ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী ভাতার আওতায় এলেন আরও ১৭১ খেলোয়াড় তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ বাড়লেও আমরা সামান্য বাড়িয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: গোলাম পরওয়ার ইসরাইল বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে: ট্রাম্প মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান

মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া স্থগিত করতে ১৫৭ ব্রিটিশ এমপির চিঠি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের হাতে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১৫৭ জন সংসদ সদস্য। এক চিঠির মাধ্যমে তারা মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া স্থগিত করতেও আহ্বান জানান।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে বার্মার দ্য ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চিকে সতর্ক করেছেন যে জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়ন দেশটির খ্যাতিকে কলঙ্কিত করেছে।

পার্লামেন্ট সদস্যরা জনসনের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানায় এবং পাশাপাশি তরা বার্মিজ সামরিক বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ স্থগিত করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানায়।

গত বছর বার্মিজ সামরিক বাহিনীর পেছনে প্রশিক্ষণ ব্যয় বাবদ যুক্তরাজ্য ৩,০৫,০০০ পাউন্ড খরচ করেছে।

মায়ানমারের রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতায় দেশটির সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে গলা কেটে হত্যা, ধর্ষণ এবং শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করার অভিযোগ ওঠেছে।

যুক্তরাজ্য যুদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রদান করে না বরং গণতন্ত্র, নেতৃত্ব এবং ইংরেজী ভাষায় সৈন্যদের প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করে।

গত বছরের নভেম্বরে তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাইক পেনিং বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযানে জড়িত কোনো সৈন্যকে যুক্তরাজ্য কর্তৃক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কিনা সরকার সেসম্পর্কে অবগত নয় এবং প্রশিক্ষণ মানবাধিকারের উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রেখেছে কর্মকর্তারা তা মূল্যায়ন করে নি।

মায়ানমারের সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত দুই সপ্তাহে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লেবার পার্টির এমপি রুশনার আলীর নেতৃত্বে পার্লামেন্ট সদস্যরা লিখিত চিঠিতে বরিস জনসনকে বলেন, ‘জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন এবং রোহিঙ্গা সংগঠনসমূহের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা মায়ানমারের ইতিহাসের জগন্যতম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছি।’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী মায়ানমারের গণতন্ত্রের জন্য গঠিত সর্বদলীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান।

এতে বলা হয়, ‘চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মায়ানমার সরকার স্বীকার করেছে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য রোহিঙ্গা সূত্রগুলোর মতে এই সংখ্যা ২ হাজার থেকে ৩ হাজারের মধ্যে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করছে, তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে শুয়ে থাকতে তাদের বাধ্য করার পর মাথার পিছনে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এছাড়াও, তাদের শিরশ্ছেদ, শ্বাসরোধ করে হত্যার পাশাপাশি ঘরের ভিতর আটকে রেখে তারপর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তারা শিশুদেরকেও ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে হত্যা করছে।’

এছাড়াও, তারা মায়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হেইঙ্গকে চাপ প্রয়োগ করতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জনসনের প্রতি আহ্বান জানায় এবং বলেন যে, ‘বার্মিজ সামরিক বাহিনীর প্রতি সরকারের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী

মায়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া স্থগিত করতে ১৫৭ ব্রিটিশ এমপির চিঠি

আপডেট সময় ০৯:০৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের হাতে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা-নির্যাতনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ১৫৭ জন সংসদ সদস্য। এক চিঠির মাধ্যমে তারা মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া স্থগিত করতেও আহ্বান জানান।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে বার্মার দ্য ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চিকে সতর্ক করেছেন যে জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দমন-পীড়ন দেশটির খ্যাতিকে কলঙ্কিত করেছে।

পার্লামেন্ট সদস্যরা জনসনের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানায় এবং পাশাপাশি তরা বার্মিজ সামরিক বাহিনীকে ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ স্থগিত করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানায়।

গত বছর বার্মিজ সামরিক বাহিনীর পেছনে প্রশিক্ষণ ব্যয় বাবদ যুক্তরাজ্য ৩,০৫,০০০ পাউন্ড খরচ করেছে।

মায়ানমারের রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতায় দেশটির সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে গলা কেটে হত্যা, ধর্ষণ এবং শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করার অভিযোগ ওঠেছে।

যুক্তরাজ্য যুদ্ধ প্রশিক্ষণ প্রদান করে না বরং গণতন্ত্র, নেতৃত্ব এবং ইংরেজী ভাষায় সৈন্যদের প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করে।

গত বছরের নভেম্বরে তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাইক পেনিং বলেছিলেন যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযানে জড়িত কোনো সৈন্যকে যুক্তরাজ্য কর্তৃক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কিনা সরকার সেসম্পর্কে অবগত নয় এবং প্রশিক্ষণ মানবাধিকারের উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রেখেছে কর্মকর্তারা তা মূল্যায়ন করে নি।

মায়ানমারের সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচতে গত দুই সপ্তাহে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

লেবার পার্টির এমপি রুশনার আলীর নেতৃত্বে পার্লামেন্ট সদস্যরা লিখিত চিঠিতে বরিস জনসনকে বলেন, ‘জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন এবং রোহিঙ্গা সংগঠনসমূহের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা মায়ানমারের ইতিহাসের জগন্যতম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছি।’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী মায়ানমারের গণতন্ত্রের জন্য গঠিত সর্বদলীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান।

এতে বলা হয়, ‘চার শতাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মায়ানমার সরকার স্বীকার করেছে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য রোহিঙ্গা সূত্রগুলোর মতে এই সংখ্যা ২ হাজার থেকে ৩ হাজারের মধ্যে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করছে, তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে শুয়ে থাকতে তাদের বাধ্য করার পর মাথার পিছনে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এছাড়াও, তাদের শিরশ্ছেদ, শ্বাসরোধ করে হত্যার পাশাপাশি ঘরের ভিতর আটকে রেখে তারপর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তারা শিশুদেরকেও ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি করে হত্যা করছে।’

এছাড়াও, তারা মায়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হেইঙ্গকে চাপ প্রয়োগ করতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জনসনের প্রতি আহ্বান জানায় এবং বলেন যে, ‘বার্মিজ সামরিক বাহিনীর প্রতি সরকারের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই পর্যালোচনা করা উচিত’।