ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ, যা সংস্থাটিকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করলে এবং প্রচলিত আর্থিক নিয়মে আমূল পরিবর্তন না আনলে বিশ্ব সংস্থাটি অচিরেই অচল হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তহবিলের অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এখনই বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় আর কোনো উপায় থাকবে না। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো কার্যক্রম সচল রাখার মতো নগদ অর্থ বা তারল্য এখন সংস্থার হাতে নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া জমেছে।

এই আর্থিক সংকটের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ চালুর বিষয়টি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। মানবাধিকার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বড় রাষ্ট্রগুলোর এমন অনীহা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও ঋণের সক্ষমতা বিবেচনা করে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। মহাসচিব চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।

তিনি একটি প্রাচীন নিয়মের সমালোচনা করে বলেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা বর্তমানে অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সংস্থাকে এক অদ্ভুত চক্রে আটকে ফেলেছে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের চাঁদা পূর্ণ পরিশোধ করেছে, যা বিশ্ব সংস্থার ভবিষ্যৎকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের

আপডেট সময় ১০:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ, যা সংস্থাটিকে চূড়ান্ত ধসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করলে এবং প্রচলিত আর্থিক নিয়মে আমূল পরিবর্তন না আনলে বিশ্ব সংস্থাটি অচিরেই অচল হয়ে পড়বে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তহবিলের অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এখনই বকেয়া পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় আর কোনো উপায় থাকবে না। তিনি জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো কার্যক্রম সচল রাখার মতো নগদ অর্থ বা তারল্য এখন সংস্থার হাতে নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া জমেছে।

এই আর্থিক সংকটের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করা হলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ চালুর বিষয়টি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। মানবাধিকার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বড় রাষ্ট্রগুলোর এমন অনীহা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও ঋণের সক্ষমতা বিবেচনা করে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। মহাসচিব চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন, জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।

তিনি একটি প্রাচীন নিয়মের সমালোচনা করে বলেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা বর্তমানে অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সংস্থাকে এক অদ্ভুত চক্রে আটকে ফেলেছে। ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের চাঁদা পূর্ণ পরিশোধ করেছে, যা বিশ্ব সংস্থার ভবিষ্যৎকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।