ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

আশা করি মিয়ানমারের চেতনা উদয় হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের হত্যা ও তাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আশা করি মিয়ানমারের চেতনা উদয় হবে। তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ব্যবস্থা করবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, খাদ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না। চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিতা দেখি না। কারা এ নিয়ে খেলছে? ’৭৪ সালের খাদ্য সচিবকে কিন্তু জিয়াউর রহমান পরে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সেই সময়ে মঙ্গার সঙ্গে এই মন্ত্রী বানানোর যোগসাজশ আছে। বিষয়টি মনে রাখতে হবে। চাল মজুদ রেখে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে কিনা তা তল্লাশি করে দেখা হবে।

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার তাদের দেশের মানুষদের ওপর অত্যাচার করছে। কিছু বিদ্রোহী ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা সেই দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করেছে। অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে। সে ঘটনার পরই সেখানে সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ, অত্যাচার, নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু নিরীহ মানুষের ওপর কেন এমন অত্যাচার করা হবে?

তিনি আরও বলেন, আমি দেখেছি কী করুণ অবস্থা। শিশু, নারী বয়োবৃদ্ধ বেশি এসেছে। চাকরিজীবী ভালো পরিবারের লোকজনও চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। ’৭১ সালে হানাদার বাহিনী যেভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছিল ঠিক সেভাবেই তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই দেখেছি দিনের পর দিন পাকহানাদার আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে। বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। দূর থেকে এখনও দেখা যায় মিয়ানমারে আগুন জ্বলছে। এরা আমাদের কাছে বিরাট একটি বোঝা ঠিকই; কিন্তু মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছি। তাদের নির্যাতনের কথা শুনলে কোনো মানুষই সহ্য করতে পারবে না। তাদের কোথায় কীভাবে রাখব জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানকার সরকার কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তা জানি না। তবে যারাই বিদ্রোহী কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা উচিত। নিরীহ মানুষ কী করেছে? আজ বিশ্ব বিবেক জেগে উঠেছে। ইতোমধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সু চিকে ফোন দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বলেছেন। জাতিসংঘও তাদের নাগরিক ফিরিয়ে নিতে বলেছে। রিলিফ তদারকির জন্য সোনবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছি। যারাই ত্রাণ নিয়ে যাবে তারা ডিসির কাছে জমা দেবে। যদি প্রয়োজন হয় আমাদের খাবার তাদের সঙ্গে ভাগ করে খাব। মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গাদের নাফ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগরে ফেলতে পারি না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আশা করি মিয়ানমারের চেতনা উদয় হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের হত্যা ও তাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আশা করি মিয়ানমারের চেতনা উদয় হবে। তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ব্যবস্থা করবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, খাদ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না। চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিতা দেখি না। কারা এ নিয়ে খেলছে? ’৭৪ সালের খাদ্য সচিবকে কিন্তু জিয়াউর রহমান পরে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সেই সময়ে মঙ্গার সঙ্গে এই মন্ত্রী বানানোর যোগসাজশ আছে। বিষয়টি মনে রাখতে হবে। চাল মজুদ রেখে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে কিনা তা তল্লাশি করে দেখা হবে।

রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার তাদের দেশের মানুষদের ওপর অত্যাচার করছে। কিছু বিদ্রোহী ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা সেই দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করেছে। অস্ত্র কেড়ে নিয়েছে। সে ঘটনার পরই সেখানে সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ, অত্যাচার, নির্যাতন চালাচ্ছে। কিন্তু নিরীহ মানুষের ওপর কেন এমন অত্যাচার করা হবে?

তিনি আরও বলেন, আমি দেখেছি কী করুণ অবস্থা। শিশু, নারী বয়োবৃদ্ধ বেশি এসেছে। চাকরিজীবী ভালো পরিবারের লোকজনও চলে আসতে বাধ্য হয়েছে। ’৭১ সালে হানাদার বাহিনী যেভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছিল ঠিক সেভাবেই তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই দেখেছি দিনের পর দিন পাকহানাদার আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে। বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। দূর থেকে এখনও দেখা যায় মিয়ানমারে আগুন জ্বলছে। এরা আমাদের কাছে বিরাট একটি বোঝা ঠিকই; কিন্তু মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিতে বাধ্য হয়েছি। তাদের নির্যাতনের কথা শুনলে কোনো মানুষই সহ্য করতে পারবে না। তাদের কোথায় কীভাবে রাখব জানি না।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানকার সরকার কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তা জানি না। তবে যারাই বিদ্রোহী কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করা উচিত। নিরীহ মানুষ কী করেছে? আজ বিশ্ব বিবেক জেগে উঠেছে। ইতোমধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সু চিকে ফোন দিয়ে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বলেছেন। জাতিসংঘও তাদের নাগরিক ফিরিয়ে নিতে বলেছে। রিলিফ তদারকির জন্য সোনবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছি। যারাই ত্রাণ নিয়ে যাবে তারা ডিসির কাছে জমা দেবে। যদি প্রয়োজন হয় আমাদের খাবার তাদের সঙ্গে ভাগ করে খাব। মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গাদের নাফ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগরে ফেলতে পারি না।