ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্রি ইন্টারনেট পাবে সবাই: মাহদী আমিন ‘আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না’:জামায়াত আমীর শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর দেশে পৌঁছেছে এক লাখ ৪০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট পদত্যাগের পরও সরকারি বাসায় থাকা নিয়ে যা জানালেন আসিফ মাহমুদ অবশেষে ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল অসৎ কাজ থেকে বিরত থেকেছি, তাই আমার বুকের জোড় বেশি: মির্জা ফখরুল নির্বাচন ও গণভোটে কঠোর নিরাপত্তায়, সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে ওয়ারীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের

‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক মহামারি চলছে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অত্যন্ত দুঃসময়’ পার করার কথা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা কঠিন দুঃসময় পার করছি। কথা বলা যায় না। কোনো সমাবেশ-মিটিং করা যায় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। কথা বললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে দিবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গার্ডেন রোড এলাকায় ২৬নং ওয়ার্ডে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায়দের শীতবস্ত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভীর দাবি দেশে একদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহামারি চলছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘জনগণের পাশে থেকে আমাদেরকে আরও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। কারও সন্তানের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় যে কেউ গুম হতে পারে, যেকোনো সময় যে কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যা হতে পারে। একটা ছেলে মিছিল করলে তাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করবে কেউ কিছুই বলবে না। সীমান্তে আমাদের লোক মারা যায় অথচ আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন আমাদের দেশের দুষ্টু ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে যায় বলে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে।‘

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষকেই ধিক্কার দিচ্ছে অথচ যারা গুলি করে মারে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। এই নতজানু সরকার ক্ষমতায় থাকলে আমাদের স্বাধীনতা থাকবে না, সার্বভৌমত্ব থাকবে না আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃসময় পার করছি আমরা। কঠিন দুঃসময়। কথা বলা যায় না। কোনো সমাবেশ-মিটিং করা যায় না। একদিকে মিথ্যা মামলা গ্রেপ্তার, আর না হলে হামলা, এর মধ্যেই বিএনপি নেতাকর্মীদের জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। তারপরেও কিন্তু নেতাকর্মীরা বসে নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে আছে। অসহায় মানুষের পাশে আছে নিরন্ন এবং আর্তমানবতার সেবায় তারা নিয়োজিত আছেন।’

রিজভী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে গোটা জাতি থর থর করে কাঁপছে। হাসপাতালে সিট নাই, অক্সিজেন নাই। আইসিইউতে সিট নাই। মফস্বলগুলোতে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থা। কারও যদি করোনা সন্দেহ হয়, সেটি টেস্ট করে রেজাল্ট বের করতে সময় লাগে ৪৮ ঘণ্টা। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রোগীর জন্য যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার সেটার কোনো ব্যবস্থা নাই। আজকে ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, মানুষ কাতরাচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে, হাসপাতাল থেকে ফিরে আসছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তারপরে ধুঁকতে ধুঁকতে জীবন চলে যাচ্ছে। ৭০ শতাংশ হাসপাতালে অক্সিজেনের কোনো সুবিধা নেই। করোনা রোগীদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে অক্সিজেন। মানুষ কেন মারা যাবে না, প্রতিদিন শুধু মৃত্যুর মিছিল, এরকম একটা দুঃসময়ের মধ্যে আমাদেরকে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসকে আমরা রাজনীতিকীকরণ করতে চাইনি। আমরা যেটা চাই সেটা গোটা জাতির অর্জন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পশ্চিমাদের কাছ থেকে এদেশের দামাল ছেলেরা যুদ্ধ করে জীবন দিয়ে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। এটা কোনো দলেরও একক কৃতিত্ব নয়, কোনো ব্যক্তির একক কৃতিত্ব নয়।

বিএনপি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছোট করছে না দাবি করে রিজভী বলেন, কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) যখন ওই ক্রান্তিকালে ওই দুঃসময়ে যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই মেজর জিয়াউর রহমানকে ছোট করেন, তখন আমরা ব্যথিত হই, জনগণ ব্যথিত হয়। আমরা আজকে সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, আমাদের আদর্শ হচ্ছে অসহায় নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক মহামারি চলছে’

আপডেট সময় ০৪:১৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অত্যন্ত দুঃসময়’ পার করার কথা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা কঠিন দুঃসময় পার করছি। কথা বলা যায় না। কোনো সমাবেশ-মিটিং করা যায় না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না। কথা বললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে দিবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গার্ডেন রোড এলাকায় ২৬নং ওয়ার্ডে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায়দের শীতবস্ত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভীর দাবি দেশে একদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহামারি চলছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘জনগণের পাশে থেকে আমাদেরকে আরও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। কারও সন্তানের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় যে কেউ গুম হতে পারে, যেকোনো সময় যে কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যা হতে পারে। একটা ছেলে মিছিল করলে তাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করবে কেউ কিছুই বলবে না। সীমান্তে আমাদের লোক মারা যায় অথচ আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন আমাদের দেশের দুষ্টু ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে যায় বলে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে।‘

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষকেই ধিক্কার দিচ্ছে অথচ যারা গুলি করে মারে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। এই নতজানু সরকার ক্ষমতায় থাকলে আমাদের স্বাধীনতা থাকবে না, সার্বভৌমত্ব থাকবে না আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না।’

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃসময় পার করছি আমরা। কঠিন দুঃসময়। কথা বলা যায় না। কোনো সমাবেশ-মিটিং করা যায় না। একদিকে মিথ্যা মামলা গ্রেপ্তার, আর না হলে হামলা, এর মধ্যেই বিএনপি নেতাকর্মীদের জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। তারপরেও কিন্তু নেতাকর্মীরা বসে নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষের পাশে আছে। অসহায় মানুষের পাশে আছে নিরন্ন এবং আর্তমানবতার সেবায় তারা নিয়োজিত আছেন।’

রিজভী বলেন, ‘করোনাভাইরাসে গোটা জাতি থর থর করে কাঁপছে। হাসপাতালে সিট নাই, অক্সিজেন নাই। আইসিইউতে সিট নাই। মফস্বলগুলোতে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থা। কারও যদি করোনা সন্দেহ হয়, সেটি টেস্ট করে রেজাল্ট বের করতে সময় লাগে ৪৮ ঘণ্টা। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রোগীর জন্য যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার সেটার কোনো ব্যবস্থা নাই। আজকে ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, মানুষ কাতরাচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে, হাসপাতাল থেকে ফিরে আসছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তারপরে ধুঁকতে ধুঁকতে জীবন চলে যাচ্ছে। ৭০ শতাংশ হাসপাতালে অক্সিজেনের কোনো সুবিধা নেই। করোনা রোগীদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে অক্সিজেন। মানুষ কেন মারা যাবে না, প্রতিদিন শুধু মৃত্যুর মিছিল, এরকম একটা দুঃসময়ের মধ্যে আমাদেরকে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসকে আমরা রাজনীতিকীকরণ করতে চাইনি। আমরা যেটা চাই সেটা গোটা জাতির অর্জন। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পশ্চিমাদের কাছ থেকে এদেশের দামাল ছেলেরা যুদ্ধ করে জীবন দিয়ে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। এটা কোনো দলেরও একক কৃতিত্ব নয়, কোনো ব্যক্তির একক কৃতিত্ব নয়।

বিএনপি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছোট করছে না দাবি করে রিজভী বলেন, কিন্তু তারা (আওয়ামী লীগ) যখন ওই ক্রান্তিকালে ওই দুঃসময়ে যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেই মেজর জিয়াউর রহমানকে ছোট করেন, তখন আমরা ব্যথিত হই, জনগণ ব্যথিত হয়। আমরা আজকে সেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, আমাদের আদর্শ হচ্ছে অসহায় নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির প্রমুখ।