ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

টিউশন ফিসহ ৩ খাতে অর্থ নিতে পারবে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন অভিভাবকদের ছাড় দিয়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, অত্যাবশকীয় বেসরকারি কর্মচারী ও কম্পিউটার (আইসিটি) ফি ছাড়া অন্য খাতে অর্থ নিতে পারবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার ও ম্যাগাজিন বাবদ কোনো ফি নেবে না বা না নিলে তা ফেরত দেবে- এমন নির্দেশনা দিয়ে সোমবার (২৩ নভেম্বর) আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। তবে এরই মধ্যে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসের পাশাপাশি বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করলেও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা ভালোভাবে করতে পারেনি। একইভাবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এসব অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে, কিছু শিক্ষার্থী পারেনি। সার্বিক বিবেচনায় আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

‘তবে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিয়ে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিভাবকদের মতদ্বৈততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু অভিভাবক বলছেন একদিকে স্কুল বন্ধ ছিল আর অন্যদিকে এই করোনাপীড়িত সময়ে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, অতএব তাদের পক্ষে টিউশন ফি দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে; উপরন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অত্যাবশকীয় খাত ও স্কুল রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে তাদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেই হয়। ’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমতাবস্থায় আমাদের যেমন অভিভাবকদের অসুবিধার কথা ভাবতে হবে অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে না যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বছরের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’টি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে আদায় করা সব খাতের অর্থ ব্যয় হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘পূর্বাপর বিষয়গুলো বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফিসহ অত্যাবশকীয় বেসরকারি কর্মচারী এবং কম্পিউটার (আইসিটি) বাবদ ফি গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার ও ম্যাগাজিন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করবে না বা করা হলে তা ফেরত দেবে। এছাড়াও অন্য কোনো ফি যদি অব্যয়িত থাকে তা একইভাবে ফেরত দেবে। তবে যদি কোনো অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে পড়েন, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নেবেন। এখানে উল্লেখ্য, কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কোনো কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে। ’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের শুরুতে যদি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন কোনো ফি যেমন- টিফিন, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ফি গ্রহণ করবে না যা ওই নির্দিষ্ট খাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারবে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আগের মতো সব ধরনের যৌক্তিক ফি নেওয়া যাবে।

করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

এরআগে গত ১৮ নভেম্বর অধিদপ্তর বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোকে তাদের শিক্ষার্থীদের শুধুই টিউশন ফি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়।

তবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না বা গ্রহণ করলেও তা ফেরত দিতে বলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

টিউশন ফিসহ ৩ খাতে অর্থ নিতে পারবে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আপডেট সময় ০৭:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন অভিভাবকদের ছাড় দিয়ে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, অত্যাবশকীয় বেসরকারি কর্মচারী ও কম্পিউটার (আইসিটি) ফি ছাড়া অন্য খাতে অর্থ নিতে পারবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার ও ম্যাগাজিন বাবদ কোনো ফি নেবে না বা না নিলে তা ফেরত দেবে- এমন নির্দেশনা দিয়ে সোমবার (২৩ নভেম্বর) আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। তবে এরই মধ্যে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ক্লাসের পাশাপাশি বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করলেও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা ভালোভাবে করতে পারেনি। একইভাবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এসব অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে, কিছু শিক্ষার্থী পারেনি। সার্বিক বিবেচনায় আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

‘তবে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিয়ে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিভাবকদের মতদ্বৈততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু অভিভাবক বলছেন একদিকে স্কুল বন্ধ ছিল আর অন্যদিকে এই করোনাপীড়িত সময়ে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, অতএব তাদের পক্ষে টিউশন ফি দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে তারা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে; উপরন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অত্যাবশকীয় খাত ও স্কুল রক্ষণাবেক্ষণ খাতে প্রতি মাসে তাদের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেই হয়। ’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমতাবস্থায় আমাদের যেমন অভিভাবকদের অসুবিধার কথা ভাবতে হবে অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্ধ বা অকার্যকর হয়ে না যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বছরের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’টি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিউশন ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে আদায় করা সব খাতের অর্থ ব্যয় হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘পূর্বাপর বিষয়গুলো বিবেচনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফিসহ অত্যাবশকীয় বেসরকারি কর্মচারী এবং কম্পিউটার (আইসিটি) বাবদ ফি গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার ও ম্যাগাজিন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করবে না বা করা হলে তা ফেরত দেবে। এছাড়াও অন্য কোনো ফি যদি অব্যয়িত থাকে তা একইভাবে ফেরত দেবে। তবে যদি কোনো অভিভাবক চরম আর্থিক সংকটে পড়েন, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নেবেন। এখানে উল্লেখ্য, কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন কোনো কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যত্নশীল হতে হবে। ’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের শুরুতে যদি কোভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন কোনো ফি যেমন- টিফিন, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ফি গ্রহণ করবে না যা ওই নির্দিষ্ট খাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতে পারবে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আগের মতো সব ধরনের যৌক্তিক ফি নেওয়া যাবে।

করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।

এরআগে গত ১৮ নভেম্বর অধিদপ্তর বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোকে তাদের শিক্ষার্থীদের শুধুই টিউশন ফি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়।

তবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করা যাবে না বা গ্রহণ করলেও তা ফেরত দিতে বলেছে।