানে আশ্রয় নিয়ে জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড করতে পারে। এতে করে দেশের ইমেজ নষ্ট হতে পারে। নেতিবাচক বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই প্রথমে তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া হয়নি। পরে মানবিক দিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রæত তাদের ফেরত দিতে চাই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, এখন যুদ্ধাবস্থায় তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা ভাল নয়। এর আগে যাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তাদের ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। এবারও যারা এসেছে তাদের ফেরত নিবে, এমনটি সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। আবার মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য কেউ কেউ শান্তিরক্ষী বাহিনী আনার কথা বলছে। কিন্তু সেটা কাজে দিবে না যদি না মিয়ানমার তাতে রাজি না হয়। তাই সমস্যা জটিল। এই অবস্থায় বাংলাদেশেক পালিয়ে আসা নাগরিকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যাতে তারা কোন ধরণের অপরাধমূলক কাজ করতে না পারে দেশের জন্য হুমকি সরূপ এমন কোন কর্মকান্ডে জরাতে না পারে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট অনেক দিনই সমস্যা তৈরি করে আছে। এখন তা আরও বেড়েছে। কিন্তু এই সব রোহিঙ্গাদের দ্রæততম সময়ের মধ্যে ফেরত দিতে নানা পারলে তারা নানা রকমের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের কেউ যাতে জঙ্গিবাদের কোন কর্মকান্ডে জড়াতে না পারে ও তাদেরকে কেউ অস্ত্র প্রশিক্ষন দিতে না পারে সেই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নজরদারিতে রাখতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। সব ধরণের অপতৎপরতা ঠেকাতে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে।
সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়ার কারণে তাদেরকে মিয়ানমার এখন থেকে ফেরত নিতে আগ্রহী হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করা হলেও তা খুব বেশি কাজে দিবে না। কারণ মিয়ানমার কারো কোন কথা শুনছে না। এমনকি জাতিসংঘেরও কোন কথা শুনছে না। মিয়ানমার সরকার সব কিছুই তাদের মতো করে করছে। এই কারণে তারা এনিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী হবে না। ফলে রোহিঙ্গাদের ফেরত দেওয়া কঠিন হবে। ফেরত দিতে না পারলে তাদের থাকা, খাওয়া, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিশুদের শিক্ষাসহ বিভিন্নখাতে সরকারকে সহায়তা দিতে হবে। এতে করে তারা যখন একবার দেখবে ওই দেশের চেয়ে তারা এখানে নিরাপদে আছে তখন তারা ফেরত যেতে চাইবে না। ফেরত না গেলে তাদেরকে জোর করে পাঠানো যাবে না।
বিশস্ত সূত্র আরো জানায়, রোহিঙ্গারা এখন আশ্রয় পেয়েছে। খাবার পাচ্ছে। কিন্তু এই সংকট দীর্ঘদিন থাকলে তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করবে। এখানে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করবে। কেউ কেউ নানা উপায়ে ভোটার আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নেওযার চেষ্টা করবে। এতে করে সমস্যা হবে। এর আগেও অনেকেই তা করেছে। কেউ যাতে সুবিধা না নিয়ে তাদেরকে এই ধরণের কোন পরিচয়পত্র না দেয় সেটি দেখতে হবে।
বিশেষ একটি বাহিনীর সূত্র জানায়, সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে এই সব রোহিঙ্গা জীবীকা নির্বাহ করার জন্য সহজ পথ হিসাবে মাদক, ইয়াবা, অস্ত্র ও অবৈধ পন্য আনা নেওয়ার কাজে সম্পৃক্ত হতে পারে। তাতে করে মাদক ও ইয়াবার বিস্তার হবে। দেশে মেধা নষ্ট হবে। অস্ত্র প্রবেশ করলে সংকট বাড়বে। অপরাধ বাড়বে। সেই সঙ্গে অবৈধ পন্য আনলে বানিজ্যক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সূত্র জানায়, এইসব সমস্যার পাশাপাশি তারা যে কোন সময়ে এখানেও বিদ্রোহ করতে পারে তবে কোনভাবেই তাদেরকে সেইসব কাজ করতে দেওয়া হবে না। এই জন্য বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। আগামী দিনে এই তৎপরতা বাড়াতে পারে। প্রয়োজনে সেনবাহিনীকে দায়িত্ব দিলে তারা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। সেনাবাহিনী এই সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। সরকার এই ব্যাপারে নির্দেশনা দিলে সেই অনুযায়ী কাজ করবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















