ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ‘ওবামা আমলের চেয়ে অনেক ভালো হবে’: ট্রাম্প মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ

রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার নতুন আশ্রয় শিবির তৈরি করবে বাংলাদেশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরো নতুন ১৪ হাজার আশ্রয় শিবির তৈরি করবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর জানায় সংবাদ সংস্থা এএফপি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের পাশে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পাশে ২ হাজার একর (৮০০ হেক্টর) জমিতে একটি বিশাল ক্যাম্প তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ কামাল এএফপিকে জানান, ৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ১৪ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ দিনের মধ্যে এসব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি আশ্রয় শিবিরে ছয়টি পরিবারের জন্য। সেখানে সঠিক সেনিটেশন, পানি ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে।

সহিংসতায় যেসব রোহিঙ্গা শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিছে অথবা একাকি বাংলাদেশি ঠাঁই নিয়েছে সরকারি সামাজিক কল্যাণ সংস্থা তাদের দেখাশুনা করবে বলেও জানান শাহ কামাল। এদিকে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ ঠাঁই নিয়েছে।

রোহিঙ্গা গোষ্ঠী বাংলাদেশে আসার পথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো ঘটনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন ধরে হেঁটে আসা বেশির ভাগ রোহিঙ্গা এখন অসুস্থ, অবিশ্রান্ত। তারা এখন খাদ্য, পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মুখিয়ে আছে জানায় জাতিসংঘ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার নতুন আশ্রয় শিবির তৈরি করবে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৯:১৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আরো নতুন ১৪ হাজার আশ্রয় শিবির তৈরি করবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর জানায় সংবাদ সংস্থা এএফপি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, মিয়ানমার সীমান্তের পাশে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পাশে ২ হাজার একর (৮০০ হেক্টর) জমিতে একটি বিশাল ক্যাম্প তৈরি করা হবে।

বাংলাদেশের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ কামাল এএফপিকে জানান, ৪ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য ১৪ হাজার আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ দিনের মধ্যে এসব আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি আশ্রয় শিবিরে ছয়টি পরিবারের জন্য। সেখানে সঠিক সেনিটেশন, পানি ও চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এজন্য আমাদের জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে।

সহিংসতায় যেসব রোহিঙ্গা শিশু তাদের বাবা-মাকে হারিছে অথবা একাকি বাংলাদেশি ঠাঁই নিয়েছে সরকারি সামাজিক কল্যাণ সংস্থা তাদের দেখাশুনা করবে বলেও জানান শাহ কামাল। এদিকে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ ঠাঁই নিয়েছে।

রোহিঙ্গা গোষ্ঠী বাংলাদেশে আসার পথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো ঘটনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন ধরে হেঁটে আসা বেশির ভাগ রোহিঙ্গা এখন অসুস্থ, অবিশ্রান্ত। তারা এখন খাদ্য, পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মুখিয়ে আছে জানায় জাতিসংঘ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।