ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা ‘মন্ত্রী হলে পরে হব, নির্বাচন ছাড়ব না’ জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল: খন্দকার মোশাররফ ৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে নতুন বার্তা পিসিবির ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন

রোহিঙ্গা নির্যাতনের পেছনে জমি দখল ও তেল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের উৎখাতের ঘটনা নতুন নয়। চার দশক ধরে চলছে এই উৎখাত অভিযান। ভিন্ন ধর্মালম্বী ও জনগোষ্ঠীর মূলস্রোতের অংশ না হওয়ার কারণেই কী তাদেরকে উৎখাত? নাকি জমি দখল ও তেল-অর্থনীতির মতো বিষয় রয়েছে এর পেছনে?

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্য মিয়ানমারের গরীর রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি। এ রাজ্যের মুসলিম রোহিঙ্গারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। রাজ্যের বাসিন্দাদের বরাবরই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে দেশটির সরকার। আর সময় সুযোগ বুঝে নানা অজুহাতে তাদের করছে বিতাড়ন। তবে মূল বিষয় আড়ালে রেখে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ‘রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম কোয়ার্জ মিডিয়ার ভারত সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নির্মূলের পেছনের ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জাতিগত নিধনই মূল লক্ষ্য নয়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে রাজনৈতিক ও অর্থনীতির বিষয়ও আছে।

এতে বলা হয়, শুধু রাখাইন নয়, দেশটির কচিন, শান, কারেন, চিন ও মন রাজ্য থেকেও সংখ্যালঘু তাড়ানো হচ্ছে। আর এসবে মূল কারণ ওই অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের জমি দখল। এখানে উল্লেখ যে, মিয়ানমারে জমি দখল ও জমি বাজেয়াপ্তের ঘটনা নতুন নয়। নব্বই এর দশক থেকে দেশটির সামরিক জান্তা কোন ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোর করে সাধারণ মানুষের জমি দখল করছে।

আগে সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে শুধু বলা হতো, ‘উন্নয়নের জন্য জমি নেওয়া হচ্ছে।’ পরে দেখা গেছে, ওই জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে সামরিক ঘাঁটি। প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান চলে সেখানে। অথবা গড়ে তোলা হয় বড় বড় কৃষি প্রকল্প ও পর্যটন কেন্দ্র। এ ধরণের উন্নয়নের অজুহাতে হাজার হাজার মানুষ মিয়ানমার ছেড়ে পাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

২০১১ সালে মিয়ানমারে ফের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ সামনে আসে। দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। এর কিছুদিন পর ২০১২ সালে দেশটির রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। সেসময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়। এরপরই সরকার দেশটিতে নতুন ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করে।

এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ ভারত ও চীনের নজর মিয়ানমানের দিকে। ‘৯০ এর দশকে চীন দেশটিতে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। ২০১৩ সালে চীনের কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিয়ারমারে তেল ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বিনিয়োগ করে। অন্যদিকে রাখাইন রাজ্য ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ার এর প্রতি ভারতেরও দুর্বলতা রয়েছে। তারা রাখাইনকে পরোক্ষভাবে তাদের দখলে রাখতে চায়।

এদিকে মিয়ানমারে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা করতে ভারত এরইমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে; যার মাধ্যমে ভারত মিজোরামের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। তাছাড়া মিয়ানমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত ও চীনকে পাশে চায়। ফলে রাখাইন রাজ্য জনশূণ্য করা দেশটির সরকারের অদৃশ্য এজেন্ডা হয়ে উঠেছে। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। কেননা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা বানের পানির মতো ঢুকছে বাংলাদেশে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট

রোহিঙ্গা নির্যাতনের পেছনে জমি দখল ও তেল

আপডেট সময় ০২:৩২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের উৎখাতের ঘটনা নতুন নয়। চার দশক ধরে চলছে এই উৎখাত অভিযান। ভিন্ন ধর্মালম্বী ও জনগোষ্ঠীর মূলস্রোতের অংশ না হওয়ার কারণেই কী তাদেরকে উৎখাত? নাকি জমি দখল ও তেল-অর্থনীতির মতো বিষয় রয়েছে এর পেছনে?

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্য মিয়ানমারের গরীর রাজ্যগুলোর মধ্যে একটি। এ রাজ্যের মুসলিম রোহিঙ্গারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। রাজ্যের বাসিন্দাদের বরাবরই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে দেশটির সরকার। আর সময় সুযোগ বুঝে নানা অজুহাতে তাদের করছে বিতাড়ন। তবে মূল বিষয় আড়ালে রেখে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ‘রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম কোয়ার্জ মিডিয়ার ভারত সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নির্মূলের পেছনের ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, জাতিগত নিধনই মূল লক্ষ্য নয়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে রাজনৈতিক ও অর্থনীতির বিষয়ও আছে।

এতে বলা হয়, শুধু রাখাইন নয়, দেশটির কচিন, শান, কারেন, চিন ও মন রাজ্য থেকেও সংখ্যালঘু তাড়ানো হচ্ছে। আর এসবে মূল কারণ ওই অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের জমি দখল। এখানে উল্লেখ যে, মিয়ানমারে জমি দখল ও জমি বাজেয়াপ্তের ঘটনা নতুন নয়। নব্বই এর দশক থেকে দেশটির সামরিক জান্তা কোন ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোর করে সাধারণ মানুষের জমি দখল করছে।

আগে সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে শুধু বলা হতো, ‘উন্নয়নের জন্য জমি নেওয়া হচ্ছে।’ পরে দেখা গেছে, ওই জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে সামরিক ঘাঁটি। প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান চলে সেখানে। অথবা গড়ে তোলা হয় বড় বড় কৃষি প্রকল্প ও পর্যটন কেন্দ্র। এ ধরণের উন্নয়নের অজুহাতে হাজার হাজার মানুষ মিয়ানমার ছেড়ে পাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

২০১১ সালে মিয়ানমারে ফের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ সামনে আসে। দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। এর কিছুদিন পর ২০১২ সালে দেশটির রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। সেসময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়। এরপরই সরকার দেশটিতে নতুন ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন করে।

এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ ভারত ও চীনের নজর মিয়ানমানের দিকে। ‘৯০ এর দশকে চীন দেশটিতে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। ২০১৩ সালে চীনের কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিয়ারমারে তেল ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বিনিয়োগ করে। অন্যদিকে রাখাইন রাজ্য ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ার এর প্রতি ভারতেরও দুর্বলতা রয়েছে। তারা রাখাইনকে পরোক্ষভাবে তাদের দখলে রাখতে চায়।

এদিকে মিয়ানমারে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা করতে ভারত এরইমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে; যার মাধ্যমে ভারত মিজোরামের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে। তাছাড়া মিয়ানমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভারত ও চীনকে পাশে চায়। ফলে রাখাইন রাজ্য জনশূণ্য করা দেশটির সরকারের অদৃশ্য এজেন্ডা হয়ে উঠেছে। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। কেননা নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে রোহিঙ্গারা বানের পানির মতো ঢুকছে বাংলাদেশে।