ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

মিয়ানমারের প্রতি খুবই বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই বিরক্ত’ বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মার্কিন দূত নিকি হ্যালে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে দেওয়া এক বিবৃতিতে হ্যালে জানান, দিন দিন রোহিঙ্গাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্ষুব্ধ’। নিরাপত্তা অভিযান চালানোর সময় এই জনগোষ্ঠীর সদস্যের প্রতি সম্মানজনক ব্যবহারের আহ্বানও জানান মার্কিন এই দূত।

বিবৃতিতে হ্যালে আরো জানান, এ ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন চলতে থাকলে সহিংসতা বাড়তে থাকবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাখাইন প্রদেশের সব জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলার সুপারিশ করেন তিনি।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭০ জন রোহিঙ্গা, ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দুজন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৪ জন সাধারণ নাগরিক।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা পাড়ি জমাতে শুরু করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থানের সুযোগ পেলেও অনেকেই আবার অবস্থান করছেন দুই দেশের সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গতকাল শুক্রবার সর্বশেষ জানিয়েছে, নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা বেড়ে তিন লাখের ওপরে যাবে। অর্থাৎ গত ১১ মাসে সাড়ে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে। এই সময়ে মিয়ানমারে সহিংসতায় মারা গেছেন প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

মিয়ানমারের প্রতি খুবই বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১২:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই বিরক্ত’ বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মার্কিন দূত নিকি হ্যালে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে দেওয়া এক বিবৃতিতে হ্যালে জানান, দিন দিন রোহিঙ্গাদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্ষুব্ধ’। নিরাপত্তা অভিযান চালানোর সময় এই জনগোষ্ঠীর সদস্যের প্রতি সম্মানজনক ব্যবহারের আহ্বানও জানান মার্কিন এই দূত।

বিবৃতিতে হ্যালে আরো জানান, এ ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন চলতে থাকলে সহিংসতা বাড়তে থাকবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাখাইন প্রদেশের সব জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলার সুপারিশ করেন তিনি।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইন রাজ্যে একসঙ্গে ২৪টি পুলিশ ক্যাম্প ও একটি সেনা আবাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গাদের’ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে।

মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে জাতিসংঘ গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, মিয়ানমারে সহিংসতা শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭০ জন রোহিঙ্গা, ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, দুজন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৪ জন সাধারণ নাগরিক।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা পাড়ি জমাতে শুরু করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থানের সুযোগ পেলেও অনেকেই আবার অবস্থান করছেন দুই দেশের সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গতকাল শুক্রবার সর্বশেষ জানিয়েছে, নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর দুই লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা বেড়ে তিন লাখের ওপরে যাবে। অর্থাৎ গত ১১ মাসে সাড়ে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে। এই সময়ে মিয়ানমারে সহিংসতায় মারা গেছেন প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা।